নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (১)
, ০৪ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
হিজামা (حِجَامَة) বা শিঙ্গা লাগানো একটি খাছ সুন্নতী চিকিৎসা ব্যবস্থা মুবারক। এটি আরবী শব্দ ‘আল-হাজম’ থেকে এসেছে। যার অর্থ চোষা বা টেনে নেওয়া। আধুনিক পরিভাষায় পঁঢ়ঢ়রহম (কাপিং)। হিজামা বা শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে দূষিত রক্ত বের করা হয়। এতে শরীরের গোশÍ পেশী সমূহের “রক্ত প্রবাহ” দ্রুততর হয়। পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের অরগান সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও শক্তিশালী হয়।
হিজামা খাছ সুন্নতী চিকিৎসা মুবারক :
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি হিজামা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজামার উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করেছেন, তিনি নিজে ব্যবহার মুবারক করেছেন এবং হিজামা ব্যবহারে উৎসাহিত করেছেন।
যেসকল স্থানে হিজামা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে হিজামার ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজামা ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন কারণে এবং বিভিন্ন স্থান মুবারকে।
(১) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারকে (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মাথা মুবারকে)।
(২) মহাসম্মানিত মহাপবিত্রতম নূরুদ দারাজাত মুবারকে (মহাসম্মানিত মহাপবিত্রতম ক্বদম মুবারকে)।
(৩) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল আত্বহার মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র পিঠ মুবারকে)।
(৪) দুই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারকে।
(৫) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুন নুবুওওয়াহ্ মুবারক (মহাপবিত্র ঘাড় মুবারক) উনার মহাসম্মানিত দু’টি মহাসম্মানিত রগ মুবারকে।
হযরত আমর বিন আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলতে শুনেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজামা লাগাতেন এবং কোন লোকের পারিশ্রমিক কম দিতেন না বরং পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম পারিশ্রমিক দিতেন।
হিজামার ফযীলত : হিজামার ফযীলত সম্বলিত বহু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হলো-
عَنْ حَضْرَتْ حُمَيْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سُئِلَ حَضْرَتْ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ فَقَالَ احْتَجَمَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَمَهٗ أَبُوْ طَيْبَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ أَهْلَهٗ فَوَضَعُوْا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهٖ وَقَالَ إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ أَوْ هُوَ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمْ.
অর্থঃ হযরত হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট হিজামার উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজামা লাগিয়েছেন। হযরত আবূ তায়বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হিজামা লাগিয়েছেন। তিনি হযরত আবূ তায়বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দুই ছা‘ (প্রায় পৌনে ৭ কেজি) খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার নির্দেশ মুবারক দেন এবং উনার মালিকদের সাথে আলোচনা করেন। এতে উনারা উনার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেন। তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও হিজামা সেগুলোর মধ্যে উত্তম ব্যবস্থা অথবা (ইরশাদ মুবরক করেছেন) এটি তোমাদের ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক। (মুসলিম শরীফ- ৩৯৩০) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৩)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (১)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












