সুন্নত মুবারক তা’লীম
চিকিৎসা গ্রহণ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
, ২৪ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক রোগের সাথে শেফাও পাঠিয়েছেন:
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ قَالَ مَا أَنْزَلَ اللهُ دَاءً إِلاَّ أَنْزَلَ لَهٗ شِفَاءً
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি অর্থাৎ প্রত্যেক রোগের আরোগ্যতাও দান করেছেন। ” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ: কিতাবুত ত্বিব, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৬৭৮)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ قَالَ مَا أَنْزَلَ اللهُ دَاءً إِلاَّ أَنْزَلَ لَهٗ دَوَاءً
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোন রোগ পাঠাননি যার প্রতিষেধকও পাঠাননি অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি রোগের সাথে সাথে তার ঔষধও পাঠিয়ে থাকেন সুবহানাল্লাহ। ” (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুত ত্বিব, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৪৩৮)
প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ আছে। রোগ অনুযায়ী ঔষধ প্রয়োগ হলে, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইচ্ছায় রোগ ভালো হয়ে যায়।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ আছে। যদি কোন রোগের সঠিক ঔষধ প্রদত্ত হয় অর্থাৎ রোগ অনুযায়ী যদি ঔষধ প্রয়োগ হয় বা মিলে যায়, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত অনুমতিক্রমে বা মুবারক ইচ্ছায় রোগী ব্যক্তি রোগ থেকে মুক্তি লাভ করে। (মুসলিম শরীফ)
মৃত্যু ও বার্ধ্যক্য ছাড়া সকল রোগের চিকিৎসা গ্রহণের মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيْكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عِبَادَ اللهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهٗ شِفَاءً أَوْ قَالَ دَوَاءً إِلاَّ دَاءً وَاحِدًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ! يَا حَبِيْبَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ! وَمَا هُوَ؟ قَالَ" الْهَرَمُ
অর্থ: হযরত উসামা ইবনে শারীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাগণ, আপনারা চিকিৎসা গ্রহণ করুন, কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি, যার কোন প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি।
তবে একটি রোগ আছে যার কোন প্রতিষেধক নেই, তখন উনারা (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটি কি? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তা হলো “বার্ধক্য”। (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুত ত্বীব, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২০৩৮, সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ: ৩৪৩৬)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেমেছাল দৃষ্টান্ত মুবারক
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(قُلَّةٌ) কুল্লাহ্ বা মটকি-মটকা কুলফি অর্থাৎ মাটির পাত্র পানি রাখার বড় মাটির পাত্র:
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খুতবা প্রদানকালে লাঠি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খাবার রান্নায় চুলা ও ডেকচি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছুরি এবং চাকু দিয়ে খাবার কেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (২)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












