নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২৩)
, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
ইহুদী নেতা কা’ব বিন আশরাফ:
উনারা কা’ব বিন আশরাফের কর্তিত মস্তক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে রেখে দিলেন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করলেন। এরপর হযরত হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ক্ষতস্থানে পবিত্র নূরুল বারাকাত বা থুথু মুবারক লাগিয়ে দিলেন। এতে উনার পায়ের রক্ত ঝরা বন্ধ হয়ে গেলো। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন। সেই ক্ষতস্থানে আর কখনও তিনি ব্যাথা অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ!
সকাল বেলা ইহুদীরা মুশরিকদেরকে সাথে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফে এসে বললো- আমাদের মধ্যে একজন পদমর্যাদার অধিকারী নেতা গতরাতে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে। তাকে কোনো অপবাদ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সে যদি তার মতাদর্শ লালনকারী অপরাপর ব্যক্তিদের মতো শান্ত থাকতো, তাহলে সে গুপ্তহত্যার শিকার হতো না। কিন্তু সে আমাদের কষ্ট দিয়েছে। তার কবিতার মাধ্যমে আমাদের মানহানি করেছে। তোমাদের মধ্যে যে-ই এই কাজটি করতো, আমরা তলোয়ার দিয়ে তার ফয়সালা করতাম।
এই ঘটনার পরে থেকে ইহুদীরা ভড়কে গেলো। তারা স্পষ্টত বুঝতে পারলো যে, যারা শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে অনিষ্টের বিষবাষ্প ছড়াবে; সদুপদেশ দেয়ার পরও যারা সেটা মানবে না, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবেন না। এ কারণে তারা কা’ব বিন আশরাফের হত্যার পর একেবারে চুপসে যায়। তারা নিজেদের চালচলনে এমন ভাব প্রকাশ করলো যে, তারা শান্তিচুক্তির শর্তাবলি মেনে চলছে। তারা শক্তি প্রদর্শনের কোনো চেষ্টাও করেনি।
এভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই চরম দুশমন, মালউন কা’ব বিন আশরাফের শেষ পরিণতি ঘটে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪৭৬৫, আস সীরাতুন নববিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, উমদাতুল ক্বারী ১৩/৭০, ফাতহুল বারী ইত্যাদি)
ইহুদী মোড়ল আবূ রফে’:
আবূ রফে’। এটা তার উপনাম। এ নামেই সে পরিচিত। তার মূল নাম হচ্ছে, সাল্লাম ইবনে আবুল হুক্বাইক্ব। সে হিজাযের একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলো। হিজায সংলগ্ন খায়বারে ছিলো তার বসবাস। ইহুদীদের মধ্যে সে একজন চরম অপরাধী ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরম শত্রু ছিলো এই মালউন। উনাকে যারা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, উনাকে গালমন্দ করেছে, উনার বিরুদ্ধে শত্রু পক্ষকে সাহায্য করেছে তাদের মধ্যে সে ছিলো অন্যতম। খন্দক যুদ্ধের মূল হোতাও ছিলো সে।
মালউন কা’ব বিন আশরাফকে হত্যা করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন আউস গোত্রের কয়েকজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। যার কারণে খাযরাজ গোত্রের হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিকৃষ্ট আবূ রফে’কে হত্যা করার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে অনুমতি চাইলেন। কারণ উনারা সর্বদাই নেক কাজে প্রতিযোগিতা করতেন। এবং মুবারক অনুমতি পেয়েও গেলেন।
তাকে হত্যা করার বিবরণ:
বুখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে- হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আমীর বানিয়ে উনার নেতৃত্বে হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কয়েকজনকে ইহুদী মোড়ল আবূ রফে’কে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। কেননা আবূ রফে’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিতো এবং এ ব্যাপারে অন্যদেরকেও সাহায্য করতো। নাঊযুবিল্লাহ! হিজায ভূমিতে তার একটি দূর্গ ছিলো (যেখানে সে বাস করতো)। উনারা যখন তার দূর্গের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তখন সূর্য ডুবে গেছে এবং লোকজন নিজেদের পশু পাল নিয়ে রওয়ানা হয়েছে (নিজ নিজ গৃহে)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সাথীদেরকে বললেন, আপনারা আপনাদের স্থানে বসে থাকুন। আমি যাচ্ছি, ভিতরে প্রবেশ করার জন্য দ্বার রক্ষীর সঙ্গে আমি কৌশল দেখাই। এরপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে পৌঁছলেন এবং কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঢাকলেন যেন তিনি উনার হাজত সারতে রত আছেন। তখন দূর্গের সবাই ভিতরে প্রবেশ করলে ফটকরক্ষী উনাকে ডেকে বললো-
يَا عَبْدَ اللهِ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ أَنْ تَدْخُلَ فَادْخُلْ فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُغْلِقَ الْبَابَ
‘ওহে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা! ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ করুন। আমি এখনই দরজা বন্ধ করে দিবো। ’ আমি তখন ভিতরে প্রবেশ করলাম এবং আত্মগোপন করে থাকলাম। সকলে ভিতরে প্রবেশ করার পর রক্ষী দরজা বন্ধ করে দিলো এবং একটি পেরেকের সঙ্গে চাবিটা ঝুলিয়ে রাখলো। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফতওয়া: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১১)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৭
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৬
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৫
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৮)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার বেমেছাল শান-মান, মর্যাদা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












