পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযার ভঙ্গের কারণ (১)
, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَنْ كَانَ مَرِيْضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَ ۗ يُرِيْدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ.
অর্থ: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমাদ্বান শরীফ মাস পাবে তাকে অবশ্যই এ মাসে রোযা রাখতে হবে। আর কেউ অসুস্থ হলে অথবা মুসাফির হলে সে অন্য সময়ে (রোযা রেখে) গণনা পূরণ করে নিবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য সহজটা চেয়ে থাকেন, তিনি তোমাদের জন্য কঠিনটা চান না- যাতে তোমরা গণনা পূরণ করতে পারো। এবং তিনি তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মহত্ত্ব বর্ণনা করো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৫)
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পাঁচটি বুনিয়াদের মধ্যে একটি হচ্ছে মাহে রমাদ্বান শরীফের রোযা। হিজরী দ্বিতীয় সনে এ রোযা ফরয করা হয়। আমলের দিক থেকে এ রোযা যেমন অত্যাবশ্যকীয় তেমনি আক্বীদাগত দিক থেকেও এ রোযার ফরযিয়াতের প্রতি বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য কর্তব্য। সুতরাং, কোন মুসলমান যদি এ রোযাকে অস্বীকার করে সে মুরতাদ ও কাফিরের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ফরয হওয়া সত্ত্বেও এ রোযা রাখবে না, সে কঠিন গুণাহে গুণাহগার হবে এবং চরম ফাসিক হিসেবে গণ্য হবে।
শুরুতে রোযার পরিবর্তে ফিদিয়া দেয়ার যে আম বা সাধারণ অনুমতি ছিলো উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা তা মানসূখ বা রহিত করে দেয়া হয়েছে। এখন আর কোন সক্ষম ব্যক্তি ফিদিয়া দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে ফিদিয়ার হুকুম ঐ সকল ব্যক্তির জন্য বহাল ও বলবৎ রয়েছে যাদেরকে ফিক্বাহ শাস্ত্রের পরিভাষায় শায়খে ফানী বলা হয় অর্থাৎ যারা দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকার কারণে অথবা অতিরিক্ত বার্ধক্যজনিত কারণে এমন দুর্বল, যাদের পক্ষে সুস্থ ও সবল হয়ে উঠার সম্ভাবনা নেই।
এছাড়া উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে অসুস্থ ও মুসাফির ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে যে, কেউ যদি রোযার দিনে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে তখন তার জন্য রোযা না রেখে বরং সুস্থ হওয়ার পর অথবা সফর শেষ হওয়ার পর ততদিনের রোযা ক্বাযা আদায় করে নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, কিছু জাহিল মালানা ও অজ্ঞ ডাক্তার মুসলমানের রোযা নষ্ট করার মানসে মহান আল্লাহ পাক উনার দেয়া সহজ বিধানের বিপরীত কঠিন ও ভুল মাসয়ালার অবতারণা করে থাকে।
যেখানে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোযার পরে ক্বাযা আদায় অথবা ফিদিয়া দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন সেখানে তারা ষড়যন্ত্রমূলক ইনজেকশন, ইনসুলিন, স্যালাইন ও ইনহেলার ইত্যাদি নিয়ে রোযা রাখার কথা বলে একদিকে রোযাদার মুসলমানের দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক বিরোধী কাজ করাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! আরেকদিকে তাদেরকে রোযা থেকে বিরতও রাখছে। নাঊযুবিল্লাহ!
যার কারণে অসুস্থ রোযাদার কুফরী ও কবীরা উভয় গুণাহে গুণাহগার হচ্ছে। কেননা অসুস্থ রোযাদার ইনজেকশন, ইনসুলিন, ইনহেলার ইত্যাদি নিয়ে মনে করছে, তার রোযা হয়েই গেছে, যার কারণে সে আর পরে ক্বাযা ও ফিদিয়া কোনটাই আদায় করছে না। কিন্তু সে আদৌ ফিকির করে না যে, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন, ইনহেলার ইত্যাদি নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ।
অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُـؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ اِنَّـمَا الْاِفْطَارُ مِـمَّا دَخَلَ وَلَيْسَ مِـمَّا خَرَجَ وَفِـىْ رِوَايَةٍ اَلْفَطْرُ مِـمَّا دَخَلَ وَلَيْسَ مِـمَّا خَرَجَ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন নিশ্চয়ই শরীরের ভিতর কিছু প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে। কিছু বের হলে ভঙ্গ হবে না।” (আবূ ইয়ালা শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা মুবারক উনার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসরণীয় সমস্ত ইমাম, মুজতাহিদ ও ফক্বীহগণ ফতওয়া দিয়েছেন যে, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন, ইনুসলিন, ইনহেলার ইত্যাদি নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ। যা ফিক্বাহ’র বিশ্বখ্যাত কিতাব- ফতওয়ায়ে শামী, বাহরুর রায়িক, ফতহুল ক্বাদীর, হিদায়া, আইনুল হিদায়া, জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ ইত্যাদি কিতাবে উল্লেখ আছে।
আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে ইনজেকশনের দ্বারা প্রবেশকৃত ওষুধ পাকস্থলী ও মগজে পৌঁছে থাকে। আর শরীয়তের বিধান হলো, পাকস্থলী বা মগজে কিছু প্রবেশ করলেই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে; তা যেভাবে এবং যে স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন।
অতএব, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনহেলার, ইনসুলিন নেয়া হারাম ও রোযা ভঙ্গের কারণ। অর্থাৎ রোযা অবস্থায় ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনহেলার, ইনসুলিন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
দ্বীনপ্রিয় সরলপ্রাণ মুসলমান উনাদেরকে বিভ্রান্তি ও গুমরাহীমূলক ভুল ফতওয়া থেকে ফিরিয়ে এনে ছহীহ ও হক্ব মত, হক্ব পথ প্রদর্শনের লক্ষ্যে আমাদের এ প্রচেষ্টা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে না-হক্ব পথ থেকে ফিরে থাকার এবং হক্ব পথের উপর ইস্তিকামত থাকার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৩ পর্ব)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কাফিরদের কপটতা ও দ্বি-চারিতা নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সতর্কবার্তা
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












