নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২৪)
, ১ জুমাদ্বাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
তাকে হত্যা করার বিবরণ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এরপর আমি চাবিটার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং চাবিটা নিয়ে দরজাটি খুললাম। আবূ রফে‘র নিকট রাতের বেলা মজমা’র আসর বসতো, এ সময় সে তার উপর তলার কামরায় অবস্থান করছিলো। মজমায় আগত লোকজন চলে গেলে, আমি সিঁড়ি বেয়ে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় আমি একটি করে দরজা খুলছিলাম এবং ভিতর দিক থেকে তা আবার বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাতে লোকজন আমার ব্যাপারে জানতে পারলেও হত্যা না করা পর্যন্ত আমার নিকট পৌঁছতে না পারে। আমি তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় সে একটি অন্ধকার কক্ষে তার সন্তানদের মাঝে শুয়েছিলো।
কক্ষের কোন অংশে সে শুয়ে আছে আমি তা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। তাই আবূ রফে’ বলে ডাক দিলাম। সে বললো, কে আমাকে ডাকছো? আমি তখন আওয়াজটি লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে তরবারি দ্বারা প্রচন্ড জোরে তাকে আঘাত করলাম। আমার শরীর কাঁপছিলো। এ আঘাতে আমি তার তেমন কিছুই করতে পারলাম না। সে চিৎকার করে উঠলে আমি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে আসলাম। এরপর পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে (কন্ঠস্বর কিছুটা পরিবর্তন করতঃ তার আপন লোকের ন্যায়) জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ রফে’ এটা কিসের আওয়াজ হলো? সে বললো, তোমার মায়ের ধ্বংস হোক! একটু আগে ঘরের ভিতর কে যেন আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমি আবার তাকে ভীষণভাবে আঘাত করলাম এবং মারাত্মকভাবে ক্ষত বিক্ষত করে ফেললাম। কিন্তু তখনও তাকে হত্যা করতে পারিনি। তাই তরবারির ধারালো দিকটি তার পেটের উপর চেপে ধরলাম, এতে তরবারির মাথা তার পিঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেলো। এবার আমি নিশ্চিতরূপে বুঝলাম যে, এখন আমি তাকে হত্যা করতে পেরেছি।
এরপর আমি পূর্বে বন্ধ করা দরজাসমূহ এক এক করে খুলে নীচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছলাম। সেদিন ছিলো জোৎস্না রাত। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিলো) তাই নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। অমনিই আমার পায়ের গোছার হাড় ভেঙ্গে গেলো। আমি আমার মাথার পাগড়ি দিয়ে আমার পা বেঁধে নিলাম এবং একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম। মনে মনে স্থির করলাম, মালউনটার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আজ রাতে আমি এখান থেকে যাবো না। ভোর রাতে মোরগের ডাক আরম্ভ হলে মৃত্যুর ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপরে উঠে আবূ রফে’র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করলো। আমি নিশ্চিত হলাম। কাল বিলম্ব না করে আমি আমার সাথীদের নিকট গিয়ে বললাম, তাড়াতাড়ি চলুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রফে’কে হত্যা করেছেন। এরপর আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলাম এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। (আমার পা ভাঙ্গার কথাও বললাম।) তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
ابْسُطْ رِجْلَكَ فَبَسَطْتُ رِجْلِي فَمَسَحَهَا فَكَأَنَّهَا لَمْ أَشْتَكِهَا قَطّ
‘আপনার পা লম্বা করুন। আমি আমার পা লম্বা করে দিলাম তিনি তাতে উনার মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত বা হাত মুবারক বুলিয়ে দিলেন। (তাতে এমন সুস্থ হলাম) যেন আমি কখনোই কোন আঘাতই পাইনি। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪০৩৯)
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে আরও যারা ছিলেন উনারা হলেন- হযরত আব্দুল্লাহ বিন উনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মাসঊদ বিন সিনান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবূ ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আসওয়াদ বিন খুযায়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। (শারহুয যারক্বানী আলা মুয়াত্বা ৩/১৫)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, উনারা সকলেই দূর্গের ভিতরে প্রবেশ করেছেন। সেখানে এ কথাও বলা হয়েছে যে, উনারা যখন রাত্রিতে আবূ রফে’কে হত্যা করেন এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পায়ের গোড়ালি স্থানচ্যুত হয়ে যায় তখন উনাকে নিয়ে এসে দূর্গের দেয়ালের আড়ালে যেখানে ঝর্ণার নহর ছিলো সেখানে আত্মগোপন করে থাকেন।
এদিকে ইহুদীরা আগুন জ্বালিয়ে চতুর্দিকে দৌড়াদৌড়ি করে অনুসন্ধান চালাতে থাকলো। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও যখন তারা কোন সন্ধান পেলো না। তখন নিরাশ হয়ে নিহত আবূ রফে’র নিকট প্রত্যাবর্তন করলো। আর এ সুযোগে উনারা হযরত আব্দুল্লাহ বিন আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কাঁধে উঠিয়ে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাযির হলেন। এই সফল অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো পবিত্র যিলক্বদ শরীফ অথবা পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসে। (সীরাতে ইবনে হিশাম ২/২৭৪-২৭৫, রহমাতুল্লিল আলামীন ২/২২৩)
এভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরম দুশমন আবূ রফে’ চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হয়। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ইত্তিবা’ মুবারক, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করা ব্যতীত কস্মিনকালেও মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক লাভ করা সম্ভব নয়
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৫৪)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
এক নযরে হাদ্বিনাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (১৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত যায়িদ বিন হারেছাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেমেছাল মুহব্বত মুবারক
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৯)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫৪
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫৩
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












