জীবনী মুবারক
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
বিলাদত শরীফ: হিজরতপূর্ব ১০ সন বিছাল শরীফ: ৯৩ হিজরী বয়স মুবারক: ১০৩ বছর
, ০১ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৮ খ্বমীছ ১৩৯১ শামসী সন , ১৭ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রি:, ০১ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নাম মুবারক আনাস, কুনিয়াত বা উপনাম মুবারক আবু হামযাহ, লক্বব মুবারক খাদিমু রসূলিল্লাহ, পিতার নাম মালিক ইবনে নদ্বর, মাতার নাম হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার আসল নাম নিয়ে মতভেদ আছে, যেমন সাহলা, রুমায়লা, রুমায়সা ইত্যাদি।
বিলাদত শরীফ ও পারিবারিক জীবন:
মদীনা শরীফের বিখ্যাত খাযরাজ গোত্রের বনু নাজ্জার শাখায় হিজরতের দশ বছর পূর্বে ৬১২ খৃ: সনে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পবিত্র বিলাদত শরীফ লাভ করেন। (আল-আ’লাম)
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চাচা হযরত আনাস বিন নদ্বর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উহুদের জিহাদে শহীদ হন। কাফিরেরা উনার পবিত্র দেহ টুকরা টুকরা করে বিকৃত করে ফেলেছিল। উনার পবিত্র দেহে মোট আশিটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। উনার এক বোন ছাড়া আর কেউ সেই জিসিম মুবারক শনাক্ত করতে পারেননি। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলতেন, আমার এই চাচা হযরত আনাস বিন নদ্বর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নামেই আমার নাম রাখা হয়। (হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মামা হযরত হারাম বিন মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিরে মাউনার দুঃখজনক ঘটনায় শাহাদাত বরণ করেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বয়স মুবারক যখন ৮/৯ বছর তখন উনার মাতা হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ইসলাম গ্রহণ করেন। এ কারণে উনার পিতা মালিক বিন নদ্বর ক্ষোভে দুঃখে শামে (সিরিয়া) চলে যায় এবং সেখানে কুফরী অবস্থায় মারা যায়। উনার পিতা চলে যাওয়ার পর মাতা হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার দ্বিতীয়বার বিবাহ হয় হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে। হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন খাযরাজ গোত্রের একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। উনার মা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সাথে করে হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ী নিয়ে যান। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এখানেই প্রতিপালিত হন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বয়স মুবারক যখন ৮/৯ বছর তখন মদীনা শরীফে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রচার শুরু হয়ে যায়। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কবুলের ব্যাপারে বনু নাজ্জার গোত্র সবার আগেই ছিল। এই খান্দানের বেশীর ভাগ সদস্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে আসার পূর্বেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনিও তৃতীয় আকাবার বাইয়াতের পূর্বেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। কাফির আহাল বা স্বামী থেকে আলাদা হয়ে হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বিবাহ করতে রাজী হন এই শর্তে যে, তিনিও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করবেন।
এভাবে হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার চেষ্টায় হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে মক্কা শরীফ যান এবং তৃতীয় আকাবায় শরীক হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে বা হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
এভাবে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ী ঈমানের আলোকে আলোকিত হয়ে যায়। উনার মাতা হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার এক আলোকবর্তিকা, আর উনার আহাল বা স্বামী সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার এক নিবেদিত কর্মী। এমনি এক পরিবেশে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বেড়ে উঠেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে:
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বয়স মুবারক যখন দশ বছর তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরত মুবারক করে পবিত্র মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক নেন। অল্প কিছুদিন পরেই হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উনার মাতা হাত ধরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিয়ে যান। এ সম্পর্কে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমার মা আমার হাত ধরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিয়ে গিয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আনছারদের প্রত্যেক নারী-পুরুষ আপনাকে কিছু না কিছু হাদিয়া মুবারক দিয়েছেন। আমি তো তেমন কিছু দিতে পারছি না। আমার এ ছেলেটি আছেন, তিনি লিখতে জানেন। আপনি উনাকেই গ্রহণ করুন, তিনি আপনার খিদমত মুবারক করবেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সেদিন থেকে আমি দশ বৎসর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করেছি। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি কখনও আমার উপর নারাজ হননি।
আমার কোন কাজের জন্য কখনও বলেননি, এ কাজটি আপনি কেন করলেন? আর আমি এমন কোনও কাজ করিনি, যে কাজের জন্য তিনি কখনও বলেননি, আপনি ভুল করেছেন, খুব খারাপ করেছেন।
এভাবে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক বিশেষ স্থান দখল করেন। তিনি মাঝে মধ্যে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের বাড়ী যেতেন, আহার করতেন, দুপুরের সময় হলে বিশ্রাম নিতেন, নামায আদায় করতেন ও হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জন্য দোয়া মুবারক করতেন। (মুসনাদে আহমদ) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












