নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৫৩)
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
৩৭. মালঊন পালামলের করুণ পরিণতি:
১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ খৃ: সন্ধ্যার ঘটনা। মুহম্মদ ছিদ্দীক বাবা বুল্লে শাহের দরবারের কাছে একটি নিম গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অনুসন্ধিৎসু চোখে দু’জন আগন্তুকের উপর তীক্ষè দৃষ্টি রাখছেন। এর মধ্যেই এক ব্যক্তি আসলো যে তার চেহারার অধিকাংশই নেকাব দিয়ে ঢেকে রেখেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ তার গতিরোধ করলেন। জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কে? কোথায় থেকে এসেছো? এখানে কী করো? সে নাম বলতে দ্বিধা করলো। ঘটনা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ালো। মুহম্মদ ছিদ্দীককে একা দেখে তারও সাহস বেড়ে গেলো। বলতে লাগলো, মুসলমানরা এই পর্যন্ত আমার কী-ই বা করতে পেরেছে, আর এই লোকটি বা কোন কেয়ামত ঘটিয়ে ফেলবে?
এবার মুহম্মদ ছিদ্দীক চিনে ফেললেন, এটাই সেই গোস্তাখ যাকে জাহান্নামে পৌঁছানোর জন্য তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুহম্মদ ছিদ্দীক বললেন, আমি তাজেদারে মদীনা রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন নগণ্য গোলাম। কয়েকদিন থেকেই তোর সন্ধানে আছি। বদ-যবান নাপাক জানোয়ার! তুই আজ অপমানজনক মৃত্যুর হাত থেকে কিছুতেই রেহাই পাবি না। এই বলেই তিনি কোমর থেকে চামড়া ছিলার একটি যন্ত্র বের করলেন এবং ধিক্কার দিয়ে একের পর এক তাকবীর চালালেন। সাড়ে সাতটার সময় এই গোস্তাখ যাকে মানুষ লালাহ পালামল শাহ বলতো, নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্যের শিকার হলো। অভিশপ্ত গোস্তাখের চিৎকারে এবং আশেকে রসূল উনার তাকবীর ধ্বনিতে ততক্ষণে অনেক মানুষ সেখানে জড় হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য হলো, গোস্তাখের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার বুকের উপর থেকে নামেননি। মুহম্মদ ছিদ্দীক সাহেবের পোশাক মালউনটার নাপাক রক্তের ছিটায় রক্তাক্ত হয়ে গেছে। আশপাশেও শুধু রক্ত আর রক্ত। গোস্তাখের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, তার শরীরে চল্লিশটি জখমের নিদর্শন ছিলো। উপস্থিত লোকদের বিবরণ হলো, হত্যার পর তিনি পলায়ন করতে চাইলে খুব সহজেই পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে খুব শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে পাক-সাফ হয়ে পাশের মসজিদে গিয়ে দুই রাকায়াত শোকরানা নামায আদায় করে নিশ্চিন্তে মসজিদের সিঁড়িতে বসে পড়লেন। মাঝেমধ্যে মুচকি হেসে গুনগুনিয়ে কি যেন বলে যাচ্ছেন। তখন হিন্দুদের চেহারাগুলো সব শুকিয়ে গেলেও মুহম্মদ ছিদ্দীক সাহেবকে দেখাচ্ছিলো খুব শান্ত তরতাজা ও হাসিখুশি চেহারার একজন নিশ্চিন্ত মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে উনার এই অবস্থান ছিলো মুসলমানদের স্বকীয়তা, গায়রত ও শির উঁচু জাতি হওয়ার প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
যখন গাজী ছিদ্দীককে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন, তখন তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে মালউন পালামলকে আমি হত্যা করেছি। কারণ এই অভিশপ্ত আমাদের প্রাণপ্রিয় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করেছিলো। সে জেনে বুঝেই এই অপরাধ করেছিলো। রাজপাল ও ইলমুদ্দীনের ঘটনা তাঁর খুব ভালো করেই জানা ছিলো। সব বুঝে শুনেই তিনি নিজেকে এই পরিণতির সম্মুখীন করেছেন।
উনার কথা হলো, যদি এই ঘটনার বিশ বছরও পার হয়ে যেতো, তাহলেও আমি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতাম। আমাদের ইসলামী শরীয়তে, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে মানহানী করার উপর চুপ থাকে, নিজের জান কুরবান করে না, সে প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না; বরং সে মুনাফিক। অন্য কারো বিষয় হলে তা বরদাশত করা যায়। কিন্তু সরদারে দোজাহান, হাবীবে খোদা, রহমাতুল্লিল আলামীন, রঊফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান ও মর্যাদা মুবারক নিয়ে যারা অবজ্ঞা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ক্রোধ ও উত্তেজনায় কোন প্রকারের ত্রুটি হতে পারে না। আমি যা করেছি খুব চিন্তাভাবনা করে দ্বীন ও ঈমানী আত্মমর্যাদাবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান ও মর্যাদা মুবারক রক্ষার জন্যই করেছি।
এ জন্য আমার সামান্যতম কোন আফসোস বা অনুতাপ নেই; বরং আমি এই কৃতিত্বের উপর গর্বিত ও আনন্দিত। আদালত আমাকে যখন ইচ্ছা যত ইচ্ছা শাস্তি দিতে পারে। তাতে আমার মোটেও কোন দুশ্চিন্তা নেই। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদেরকে শাহান শাহে মদীনা রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান ও মর্যাদা মুবারক রক্ষার নিশ্চয়তা না দেয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন না কোন আশেক্বে রসূল তার মুহব্বতের আগুন জালাতেই থাকবেন। আমার তো একটি মাত্র প্রাণ। এর মূল্যই বা কি? আমার বিশ্বাস আমি যদি পুরো দুনিয়াও প্রাণের আক্বা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদমতলে উৎসর্গ করি, তবুও আমার ইশক্ব, মুহব্বত এ কথাই বলবে যে, এখনো উনার গোলামীর হক আদায় হয়নি। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (২)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












