কোন মু’মিন মুসলমান কখনই ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাসী হতে পারে না
, ১৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বলতে কোন রোগ নেই। যা সরাসরি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। রোগ-বালাই যা কিছুই হয়ে থাকে তা একমাত্র খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকেই এসে থাকে। সুতরাং রোগকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করার মানে হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে রোগের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করা। যা কাট্টা কুফরী এবং শিরকীর অন্তর্ভূক্ত।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حضرت زَيدِ بْنِ خَالِدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالحُدَيْبِيَّةِ فِي إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ هَلْ تَدْرُوْنَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ؟ قَالُوْا : اللهُ وَرَسُولُه أَعْلَمُ قَالَ قَالَ : أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِيْ مُؤْمِنٌ بِيْ وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ : مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِه فَذٰلِكَ مُؤْمِنٌ بِيْ كَافِرٌ بِالكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذٰلِكَ كَافِرٌ بِيْ مُؤْمِنٌ بِالكَوْكَبِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
অর্থ: হযরত যায়েদ ইবনে খালেদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা হুদাইবিয়া প্রান্তরে রাতে বৃষ্টি হলে আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ানোর পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের দিকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুর রহমত মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুখ মুবারক ফিরিয়ে বসে বললেন, তোমরা জান কি, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেন?’’ সকলে বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভাল জানেন। ’ তিনি বললেন, ‘‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কিছু বান্দা মু’মিন হয়ে ও কিছু কাফের হয়ে প্রভাত করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলেছে যে, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ ও উনার দয়ায় আমাদের উপর বৃষ্টি হল’, তিনি তো মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিশ্বাসী (মু’মিন)ও নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে ব্যক্তি বলেছে যে, ‘অমুক অমুক নক্ষত্রের ফলে আমাদের উপর বৃষ্টি হল’, সে তো মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অবিশ্বাসী তথা কাফির এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী।
(পবিত্র বুখারী শরীফ- ৮৪৬, ১০৩৮, পবিত্র মুসলিম শরীফ- ২৪০)
উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, দুনিয়াতে যা কিছুই ঘটে থাকে, হয়ে থাকে তা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত মু’মিন মুসলমান উনাদের বিশ্বাস। এর বিপরীত যারা আক্বীদা পোষণ করে থাকে তথা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে থাকে তারা কাট্টা কাফির ও মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত।
অনুরূপভাবে করোনা কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনিই যাকে ইচ্ছা এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত করেন। অন্য কারো ক্ষমতা নেই কারো মাঝে রোগ সৃষ্টি করে দেয়ার, যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি না চান। কাজেই, যারা করোনাকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করে থাকে তারা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অবিশ্বাসী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীককারী। সুতরাং কোন মুসলমান এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে পারে না বরং এই বিশ্বাসে বিশ্বাসীরা কাট্টা কাফির এবং মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত।
যিনি খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে কুফরী-শিরকী আক্বীদা থেকে হিফাজত করে আমাদেরকে হাক্বীক্বী মু’মিন মুসলমান হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন!
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












