পবিত্র ই’জায শরীফ (২)
, ১৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনকাল ছিলো সমকালীন পৃথিবীর সর্বাধিক আলোচিত পবিত্র ই’জায শরীফ।
পবিত্র ই’জায শরীফ উনার সূচনা থেকেই দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে সমুদয় আরববাসী। উনাদের মধ্যে যাঁরা ছিলেন পবিত্র, স্বচ্ছ ও অনাবিল চিন্তার অধিকারী উনারা প্রথম সাক্ষাতেই বিষয়টি গভীর বিবেচনায় নেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র ছিরত-ছুরত মুবারকসমূহ উনাদেরকে হক্ব গ্রহণে আন্দোলিত করে।
তবে এ সবকিছু জেনেশুনেও অনেকে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতো। আজন্ম লালিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না তারা। তাদের জীবনে সিদ্ধান্তের বাতি জ্বালাবার জন্যে প্রয়োজন ছিলো একটি বজ্র-ঝাঁকুনির। মূলত সেই ঝাঁকুনিটাই হচ্ছে পবিত্র ই’জায শরীফ।
যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে এমন কোন বিশেষ ঘটনা প্রকাশ ঘটতে দেখতো যা সাধারণের সাধ্যাতীত, তখন তাদের সহসা বোধোদয় হতো। অধিকন্তু সেই সব পবিত্র ই’জায শরীফ ঈমানদারদের ঈমানকে করতো আরও সুদৃঢ়, শক্তিশালী। আজও পর্যন্ত সেসব পবিত্র ই’জায শরীফ দুর্বল ঈমানে শক্তি জোগায়। মূলত এই প্রত্যাশায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংঘটিত অসংখ্য ই’জায শরীফ থেকে কয়েকখানা ই’জায শরীফ এখানে পত্রস্থ করা হলো।
...............................................
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সফর মুবারকে ছিলাম। চলতে চলতে পানি ফুরিয়ে সঙ্কট দেখা দিলো। লোকজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে আরজু করতে লাগলেন। পানির সঙ্কটের কথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ডাকলেন। সাথে আরেকজন ছাহাবী উনাকেও ডেকে বললেন, ‘দেখুন তো কোথাও পানির সন্ধান পাওয়া যায় কি-না!’
উনারা বের হলেন পানির সন্ধানে। কিছুদূর যাওয়ার পর পথে সাক্ষাৎ হলো একজন মহিলা ছাহাবী উনার সাথে। উটের উপর পানির পাত্র বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত মহিলা ছাহাবী উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, পানি এখান থেকে কতদূর হবে? তখন তিনি বললেন, বেশ দূর! গতকাল এই সময় আমি পানির ধারে ছিলাম আর আজ এখানে! হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ভাবলেন এতদূর যাওয়া সম্ভব নয়। অবশেষে উক্ত মহিলা ছাহাবী উনাকে সাথে করে উনারা হাজির হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবই জানেন, কিন্তু উনাদের থেকেও সব শুনলেন। তারপর বললেন, আচ্ছা আমাকে একটি পাত্র দিন! পাত্র আনা হলো। উক্ত মহিলা ছাহাবী উনার পাত্র থেকে কিছু পানি নিলেন সেই পাত্রে। অতঃপর এক হাতের তালু পরিমাণ পানি তুলে কুলি মুবারক করে আবার সেই পাত্রে রেখে দিয়ে বললেন, এই পানিটুকু উক্ত মহিলা ছাহাবী উনার পাত্রে ঢেলে দিন। এবং পাত্রের নিচের দিকের বাঁধনটি খুলে দিন।
পাত্রের মুখ খুলে দেয়া হলো। শুরু হলো পানির নহর। এ সংবাদ সারা কাফেলায় ছড়িয়ে পড়লো। সকলে ছুটে এলেন। কেউ পানি পান করলেন, কেউ বোঝাই করে নিলেন। মহিলা ছাহাবী অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন অলৌকিক-বহমান ঝরনাধারার প্রতি। অনুভূতির অপার্থিব আনন্দ-সুষমায় ভরে উঠছিলো ক্রমে।
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইমরান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! সকলে নিজ নিজ প্রয়োজন মত পানি তুলে নেয়ার পর লক্ষ্য করলাম, পাত্রটি এখন আগের চাইতে অধিক ভরপুর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আদেশ মুবারক করলেন, উক্ত মহিলা ছাহাবী উনাকে কিছু সংগ্রহ করে দিন। আমরা সওদা সংগ্রহে নেমে পড়লাম। প্রচুর পরিমাণে খেজুর, আটা আর ছাতু সংগ্রহ করে দিলাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই মহিলা ছাহাবী উনাকে বললেন, আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, আমরা আপনার পাত্র থেকে পানি নেইনি। মহান আল্লাহ পাক তিনিই আমাদের পানি দিয়েছেন। তিনিই আমাদের পরিতৃপ্ত করেছেন।
এদিকে সেই মহিলা ছাহাবী উনার ঘরে ফিরতে বেশ দেরি হলো। বাড়ির সকলেই অস্থির। তিনি ঘরে পৌঁছতেই সকলে ছুটে এলো। জিজ্ঞেস করতে লাগলো, পথে কোনো বিপদ হয়নি তো! মহিলা ছাহাবী তিনি গভীর আশ্চর্যের সঙ্গে বললেন; সে এক বিরাট ঘটনা! আমি পানি নিয়ে আসার সময় পথে দুই মুসাফিরের সাথে দেখা হয়েছিলো। উনারা দুজনে আমাকে এমন এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেলেন যিনি তোমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছেন। ' এ কথা তোমরাও শুনেছো। অতঃপর সম্পূর্ণ ঘটনা শোনার পর মহিলা ছাহাবী বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার এই বিশাল পৃথিবীতে উনার চেয়ে বড় দ্বিতীয়জন নেই। নিশ্চয়ই তিনি সত্য ও মনোনীত মহান রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
বর্ণনাকারী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা সে এলাকায় জিহাদ করেছি। কিন্তু এই মহিলা ছাহাবী যে স্থানে থাকতেন সেখানে আমরা হামলা করতাম না। অবশেষে একদিন এই মহিলা ছাহাবী উনার সম্প্রদায়ের লোকজনকে ডেকে বললেন, দেখো! আমার মনে হয় মুসলমানগণ উনারা ইচ্ছাকৃতভাবেই আপনাদের খাতির করছেন। এখন আপনাদের মুসলমান হয়ে যাওয়া উচিত। সেই সম্প্রদায়ের সকলেই উনার কথায় সম্মতি প্রকাশ করলেন এবং ঈমান আনতে উপস্থিত হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দরবার শরীফে। এব ঈমান গ্রহণ করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন।
-খুবাইব আহমদ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপদেশ মুবারক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












