পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَه مَكْحُلَةٌ يَكْتَحِلُ بِهَا عِنْدَ النَّوْمِ ثَلَاثًا فِي كُلِّ عَيْنٍ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর সময় তা থেকে তিনবার করে প্রত্যেক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক (মহাসম্মানিত চোখ মুবারক)-এ সুরমা লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
ঘুমানোর পূর্বে চোখে সুরমা ব্যবহার করা উত্তম এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক । অতএব, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার নিয়তেই সুরমা ব্যবহার করা উচিত। তাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নি’য়ামত মুবারক অর্জিত হবে এবং দৃষ্টিশক্তির জন্যও উপকারী হবে। বিশেষত ‘ইছমিদ’ নামক সুরমার অসংখ্য উপকার রয়েছে।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমাদের সুরমার মধ্যে ইছমিদ সুরমা সর্বোত্তম, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি সতেজ করে এবং চোখের পাতা উৎপন্ন করে।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে চোখে সুরমা ব্যবহারের নিয়ম বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেজোড় সংখ্যায় সুরমা লাগাতেন, প্রত্যেক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র চোখ মুবারকে) তিনবার অথবা এক মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) তিনবার এবং অপর মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) দুইবার।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اكتحل جعل في كل عين اثنتين و واحدة بينهما.
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উভয় মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) দুইবার করে সুরমা মুবারক লাগাতেন, অতঃপর পরবর্তী কাঠি উভয় মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) একবার লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أنس رضى الله تعالى عنه قال كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم كحل في هذا العين ثلاثا وفي هذا العين ثلاثا.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কালো সুরমা মুবারক ছিলো। তিনি ঘুমানোর জন্য বিছানায় গিয়ে এই (ডান) মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) তিনবার এবং ঐ (বাম) মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) তিনবার সুরমা লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أنس رضى الله تعالى عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يكتحل في عينه اليمنى ثلاثا وفي اليسرى ثلاثا بالاثمد.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ডান মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) তিনবার এবং বাম মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার মুবারকে (মহাসম্মানিত চোখ মুবারকে) তিনবার ‘ইছমিদ' নামক সুরমা মুবারক লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় জানতে পারলাম-
১) চোখে সুরমা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
২) ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক। সুরমার মধ্যে ইছমিদ সুরমা সর্বোত্তম, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি সতেজ করে এবং চোখের পাতা উৎপন্ন করে।
৩) ঘুমানোর পূর্বে চোখে সুরমা লাগানো খাছ সুন্নত মুবারক ও চোখের জন্য অনেক উপকারী।
৪) দুই চোখে সুরমা লাগানোর মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব-
ক) ডান চোখে তিনবার অতঃপর বাম চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানো।
খ) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে দুইবার।
গ) প্রথমে ডান চোখে দুইবার তারপর বাম চোখে দুইবার অতঃপর ডান চোখে একবার এবং বাম চোখে একবার। (অসমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিশমিশ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কদুতেই লুকিয়ে আছে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (৩)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কদুতেই লুকিয়ে আছে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কদুতেই লুকিয়ে আছে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (১)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
“শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং কিডনি সুরক্ষায় আঙুর অত্যন্ত উপকারী ফল।”
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বপ্রকার খাদ্য সামগ্রীর উপর ছারীদের মর্যাদা মুবারক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (১)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












