পথচলা এবং চলার পথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব (২)
, ১৬ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ৩১ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১৪ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا مَشَى كَأَنَّهُ يَتَوَكَّأُ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পথ চলতেন তখন মনে হতো তিনি যেন (লাঠি কিংবা অন্য কোন জিনিসের উপর) ভর দিয়ে পথ চলছেন। অর্থাৎ তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে পথ চলতেন। (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুল আওসাত, আল মুসতাদরিক, মুসনাদে আবী ই’য়ালা)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كان رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে পথ চলতেন। (মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي عِنَبَةَ الْخَوْلَانِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى أَقْلَعَ.
অর্থ: হযরত আবূ ইনাবা খাওলানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাঁটতেন তখন মাটি থেকে সবলে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক তুলে তুলে হাঁটতেন। ( ছহীহুস সুনান ওয়াল মাসানীদ, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সম্মুখের দিকে ঝুঁকে ঝুঁকে পথ চলাও খাছ সুন্নত মুবারক:
এ ব্যাপারে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ كرم الله وجهه عليه السلام قَالَ كان النبی صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفِّيًا كَأَنَّمَا يتقلع مِنْ صَبَبٍ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصبب المنحدر من الأرض.
অর্থ: ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিয়ম মুবারক ছিলো, তিনি যখন পথ চলতেন তখন সম্মুখের দিকে ঝুঁকে ঝুঁকে চলতেন। (আপাত দৃষ্টিতে মনে হতো) তিনি যেন সবলে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক উত্তোলন পূর্বক ঢালু জায়গা দিয়ে অবতরণ করছেন। আমি উনার মত (ছিফত মুবারক সম্পন্ন) না পূর্বে কখনো দেখেছি আর না পরে অর্থাৎ উনার কোন মেছাল নেই, তিনি বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ربيعة رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قال دخلنا على انس بن مالك رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فسألنا عن صفة النبي صلى الله عليه وسلم صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال كان إذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَبَبٍ.
অর্থ: হযরত রাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দরবার শরীফে গেলাম এবং উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খুছ’ছিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পথ চলতেন তখন তিনি যেন কোনো ঢালু ভূমি দিয়ে চলছেন। (অর্থাৎ চলার পথে উনার হাঁটার গতি ছিল কিছুটা দ্রুত।) (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ চলার বৈশিষ্ঠ্য মুবারক, তর্য-তরীক্বাহ মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। এ সকল মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বোঝা যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ চলার মধ্যে তিন ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিলোঃ
এক. তিনি উম্মতকে নম্রতা ও বিনয় শিক্ষাদানের লক্ষ্যে সম্মুখের দিকে ঝুঁকে চলতেন। অহংকারসুলভ বুকটান করে হাঁটতেন না। (তবে যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদগণের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। কেননা উনাদের ব্যাপারে নির্দেশ মুবারক হলো কাফিরদের মুকাবিলায় বিনয় ও ন¤্রতার প্রকাশ নয়; বরং নিজেদের শক্তি, বীরত্ব ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার প্রকাশ করা আবশ্যক।)
দুই. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পথ চলার সময় মাটি থেকে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক তুলে তুলে সবল হাঁটতেন।
তিন. তিনি তুলনামূলকভাবে দ্রুত চলতেন। খুব ধীর গতিতে অলসের মত হাঁট তিনি পছন্দ করতেন না।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












