সুন্নত মুবারক তা’লীম
দস্তরখানা ব্যবহারের গুরুত্ব-ফযীলত ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
, ১৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
سَمِعَ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَقُوْلُ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْنِي بِسَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الْعَاشِرَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ عَلَيْهَا السَّلَامُ) فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِيْنَ إِلٰى وَلِيْمَتِهٖ أَمَرَ بِالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَأُلْقِيَ عَلَيْهَا التَّمْرُ وَالأَقِطُ وَالسَّمْنُ وَقَالَ حَضْرَتْ عَمْرٌو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ بَنٰى بِهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ.
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে গ্রহণ করলেন। আমি (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) মহাসম্মানিত ওলীমা মুবারকের জন্য মুসলমানদের দাওয়াত করলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকে দস্তরখানা বিছানো হলো। তারপর তার উপর খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হলো। হযরত ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে গ্রহণ করলেন এবং চামড়ার দস্তরখানায় ‘হায়েস’ (ঘি, খেজুর ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো খাবার) প্রস্তুত করলেন। (বুখারী শরীফ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৫৩৮৭)
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওলীমা মুবারকের মধ্যেও দস্তরখানার বিশেষ ব্যবস্থা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে বিবাহের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মহাসম্মানিত সুন্নতী দস্তরখানার ব্যবহার দেখা যায় না। কিন্তু উপরোক্ত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, চেয়ার-টেবিলে নয়; বরং দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক। আর চেয়ার-টেবিলে খাদ্য খাওয়া সু¯পষ্ট বিদ্আত-গোমরাহী ও জায়িয মনে করা কুফরী।
জান্নাতবাসী উনাদেরকেও দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়ানো হবে
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ مَّسَحَ فِيْهِ عَلٰى رَأْسِ يَتِيْمَ وَاَطْعَمَ جَائِعًا وَسَقٰى شَرْبَةً مِّنْ مَّاءِ أَطْعَمَهُ اللهُ مِنْ مَّوَائِدِ الْـجَنَّةِ وَسَقَاهُ اللهُ تَعَالٰى مِنَ الرَّحِيْقِ الْسَلْسَبِيْلِ.
অর্থ: “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন কোন (মুসলমান) ব্যক্তি যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলায় অর্থাৎ খোঁজ খবর নেয়, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সম্মানিত জান্নাতী “দস্তরখানায়” খাদ্য খাওয়াবেন এবং সম্মানিত ‘জান্নাতী সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন। ” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সম্মানিত জান্নাতেও দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়ানো হবে। কাজেই দস্তরখানা ব্যবহারের গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মৃত ব্যক্তির কবরে তালক্বীন দেওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১)
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মাইয়্যিতের জানাযা নামাযের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (২)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাইয়্যিতের জানাযা নামাযের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মাইয়্যিতকে কাফনের কাপড় পরিধান করানোর মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘পনির’
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাইয়্যিতকে গোসল দেয়ার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
চেয়ার-টেবিলে খাবার খাওয়া বিদয়াত; খাছ ফতওয়া মতে হারাম
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












