নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে বললেন, আয় বারে এলাহী! আপনি আমাকে দীদার দিন, আমি আপনাকে দেখতে চাই। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি কখনই আমাকে দেখতে পারবেন না। বরং আপনি পাহাড়ের দিকে তাকান। যখন তাজাল্লা যাহির করবো, পাহাড়টা যদি তার স্বস্থানে স্থির থাকে, তাহলে আপনি আমাকে দেখতে পাবেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন পাহাড়ের উপর তাজাল্লা নিক্ষেপ করলেন, পাহাড়টা টুকরো টুকরো হয়ে গেলো এবং হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।
এ প্রসঙ্গে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪১ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ২০শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতু সাইয়িদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছানাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাহফিল মুবারক-এ সম্মানিত আলোচনা মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “বলা হয় যে, একটা সূচের মাথার যে ছিদ্র, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পরিমাণ তাজাল্লা মুবারক যাহির করেছেন। ফলে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিটকে পড়ে গেলেন, বেহুঁশ হয়ে গেলেন। পাহাড়টা টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি প্রায় ১দিন বেহুঁশ ছিলেন।”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَنَـحْنُ اَقْـرَبُ اِلَـيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيْدِ
‘আর আমি মানুষের প্রাণ রগের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।’(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ক্বফ শরীফ: ১৬)
এর একটা হাক্বীক্বত মহান আল্লাহ পাক তিনি যাহির করেছেন। এটা কঠিন একটা বিষয়। এটা প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই। তারপরেও বললে বলতে পারি অল্প করে। বিষয়টা হলো এরকম- ঠিক হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যে অবস্থাটা, এই অবস্থাটা। আমি ফিকির করছিলাম বিষয়টা। এইটা এর আগে এরকম আমি ফিকির করিনি। মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা- এটা করবেন।
وَخَرَّ مُوْسٰى صَعِقًا
‘আর হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বেহুঁশ হয়ে গেলেন।’
যখন এটা আমি ফিকির করলাম, দেখতে পেলাম- সরাসরি সামনে যিনি খ্বালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উপস্থিত হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলাম। ব্যথা পাইনি। শুয়ে পড়েছিলাম। তারপর উঠেছি। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যে হালটা, এইটার একটা অংশ যাহির হলো। এটা সরাসরি বরদাস্ত করা যায় না। মনে হয় যে শরীরটা ফয়েয-তাওয়াজ্জুতে পিষে গেলে যেরকম হয়, সমস্ত শরীর ব্যথায় সেরকম হয়ে যায়। পড়ার পর হুশ ছিলো না। অতঃপর হুশ আসলে দেখলাম, শোয়া আছি। এরপর আস্তে আস্তে উঠছি। বিষয়টা দেখলাম-
وَخَرَّ مُوْسٰى صَعِقًا
কঠিন বিষয় এটা। এটা দিয়ে, বিষয়টি উপলব্ধিতে আসলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা যখন থাকে, তখন ঐটা বরদাস্ত করা সহজ হয়। এছাড়া এটা বরদাস্ত করা কঠিন। বেঁচে থাকাই কঠিন। চোখের পলকে অদৃশ্য-গায়েব হয়ে গেলাম। গায়েব হয়ে কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমি শোয়া আছি। ফ্লোরে শোয়া আছি। হুঁশ ফিরলো, তারপর আমি উঠলাম। অনেক কঠিন। বলা হয়- পবিত্র ওহী মুবারক উনার তাছির মুবারকের কারণে উট যে দাঁড়ানো থেকে বসে যায়! শরীর মনে হয় একদম ই হয়ে গেছে। সেটাই বললাম যে, আসলে নেয়ামতের তো অভাব নেই। মহান আল্লাহ পাক অনেক দেন। বিষয়গুলো তো কঠিন। আবার বরদাস্ত করাও কঠিন। অনেক কঠিন বরদাস্ত করা। বেঁচে থাকাই তো কঠিন। চোখের পলকেই হইয়া গেছে জিনিসটা। এমনে কোনো ব্যথা সরাসরি মাথায় বা হাতে নেই। তবে বসার জায়গায় বসছি যে ঐ বসার জায়গাটা একটু ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। মাথায় কোনো ব্যথা লাগে নাই। এইটা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার হালটা। উনার হালটা কি রকম তাহলে?
এটা প্রমাণ হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে থাকলে, উনার মধ্যস্থতা থাকলে, যেভাবে হেফাযত হয়, এটা সেটা না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো ২৪ ঘণ্টা দীদারে আছেন। কঠিন বিষয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুদরতময় সৃষ্টি। তিনি কুদরত মুবারকেই আছেন। উনার মাধ্যম দিয়া যখন আসবে, তখন বরদাস্ত করা যাবে। অন্যথায় কেউ বরদাস্ত করতে পারবে না।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাকরীর মুবারক অর্থাৎ অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪২)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












