সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নাম মুবারকে নাম রাখার ফযীলত ও বরকত মুবারক (৫)
, ০৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا
অর্থ : “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করো, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে সম্বোধন কর না। ” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ-উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরে জালালাইন শরীফের ৩০২ পৃষ্ঠার ১০ নম্বর হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-
لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم اى نداؤه بمعنى لا تنادوه باسمه فتقولوا يا محمد صلى الله عليه وسلم ولا بكنيته فتقولوا يا ابا القاسم بل نادوه وخاطبوه بالتعظيم والتكريم والتوقير بان تقولوا يا رسول الله يا نبى الله يا امام المرسلين يا رسول رب العالمين يا خاتم النبين صلى الله عليه وسلم وغير ذلك، واستفيد من الاية انه لا يجوز نداء النبى بغير ما يفيد التعظيم لا فى حياته ولا بعد وفاته فبهذا يعلم ان من استخف بجنابه صلى الله عليه وسلم فهو كافر ملعون فى الدنيا والاخرة.
অর্থ : তোমরা তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোমাদের মতো ডেকো না। অর্থাৎ তোমরা উনাকে উনার মূল নাম মুবারক-এ ডেকো না। যেমন- কেউ বললো, ইয়া মুহম্মদ! এবং উনার কুনিয়াত (উপনাম) নিয়েও ডেকো না, যেমন কেউ বললো, ইয়া আবুল কাসিম! বরং উনাকে ডাকো বা আহ্বান কর সর্বোচ্চ তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান-ইজ্জতের সাথে। অতএব, তোমরা এভাবে ডাকবে- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া নাবিয়াল্লাহ, ইয়া ইমামাল মুরসালীন, ইয়া রসূলা রব্বিল আলামীন, ইয়া খাতামান নাবিইয়ীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও অনুরূপ অন্য বাক্য দ্বারা।
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার এটাই ফায়সালা যে, তা’যীম বা সম্মান প্রকাশ হয় না এমন শব্দ দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আহ্বান করা জায়িয নেই। এ ফায়সালা তিনি মহাসম্মানিত দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে থাকা অবস্থায় এবং মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক উনার পর একই হুকুম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অসম্মানীমূলক শব্দ দ্বারা আহ্বানকারী দুনিয়া ও আখিরাতে কাট্টা কাফির ও বড় মালউন (অভিশপ্ত) হিসেবে স্বীকৃত।
‘তাফসীরে মা’য়ারিফুল কুরআন’-এর ৯৫৫ নম্বর পৃষ্ঠায় উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে, “যখন তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোন প্রয়োজনে সম্বোধন কর তখন সাধারণ লোকের ন্যায় উনার নাম মুবারক নিয়ে অর্থাৎ ‘ইয়া মুহম্মদ’ বলে সম্বোধন করবে না। কারণ এটা চরম বেয়াদবি ও কাট্টা কুফরী। বরং সর্বোচ্চ সম্মানসূচক মহাসম্মানিত লক্বব (উপাধি) মুবারক দ্বারা অর্থাৎ ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এরূপভাবে সম্বোধন করবে। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, তা’যীম-তাকরীম প্রদর্শন করা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব। ”
অর্থাৎ সাধারণ লোককে যেভাবে নাম নিয়ে সম্মোধন করা যায় সেভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক নিয়ে সম্মোধন করা জায়িয নেই। বরং উনাকে মহাসম্মানিত লক্বব মুবারক দিয়ে সম্মোধন করতে হবে।
তাই আমরা দেখতে পাই যে, রাবীগণ উনারা পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ না করে বা না লিখে মহাসম্মানিত লক্বব মুবারক উচ্চারণ করেছেন বা লিখেছেন।
কাজেই, প্রত্যেক পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য আবশ্যক হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ না করে বা না লিখে মহাসম্মানিত লক্বব মুবারক উনার মাধ্যমে সম্বোধন করা। এবং নিজের নামের সাথে বরকত ও নেয়ামত লাভের জন্য “মুহম্মদ” কিংবা “আহমদ” নামকে সংযুক্ত করে নেয়া। যা জান্নাতী হওয়ার উত্তম তরীক্বাহ। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনার রহমত-বরকত হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












