নতুন শিক্ষাক্রমে আতঙ্কে, কষ্টে, ভয়ে, বিরক্তিতে, ক্ষোভে আছে প্রায় সব শিক্ষক। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না
, ২২ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৮ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০৭ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আপনাদের মতামত
নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নন। তারা বলেছেন, স্কুলশিক্ষার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করি। তাই এই স্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই নতুন শিক্ষাক্রম অন্য দেশের শিক্ষাক্রম থেকে অনুবাদ করে চালানো হচ্ছে। বর্তমান সরকার সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করেছিলো। এর কোনো মূল্যায়নই তারা করেনি, বরং এই পদ্ধতি গাইডনির্ভরতা বাড়িয়েছে। খেলার মাঠ, গবেষণাগার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতসহ আনুষঙ্গিক আয়োজন না করে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
চলতি মাসে সামষ্টিক মূল্যায়ন নিয়ে মাউশির নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নতুন শিক্ষাক্রমে পারদর্শিতার সূচক (পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর) অনুযায়ী ফল প্রকাশ করা হবে। সূচক ধরে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করে ত্রিভুজ, বৃত্ত ও চতুর্ভুজ চিহ্ন দেবেন শিক্ষকরা। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ১০টি করে বিষয়। সেগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ধর্মশিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। সব বিষয়েই চিহ্ন দিয়ে মূল্যায়ন করবে শিক্ষকরা।
নির্দেশিকার ‘শ্রেণি উন্নয়ন নীতিমালা’ অংশের তথ্যানুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রথমত, শিক্ষার্থীর স্কুলে উপস্থিতির হার এবং দ্বিতীয়ত, বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতা। ৭০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি থাকলে তাকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসাবে ধরা হবে এবং পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা যাবে। দ্বিতীয়ত, সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ের ট্রান্সক্রিপ্টে সবগুলো পারদর্শিতার নির্দেশকে কোনো শিক্ষার্থীর অর্জনের মাত্রা যদি ‘চতুর্ভুজ’ স্তরে থাকে, তবে তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের জন্য বিবেচনা করা যাবে না। নতুন শিক্ষাক্রমের অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমানোর পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখা। কিন্তু বছর শেষে উলটো চিত্র দেখছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকের কাছে মূল্যায়ন রাখায় শিক্ষার্থীদের জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা। সন্তানের ভালো ফলাফলের আশায় শিক্ষকের বাসায় বাসায় ধরনা দিচ্ছেন অনেক অভিভাবক।
এদিকে শিক্ষকরা বলছেন, এখন আগের চেয়ে তাদের কাজের চাপ বেড়েছে। স্কুলে সময় দিতে হচ্ছে বেশি, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নেও সময় লাগছে। শ্রেণি-কার্যক্রমের ব্যাপারটি ঠিকমতো বুঝে উঠতে সময় লাগছে। নতুন পদ্ধতিতে ব্যাবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি তাত্ত্বিক শিক্ষার গুরুত্ব কম। এখন শিক্ষার্থীরা লিখতে গিয়ে বানান ভুল করছে। তারা আনন্দের সঙ্গে যা জানছে, তা পরবর্তীকালে মনে রাখতে পারছে না।
নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শিখন যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে কতটা অগ্রসর হয়েছে, তা ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত ইত্যাদি সূচকের মাধ্যমে ট্রান্সক্রিপ্টে উল্লেখ করা হচ্ছে। এসব সূচক দেখে অভিভাবকরা বুঝতে পারছেন না যে, শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ কোন পর্যায়ে আছে। স্কুলে তারা কী পড়ছে এবং বাসায় কী পড়াতে হবে। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রকল্প বানানোর জন্য নানারকম শিক্ষা উপকরণ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন মফস্বল ও গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার পেছনে এ বিষয়টি প্রভাব রাখবে কি না, তাও প্রশ্নের বিষয়।
মুহম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












