তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (১০)
, ৬ই রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৮ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ৭ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ২০ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সুওয়া’ মূর্তি ধ্বংস করার নির্দেশ মুবারক:
১ম দলীল
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে একদল সৈন্যসহ হুযায়েল গোত্রের (سُوَاع) সুওয়া’ নামক বড় মূর্তিটি ধ্বংস করার জন্য প্রেরণ করেন। (আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্ ৩/২০৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশীদ ৬/১৯৮, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ১/৩৯৫, শরহুয যারক্বানী ৩/৪৯০, উয়ূনুল আছার ২/২৩৩, আল মুন্তাযিম ফী তারীখুল মুলুক ওয়াল উমাম ৩/৩৩০ ইত্যাদি)
২য় দলীল
এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে রিহাত্ব নামক অঞ্চলে ছিলো। হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সেখানে পৌঁছলে মন্দির প্রহরী বললো, ‘আপনারা কি চান?’ হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন,
اَمَرَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ اُهْدِمَهٗ
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন যে, আমি যেন এই মূর্তিটিকে ভেঙ্গে ফেলি। ’ সে বললো, ‘আপনারা এটা ভাঙ্গতে সক্ষম হবেন না। ’ হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘কেন?’ সে বললো, ‘আপনারা (প্রাকৃতিকভাবে) বাধাপ্রাপ্ত হবেন। ’ হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘তুমি এখনো বাত্বিল ধর্মের উপরে রয়েছ? সে কি শুনতে পায় অথবা দেখতে পায়?’ এ কথা বলেই তিনি كَسَّرَهٗ ঐ মূর্তিটাকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। অতঃপর প্রহরীকে বললেন, এবার তোমার মত কি? সে বললো, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য আমি মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলাম। ’ সুবহানাল্লাহ! (তারীখ ত্বাবারী ৩/৬৬, যাদুল মা‘আদ ৩/৩৬৫, ইবনে সা‘দ, ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ২/১৪৬ ইত্যাদি)
মানাত মূর্তি ধ্বংস করার নির্দেশ মুবারক:
১ম দলীল
(مَنَاة) মানাত নামক আরেকটি প্রসিদ্ধ মূর্তি ছিলো কুদাইদের নিকটবর্তী মুশাল্লাল নামক স্থানে। বিশেষ করে আউস, খাযরাজ, গাসসান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা এটার পূজা করতো। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর
بَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ سَعْدَ بْنَ زَيْدِ ۣ الْاَشْهَلِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لِهَدْمِهَا فَخَرَجَ فِىْ عِشْرِيْنَ فَارِسًا
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে (مَنَاة) মানাত নামক মূর্তিকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তখন তিনি ২০ জন ঘোরসওয়ারী সৈন্য নিয়ে এই উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। ’ (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৬/১৯৯)
২য় দলীল
উনারা সেখানে যান। অতঃপর হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মূর্তিটির দিকে অগ্রসর হওয়া মাত্রই বস্ত্রহীন, কুৎসিত কালো ও বিক্ষিপ্ত চুল বিশিষ্ট একটি মহিলাকে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বের হয়ে আসতে দেখেন। এই সময় সে কেবল হায় হায় করছিলো।
فَضَرَبَهَا حَضْرَتْ سَعْدُ بْنُ زَيْدِ ۣ اَلْاَشْهَلِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَقَتَلَهَا وَهَدَمَ مَحَلَّهَا
‘তখন হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তরবারির এক আঘাতে তাকে ধ্বংস করে দিলেন। অতঃপর মন্দিরটিও ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। ’ সুবহানাল্লাহ!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তিনটি বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের ১২ হাজার কুরবানী করার ঐতিহাসিক অকাট্য দলীল (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












