ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে
, ০১ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৪ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) দেশের খবর
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এনসিটির চুক্তিটি নন ডিসক্লোজার বা গোপন চুক্তি হওয়ায় সব তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে চুক্তির যতটুকু নৌ মন্ত্রণালয় ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- সব দিক থেকেই এই চুক্তিটি দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। বলা চলে, বিকিয়ে দেয়া হয়েছে দেশের স্বার্থ! চলুন প্রকাশিত ৬’টি তথ্য বিশ্লেষণ করি-
চুক্তির ধরণ: কনসেশন চুক্তি, নট টার্মিনাল অপারেটর;
আমাদের বক্তব্য: সরকার বলছে- ডিপি ওয়ার্ল্ডকে শুধু অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি অপারেটর নয়, কনসেশনিয়ার। অপারেটর ও কনসেশনিয়ার এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই বিষয়ে ৬ নম্বর ইস্যুতে আলোচনা আসবে।
পূর্বশর্ত: দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে ডিপি ওয়ার্ল্ড আপফ্রন্ট বা অগ্রিম ফি হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে;
আমাদের বক্তব্য: এই ফি ধরা হয়েছে এনসিটি নির্মান ব্যয়কে সামনে রেখে। অথচ এনসিটি নির্মান ২০০৪-২০০৭ এ টার্মিনালটির মূল জেটি ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক খরচ ছিল প্রায় ৫৬৭ কোটি থেকে ৭৩৭ কোটি টাকা। কিন্তু টাকার ভ্যালু হ্রাস পাওয়ায় ২০২৬ সালে একইরকম অবকাঠামো নির্মান করতে গেলে অন্তত ৩/৪ গুণ বেশি টাকা গুণতে হবে। মানে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লাগবে।
এরপর পরবর্তীতে গ্যান্ট্রি ক্রেন, ইয়ার্ড ও অন্যান্য ভারি যন্ত্রপাতি কেনাসহ ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই/আড়াই হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এনসিটির অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকা।
শুধু তাই না, এটি লাভজনক একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল- এর ভ্যালু কতো? গত ১ বছরেই তো আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় করেছে এনসিটি। প্রতিবছরই এই আয় বাড়ছে- এর ভ্যালু কতো হাজার কোটি টাকা?
অথচ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে টার্মিনালটির মূল্য বা আপফ্রন্ট ফি হিসেবে। যার মাধ্যমে দেশের জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহভাবে ক্ষুণœ হয়েছে।
কত বিনিয়োগ করবে: ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালটির আধুনিকায়নে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে।
আমাদের বক্তব্য: মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে, তাও ১০ বছরে। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটির নিট প্রফিট ছিলো প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিপি ওয়ার্ল্ড আগামী দশ বছরে যে পরিমান (১০০০ কোটি) বিনিয়োগ করবে, আমাদের এনসিটির এক বছরের আয় তার আড়াই গুণ। মানে সরকার চাইলে এক বছরের আয় বন্দরের আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করলেও ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১০ বছরের বিনিয়োগের পরিমাণের থেকে অনেক বেশি হতো। আর দশ বছরের নিট প্রফিট হিসাব করলে দাঁড়াবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই টাকাগুলো দেশের রিজার্ভে যুক্ত না হয়ে এখন জমা হবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের এ্যাকাউন্টে।
তাহলে সরকার নিজে বিনিয়োগ না করে সর্বস্ব ত্যাগ করে পরনির্ভরশীল হওয়ার মানে কী? তার মানে এখানে দেশের স্বার্থ মারাত্মকভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে।
কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও সক্ষমতা : ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বার্ষিক ন্যূনতম ১২ লক্ষ ৩০ হাজার (১.২৩ মিলিয়ন) টিইইউ ইউনিট কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এই ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউতে নামিয়ে আনার সুযোগ থাকবে।
আমাদের বক্তব্য: অলরেডি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টিইইউ ইউনিট কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে ফেলেছে। প্রতি বছর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড ভাঙ্গা হচ্ছে।
তার মানে হলো- এতোদিন যেসব গাল-গল্প আমাদের শোনানো হয়েছে যে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে বন্দর গেলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, আধুনিক হবে ইত্যাদি শুধুই মুখ সর্বস্ব ও গলাবাজি বৈ অন্য কিছু নয়। কারণ ডিপি ওয়ার্ল্ডের বাৎসরিক সক্ষমতা ধরা হয়েছে ১২ লক্ষ ৩০ হাজার টিইইউ ইউনিট কনটেইনার। অথচ এর চেয়ে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টিইইউ ইউনিট কনটেইনার তথা ১ লক্ষ ৫৫ হাজার কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডিলিং হচ্ছে দেশীয় ব্যবস্থাপনায়। এখানেও দেশের স্বার্থ ভূলণ্ঠিত হয়েছে। যদি এমন হতো যে, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি যেখানে ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টিইইউ ইউনিট কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড সেখানে ২০/৩০ টিইইউ ইউনিট কনটেইনার হ্যান্ডলিং করবে- তাহলে ধরে নেয়া যেতো যে, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিলে সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। শুনলাম শুধু মুখের বুলি ও কিছু ভূয়া আশ্বাস!
