জামায়াতে নামায আদায় করার গুরুত্ব
, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রত্যেক আক্বেল, বালেগ, সুস্থ পুরুষের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায বা জামায়াত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা ওয়াজিবের নিকটবর্তী।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
مَنْ سَـمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَاْتِ فَلَا صَلَاةَ لَهٗ اِلَّا مِنْ عُذْرٍ وَفِىْ رِوَاَيَةٍ عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَقَدْ هَـمَمْتُ اَنْ اٰمُرَ فَتِيَّتِىْ اَنْ يَّـجْمَعُوْا حَزْمَ الْـحَطَبِ ثُـمَّ اٰمُرُ بِالصَّلَاةِ فَتَقَامُ ثُـمَّ اُحْرِقُ عَلٰى اَقْوَامٍ لَا يَشْهَدُوْنَ الصَّلَاةَ
অর্থ : যারা আযান শুনল, কিন্তু মসজিদে জামায়াতে আসলো না, তাদের নামায হবে না। তবে শরয়ী ওযর থাকলে ভিন্ন কথা। অন্য বর্ণনায় মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার ইচ্ছা হয়, আমার যুবক শ্রেণীদেরকে আদেশ দেই, যেন তারা আগুন জ্বালানোর কাঠ সংগ্রহ করে এবং নামায আদায় করার নির্দেশ দেই, আর জামায়াত শুরু হয়ে গেলে যারা মসজিদে জামায়াতে নামায পড়তে উপস্থিত হবে না, তাদের ঘরগুলো জ্বালিয়ে দেই। (তিরমিযীর হাশিয়া উরফুশ শাযী : ১/৫২, হাদীছ শরীফ নং ২১৭)
ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হাসান এবং ছহীহ বলেছেন। তিনি আরও বলেন, “অগণিত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে এই বর্ণনাও রয়েছে যে, যারা ওযর ব্যতীত আযানের পরে জামায়াতে শরীক হবে না, তাদের নামায হবে না।
এ প্রসঙ্গে ‘আবূ দাঊদ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ حَافِظُوْا عَلٰى هٰؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ الْـخَمْسِ حَيْثُ يُنَادٰى بِـهِنَّ فَاِنَّـهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْـهُدٰى وَاِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْـهُدٰى وَلَقَدْ رَايْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا اِلَّا مُنَافِقٌ بَيِّنُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ رَاَيْتُنَا وَاَنَّ الرَّجُلَ لَيُهَادٰى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتّٰى يُقَامَ فِى الصَّفِّ وَمَا مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ اِلَّا وَلَهٗ مَسْجِدٌ فِىْ بَيْتِهٖ وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِىْ بُيُوْتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَكَفَرْتُـمْ.وَفِىْ رِوَايَةِ مُسْلِمٍ لَضَلَلْتُمْ.
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সঠিকভাবে আযানের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত ছলাতের প্রতি সবিশেষ নযর রাখবে। কেননা এই পাঁচ ওয়াক্ত ছলাতই হচ্ছে হিদায়াতের পথ। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য হিদায়াতের এ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের (সাধারণ) ধারণা, স্পষ্ট মুনাফিক্ব ব্যতীত কেউ জামা‘আত থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে না। আমরা তো আমাদের মধ্যে এমন লোকও দেখেছি, যারা (দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে) দু’জনের উপর ভর করে (মসজিদে) যেতেন এবং উনাকে (সম্মানিত ছলাত উনার) কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হতো। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার ঘরে তার মসজিদ (সম্মানিত ছলাত উনার স্থান) নেই। এতদসত্ত্বেও তোমরা যদি মসজিদে আসা বন্ধ করে দিয়ে তোমাদের ঘরেই (ফরয) ছলাত আদায় কর, তাহলে তোমরা তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক বর্জন করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক পরিত্যাগ করো, তথা তোমরা যদি মসজিদে আসা বন্ধ করো- তাহলে অবশ্যই তোমরা সুস্পষ্ট কুফরী করলে, তথা তোমরা কাফির/গুমরাহ হয়ে গেলে। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ)
‘ছহীহ মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, মসজিদে আসা বন্ধ করলে ‘তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে’ বা গোমরাহ হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, যে ব্যক্তি দিনে রোযা রাখে ও রাত্রিতে তাহাজ্জুদ পড়ে কিন্তু জামায়াত ও পবিত্র জুমুয়ায় উপস্থিত হয় না। তার উত্তরে তিনি বলেছেন যে, উক্ত ব্যক্তি দোযখে তথা জাহান্নামে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
তাই ফিক্বাহর কিতাব “জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ” কিতাবের ১ম খন্ডের ৭৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
اَلْـجَمَاعَةُ سُنَّةٌ مُّؤَكَّدَةٌ اَىْ قَرِيْبَةٌ مِّنَ الْوَاجِبِ.
অর্থ : জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ ওয়াজিবের নিকটবর্তী।
উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহ দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হলো যে, শরয়ী ওজর ব্যতীত জামায়াত তরক করা কবীরা গোনাহ ও কুফরী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপদেশ মুবারক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












