নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানিকারীর একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে ‘মৃত্যুদন্ড’ (৩৪)
, ১৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
কিছু অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত:
(৪)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَاحْتَجَّ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ خَالِدِ ۣ الْفَقِيْهُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِىْ مِثْلِ هٰذَا بِقَتْلِ حَضْرَتْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ مَالِكَ بْنَ نُوَيْرَةَ بِقَوْلِهٖ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاحِبُكُمْ
অর্থ: “বিশিষ্ট ফক্বীহ হযরত আবূ ইসহাক্ব ইবরাহীম বিন হুসাইন বিন খালিদ কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২৪৯ হিজরী শরীফ) তিনি (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানিকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড) এ ব্যাপারে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আমল মুবারককে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মালিক ইবনে নুওয়াইরাকে শুধু এজন্যই শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সে صَاحِبُكُمْ ‘তোমাদের সাথী’ বলেছে (‘আপনাদের মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলেনি)।” (আশ শিফা ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ১২৫)
মালিক ইবনে নুওয়াইরা ছিলো বনী তামীম গোত্রের প্রধান। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে সে যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখনও সে বনী তামীম গোত্রের প্রধানই ছিলো। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করার কারণে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদন্ড দেন। সুবহানাল্লাহ! যদিও তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার পূর্বে সে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বীকৃতি দিয়েছিলা। কিন্তু হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার থেকে তা গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার এই সম্মানিত আমল মুবারক দ্বারা এ বিষয়টিই স্পষ্ট করে দিলেন যে, যারা বিন্দু থেকে বিন্দুতমও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তাদের তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।
হযরত ইমাম আহমাদ শিহাবুদ্দীন খাফাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
اَمَرَ حَضْرَتْ ضِرَارَ بْنَ الْاَزْوَرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ لِاِنْكَارِهٖ قَوْلِهٖ صَاحِبُكُمْ مَرَّتَيْنِ اسْتِصْغَارًا لَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি হযরত দ্বিরার ইবনে আয্ওয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন মালিক ইবনে নুওয়াইরাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ হত্যা করার জন্য। তখন হযরত দ্বিরার ইবনে আয্ওয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন, তার অবাধ্যতার কারণে। সুবহানাল্লাহ! তার অবাধ্যতা হলো সে তার কথা (صَاحِبُكُمْ) ‘তোমাদের সাথী’ এটা দুইবার বলার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হেয়জ্ঞান করেছে, উনার মানহানি করেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (নাসীমুর রিয়াদ্ব লিল খ¦ফাজী ৪/৩৩৯)
বিষয়টি যখন ছড়িয়ে পড়লো যে, হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একজন মুসলমানকে হত্যা করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন,
فِاِنَّهٗ قَدْ قَتَلَ مُسْلِمًا فَاقْتُلْهُ قَالَ مَا كُنْتُ اَقْتُلُهٗ اَنَّهٗ تَاَوَّلَ قَالَ فَاَعْزِلْهُ قَالَ مَا كُنْتُ اَعْمِدُ سَيْفًا سَلَّهُ اللهُ تَعَالـٰى عَلَى الْمُشْرِكِيْنَ وَفِـىْ رِوَايَةٍ لَا اَعْزِلُ وَالِيًا وَّلَّاهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একজন মুসলমানকে হত্যা করেছেন, আপনিও উনাকে (কিছাছস্বরূপ) হত্যা করুন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, না; আমি উনাকে হত্যা করবো না। কেননা, তিনি বিষয়টি তাহক্বীক্ব করেছেন। অর্থাৎ তিনি যা করেছেন সঠিকই করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন, তাহলে আপনি উনাকে অপসারণ করুন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, না; যেই সম্মানিত তরবারি মুবারক উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুশরিকদের উপর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আমি সেই সম্মানিত তরবারি মুবারক উনাকে কোষবদ্ধ করবো না। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছে, যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িত্ব মুবারক দিয়েছেন, আমি সেই সুমহান দায়িত্বশীল উনাকে অপসারণ করবো না।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুশ শিফা লিলক্বারী ২/৩৯৩-৩৯৪)
সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এই সম্মানিত আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এই শক্ত জাওয়াব মুবারক এবং সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এই বিষয়ে সম্মতি মুবারক প্রকাশ দ্বারা এটাই দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, যারা সামান্য থেকে সামান্যতমও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তাদের তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমনিভাবে মালিক ইবনে নুওয়াইরার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হয়নি। যদি তাই হয়, তাহলে কথিত ইমাম নামধারী উক্ত গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গারের মানহানিকর বক্তব্যের জন্য অবশ্যই অবশ্যই তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৭)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৯)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩২)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৬)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৫ম পর্ব)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৮)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৫)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












