ধানে নয়, খড়েই টিকে থাকার লড়াই কৃষকের
, ০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) তাজা খবর
এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন পবা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। জমি নিজের না হলে বর্গা নিলে খরচ যোগ হয়ে তা ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। জমি প্রস্তুত, বীজতলা, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক মজুরি, ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন-প্রতিটি ধাপেই আগের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে যে কাজ ৪০০-৫০০ টাকায় হতো, এখন ৮০০-১০০০ টাকা লাগে। ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। তখন বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয় বা মেশিন আনতে হয়। এখন ধান ভালো হইলেও লাভ থাকে না। খরচ বেশি। ধানের দাম বাড়ে না। শেষ পর্যন্ত খড়টাই শুধু লাভ থাকে।’
কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে গড়ে ২১ থেকে ২২ মণ ধান উৎপাদন হলেও প্রতি মণের উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১২০ টাকা। ফলে বাজারদর উৎপাদন খরচের নিচে থাকায় কৃষকের হাতে লাভ থাকছে না। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ১ হাজার টাকা খরচ হয়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা যেতো, এখন সেই হিসাব পুরোপুরি বদলে গেছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক আল মামুনের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে ২১ মণ ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে সংসারের প্রয়োজন ও দেনা পরিশোধের চাপে ১২ মণ ধান ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে কিছু খরচের টাকা উঠলেও লাভ বলতে কিছু থাকেনি তার হাতে।
আল মামুন বলেন, ‘বাড়িতে দুইটা গরু আছে। তাই জমির খড়গুলোই আমার লাভ। আমরা ধান চাষ বন্ধ করতে পারি না। ঘরের খাবারের জন্য ধান লাগবেই। কিন্তু বাজারে বিক্রি করে লাভ হয় না। ছোট কৃষক আর বর্গাচাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে।’
কৃষকদের ভাষ্যমতে, ধানের পাশাপাশি খড় এখন আলাদা অর্থনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। যাদের গরু-ছাগল আছে, তারা খড় ব্যবহার করতে পারেন। আবার কেউ কেউ খড় বিক্রি করেও কিছু টাকা পান। কিন্তু সেটি মূল ফসলের লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার মতো নয়। তারপরও কৃষকরা বলছেন, ধান বিক্রিতে লাভ না থাকলে অন্তত খড় বিক্রি করে কিছুটা স্বস্তি খোঁজেন।
রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফলন মোটামুটি ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে। বিশেষ করে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি কৃষকদের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। অনেক বর্গাচাষি জমির মালিককে ভাগ বা ভাড়া দেওয়ার পর নিজের জন্য সামান্য ধানও রাখতে পারছেন না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাদকে বাড়ছে সংঘাত
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ভারতের আন্দোলনের সফলতাকে নিজেদের বলে দাবি করেছে জামাতের বুদ্ধিজীবীরা’
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
রাসায়নিক দিয়ে নারীদের হাত পুড়িয়ে জ্বীনের ভয়, গ্রেফতার ৩
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘আগে ২-৩ হাজার টাকা আয় করতাম, এখন ১ হাজারও হচ্ছে না’
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে উগ্রবাদের আশঙ্কাজনক কোনো আলামত দেখছি না -সিটিটিসি প্রধান
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কাজ পেতে মরিয়া সামিট -আগ্রহী চীনা কোম্পানিও
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গ্যাস সংকটে ধুঁকছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিং বৃদ্ধির শঙ্কা
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগর
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইবিতে নজিরবিহীন ভর্তি জালিয়াতি, প্রথম সেমিস্টার শেষে ধরা পরল ভুয়া ছাত্রী
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্নাতক পাসে চাকরি দিচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক, আবেদন অনলাইনে
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাগেরহাটে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












