সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
দুনিয়ার মুহব্বত সমস্ত পাপের মূল (১ম পর্ব)
, ২৩ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ১১১নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰى مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَـهُمْ بِأَنَّ لـَهُمُ الْـجَنَّةَ.
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত উনার বিনিময়ে মু’মিনদের জান এবং মাল ক্রয় করেছেন ।
উপরোক্ত মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক জানিয়েছেন, মু’মিনদের জান-মাল জান্নাতে বিনিময়ে মহান আল্লাহ উনার নিকট বিক্রি হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ কোনোটিই মু’মিনদের অধিকারে নেই। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে জান দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে এবং উনার পথেই মাল-সম্পদ খরচ করতে হবে। কিন্তু দেখা যায় মানুষ দুনিয়ার পিছনেই তার জান-মাল ব্যয় করে থাকে।
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
سَيَأْتِىْ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يـُحِبُّوْنَ خَمْسًا وَيَنْسَوْنَ خَـمْسًا .يُحِبُّوْنَ الدُّنْيَا وَيَنْسَوْنَ الْآٰخِرَةِ يـُحِبُّوْنَ الْمَالَ وَيَنْسَوْنَ الْحِسَابَ يُـحِبُّوْنَ الْـخَلْقَ وَيَنْسَوْنَ الْـخَالِقَ يُـحِبُّوْنَ الْقُصُوْرَ وَيَنْسَوْنَ الْمَقْبَرَ وَيـُحِبُّوْنَ الذُّنُوْبَ وَيَنْسَوْنَ التَّوْبَةَ.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অচিরেই মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে, তারা পাঁচটি বিষয়কে মুহাব্বত করবে এবং পাঁচটি বিষয়কে ভুলে যাবে।
১. দুনিয়াকে মুহাব্বত করবে এবং পরকালকে ভুলে যাবে
২. মাল-সম্পদকে মুহাব্বত করবে এবং হিসাব ভুলে যাবে
৩. সৃষ্টিকে মুহাব্বত করবে এবং ¯্রষ্টার কথা ভুলে যাবে
৪. অট্টালিকাকে মুহাব্বত করবে এবং কবরকে ভুলে যাবে
৫. গুনাহকে মুহাব্বত করবে এবং তওবাকে ভুলে যাবে।
মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার প্রতিটি বিষয়ই এই আখিরী যামানায় মানুষের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিষয়গুলো আলোকপাত করা হল:
বর্তমানে মানুষ পরকালে আমলের হিসাবের কথা ভুলে গিয়ে অধিক পরিমাণে দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে মাল-সম্পদ জমা করে। যার ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করতে পারেনা। কিন্তু বান্দার উচিত পরকালের কথা স্মরণ করে নিজের জন্যই মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করা।
অপরদিকে সৃষ্টিকে মুহাব্বত করার কারণেই মানুষ ¯্রষ্টাকে ভুলে যায় অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করার কথা ভুলে গিয়ে আতœীয়-স্বজন, পিতা-মাতা, স্বামী-সন্তান, সমাজ ও সরকারকে সন্তুষ্ট করে এবং তাদেরকেই প্রাধান্য দেয়। ফলে তার কাছে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম-আহকামের গুরুত্ব থাকে না।
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অবারিত ধারায় যে নিয়ামত মুবারক দিয়ে যাচ্ছেন তার শুকরিয়া আদায় করে না এবং উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাসিলের কোশেশ করে না। এর ফলে পরকালে তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচা সম্ভব হবে না।
আরো উল্লেখ্য যে, মানুষ অট্টালিকাকে মুহাব্বত করে কিন্তু কবরকে ভুলে যায়। যার কারণে পরকালের জন্য কোনো নেক আমল করতে পারে না। সর্বক্ষেত্রেই সে তার নিজের মতকেই প্রাধান্য দেয়।
অপরদিকে মানুষ তওবাকে ভুলে গিয়ে গুনাহকে মুহাব্বত করে। যেমন ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, কাফেরদেরকে মুহাব্বত করা, তাদের অনুসরণ করা ও তাদেরকে সম্মান করা এবং অশ্লীল কাজ করা ইত্যাদি হারাম-নাজায়িয হওয়া সত্ত্বেও মানুষ এ সমস্ত কাজে মশগুল থাকে। ফলশ্রুতিতে তারা তওবাকে ভুলে যায়। অথচ বান্দার উচিত সর্বদা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোশেশ করা এবং তওবা-ইস্তেগফারের উপর অবিচল থাকা। কেননা যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর তওবা করেনা, তার তওবা নসীব হবে না।
এ জন্য তওবার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَجِّلُوْا بِالتَّوْبَةِ قَبْلَ الْمَوْتِ عَجِّلُوْا بِاِسْتِعْدَادِ الْمَوْتِ قَبْلَ نُزُوْلِ الْمَلَكِ الْمَوْتِ
অর্থ: তোমরা মৃত্যুর পূর্বেই তাড়াতাড়ি তওবা কর এবং মালাকুল মউত নাযিল হওয়ার পূর্বেই তোমরা তাড়াতাড়ি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর।
কাজেই সময়কে গণিমত মনে করে হায়াত থাকতেই তওবা-ইস্তেগফার করে নেক কাজে মশগুল হওয়া উচিত।
গুনাহ করার সাথে সাথে তওবা ইস্তেগফার করতে হবে, তাহলে তওবা কবুল হবে। কিন্তু যে গুনাহ করে তওবা করেনা, তার তওবা নসীব হবে না।
(সংকলনে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (৩য় পর্ব)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (২)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (২য় পর্ব)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