রেভিনিউ শেয়ারিং বা আয় বণ্টন: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গড় টার্মিনাল আয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি কনটেইনারের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ পাবে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট ফি দেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।
আমাদের উত্তর: এই অংশটি অস্পষ্ট। তবে চুক্তির পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই অংশটির ব্যাপারে যেসব নিউজ ছাপা হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- রেভিনিউ শেয়ারিংয়ে বাংলাদেশ প্রতি বছরে প্রায় ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা হারাবে। তবে এই অংশটি সরকার স্পষ্ট করলে আমরা আরো এ্যাকিউরেট হিসাবটা দিতে পারবো। আপাতত গণমাধ্যমে প্রকাশিত পূর্বের-পরের তথ্য অনুযায়ী হিসাব দিচ্ছি-
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কনসেশনে দেয়ার ফলে বছরে প্রায় প্রায় ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি গুনতে হবে বাংলাদেশকে। বর্তমান দেশীয় ব্যবস্থাপনায় অর্জিত আয় ও ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রস্তাবিত রেভিনিউ বা আয়ের তুলনামূলক পার্থক্য করলেই সম্পূর্ণ হিসাব বের হয়ে আসবে। চলুন হিসাব করে দেখি-
“২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতি টিইইউতে এনসিটির গ্রোস রেভিনিউ ছিল ১৬১.৮২ ডলার। এর মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের দুই ধরণের প্রশাসনিক ব্যয় হয়- পরিবর্তনশীল পরিচালন খরচ (প্রায় ১৩.৬৩ ডলার) এবং স্থায়ী প্রশাসনিক খরচ (প্রায় ৪১.৩২ ডলার); মোট প্রশাসনিক খরচ ৫৪.৯৫ বা ৫৫ ডলার প্রায় ...... (তথ্যসূত্র -১ : দৈনিক বণিক বার্তা ২৩ জুন ২০২৬, লিংক কমেন্টে)
গ্রোস রেভিনিউ ১৬১.৮২ ডলার থেকে প্রশাসনিক খরচ বাবদ ৫৫ ডলার বাদ দিলে প্রতি টিইইউ’স কন্টেইনারে এনসিটির নিট আয় হয় ১০৬.৮২ ডলার।
এনসিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) গত এক বছরে ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টিইইউ’স কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। ...... (তথ্যসূত্র -২: প্রথম আলো, ২৭ জুলাই, ২০২৬, লিংক কমেন্টে)
অতএব, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটির বাৎসরিক নিট আয় দাঁড়ায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার। (১০৬.৮২দ্ধ১৩,৮৫,০০০স্ট১ মিলিয়ন= ১৪৭.৯৫ বা প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১,৮২৪ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা।)।
বিপরীতে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব অনুসারে, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রতি কনটেইনারে ১৬১.৮২ ডলার রাজস্ব আয়ের বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দরকে সর্বোচ্চ ৯৭.৫০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।”...... (তথ্যসূত্র -৩: দৈনিক যুগান্তর, ২১ জুন ২০২৬, লিংক কমেন্টে)
আবার উপরেল্লিখিত স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ ৫৫ ডলার বন্দর কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। ...... (তথ্যসূত্র -১ : দৈনিক বণিক বার্তা ২৩ জুন ২০২৬, লিংক কমেন্টে)
ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রস্তাবিত ৯৭.৫০ ডলার থেকে স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক খরচ বাবদ ৫৫ ডলার বাদ দিলে প্রতি টিইইউস কন্টেইনারে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিট আয় থাকে মাত্র ৪২.৫ ডলার।
ডিপি ওয়ার্ড এর সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী তারা বাৎসরিক কমপক্ষে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইউইড’স কন্টেইনার হ্যান্ডিলিং করবে। ......(তথ্যসূত্র -৪: নৌ মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেইজ, লিংক কমেন্টে)
অতএব, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর ব্যবস্থাপনায় চলে গেলে এনসিটির বাৎসরিক নিট আয় দাঁড়াবে ৫২.৩ মিলিয়ন ডলার প্রায়। (৪২.৫ দ্ধ ১২,৩০,০০০ স্ট ১ মিলিয়ন = ৫২.২৭৫ মিলিয়ন ডলার)
ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে আয় আসবে খুবই সামান্য। অর্থাৎ বন্দর কর্তৃপক্ষের বার্ষিক নিট আয় প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার থেকে নেমে আসবে মাত্র ৫২.৩ ডলারে। “যেটা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের আর্থিক বিশ্লেষণকারী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন কমিটিও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।” ...... (তথ্যসূত্র -১ : দৈনিক বণিক বার্তা ২৩ জুন ২০২৬, লিংক কমেন্টে)
এই প্রশ্ন তোলাটা অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় যেখানে বছরে নিট আয় হয় প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দিলে নিট আয় নেমে আসবে মাত্র ৫২.৩ মিলিয়ন ডলারে। আয়ের পার্থক্য দাঁড়াবে প্রায় ৯৫.৬০ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেয়ার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,১৭৮ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা) আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি গুনতে হবে বাংলাদেশকে। অথচ ডিপি ওয়ার্ল্ড আগামী দশ বছরে বিনিয়োগ করবে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা।
তার মানে এখানেও দেশের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণœ হয়েছে।
এখানে একটি প্রশ্ন তারা করতে পারে-
সেটা হলো- এই ৯৫ মিলিয়ন ডলার লোকসান হলেও টার্মিনালটি আধুনিক হবে ও সক্ষমতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক মানের একটি টার্মিনাল হবে!
আরে ভাই, সক্ষমতা বাড়ার প্যারামিটার কী? অবশ্যই অধিক কন্টোইনার হ্যান্ডেলিং। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটি তো দেশীয় সক্ষমতার চেয় অনেক কম। তাহলে সক্ষমতা বাড়বে- এটি বলা তো অবান্তর! আর এনসিটি ২০১৭ সাল থেকেই তো আন্তর্জাতিক মানের একটি টার্মিনাল হয়ে আছে। এটাকে নতুন করে আন্তর্জাতিক মানের করা হবে মর্মে যেসব বক্তব্য পাওয়া যায় সেগুলো নিছক গালগল্প।
৬. পরনির্ভরশীল মডেল:
সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনাম কি বাংলাদেশের মতো বিদেশীদের হাতে বন্দর তুলে দিয়েছে?
আমাদের বক্তব্য: বাংলাদেশ তার প্রধান ও আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ‘এনসিটি’কে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যেভাবে এককভাবে ১০০% কনসেশন চুক্তিতে তুলে দিয়েছে, পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশ তাদের প্রধান বা ব্যস্ততম বন্দরগুলো এককভাবে কোনো বিদেশী অপারেটরের হাতে তুলে দেয় না।
যেমন- সিঙ্গাপুর পোর্টের ৫টি কন্টেইনার টার্মিনালের সবগুলো সিঙ্গাপুর নিজেই অপারেট করে। সিঙ্গাপুর এখানে কোনো বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেয় নি।
একইভাবে, ভিয়েতনামের বৃহত্তম এবং দেশের একক ব্যস্ততম কন্টেইনার টার্মিনাল, “ক্যাট লাই কন্টেইনার টার্মিনাল”- যা হো চি মিন সিটিতে অবস্থিত, এই টার্মিনালে কোনো বিদেশী অপারেটর নিয়োগের সুযোগ দেয়নি ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় এবং সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত শীর্ষ পোর্ট অপারেটর কোম্পানি “সাইগন নিউপোর্ট কর্পোরেশন”- এই ক্যাট লাই টার্মিনালটির ১০০% মালিকানা ধরে রেখেছে এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব দক্ষতায় এটি পরিচালনা করছে।
ভিয়েতনাম তাদের মূল বন্দরটি শতভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ধরে রেখে তাদের কাই মেপ ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনালসহ বেশকিছু টার্মিানাল জয়েন ভেঞ্চার বা যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত করে। তবে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত করলেও প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভিয়েতনাম ৫১% এবং বিদেশী অপারেটরকে ৪৯ শতাংশ- এই মডেলে চালাচ্ছে। ফলে বিদেশী অপারেটর থাকলেও নিয়ন্ত্রণ থাকছে ভিয়েতনামের হাতে।
কিন্তু বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ভিয়েতনামের কাই মেপ বা সিঙ্গাপুরের উদাহরণ একাতধিকবার উল্লেখ করলেও সেই মডেলে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিকে দেয় নি। বরং এককভাবে শতভাগ বিদেশী ব্যবস্থাপনায় দিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে দেশীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর সম্ভব হবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের উদীয়মান ‘পোর্ট অপারেটিং ইন্ডাস্ট্রি’কে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এনসিটির যে চুক্তিটি গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ করা হয়েছে, সেখানে পদে পদে দেশের স্বার্থ লঙ্ঘন বা বিকিয়ে দেয়া হয়েছে। চুক্তির যতটুকু প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে “দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে”- এমন একটা দিকও নেই।
আমি এখানে শুধু অর্থনৈতিক দিকটা তুলে ধরেছি। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ঝুঁকির বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত করিনি। ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সেটি নিয়ে লিখবো সময় করে। ইনশাআল্লাহ!
-মুহম্মদ জিয়াউল হক।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পড়ে আছে বাবার লাশ, দাফনে বাধা কুলাঙ্গার সন্তানদের
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাগরে লঘুচাপের আভাস, টানা ৫ দিন বৃষ্টির আভাস
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ঢুকলেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাজারে অভিযান: ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পরিবার, সমাজ ও অনলাইনে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে -রাষ্ট্রপতি
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আইএমএফের ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে -অর্থমন্ত্রী
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৬২ লাখ প্রবীণকে ভাতা দিচ্ছে সরকার -সমাজকল্যাণ সচিব
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিকল্প পথে সৌদি যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে বিমান, অগ্রাধিকার পাবেন যারা
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মোংলা বন্দরের জন্য চীন থেকে ৩৫৯৩ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় ৫-৬ টাকা, মিলছে লোডশেডিং থেকে মুক্তি
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












