ইলমুত তাযকিয়্যাহ:
কৃপণতার নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি
, ২০ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
সাখাওয়াত বা দানশীলতার বিপরীত হচ্ছে বুখল তথা কৃপণতা। মানুষ যেসব বদস্বভাবের কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়ে চির লা’নত ও অসন্তুষ্টির মধ্যে নিপতিত হয় কৃপণতা হচ্ছে তার মধ্যে একটি।
এই কৃপণতার পরিণাম ফল সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَلَا يَـحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِـمَا اٰتَاهُمُ اللهُ مِن فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّـهُم ۖ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّـهُمْ ۖسَيُطَوَّقُوْنَ مَا بَـخِلُوْا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ وَلِلّٰهِ مِيْرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ ۗ وَاللهُ بِـمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ.
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি আপন অনুগ্রহে বান্দাদেরকে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পণ্য তাদের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তারা যেনো ধারণা না করে। বরং এটা তাদের জন্য একান্তই ক্ষতিকর বলে প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পণ্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর তোমরা যা কিছু করো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে অবহিত। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: আয়াত শরীফ ১৮০)
وَمَن يَبْخَلْ فَاِنَّـمَا يَبْخَلُ عَن نَّفْسِهِ ۚ
অর্থ : যারা কৃপণতা করে তারা মূলত নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করে। (পবিত্র সূরা মুহম্মদ শরীফ: আয়াত শরীফ ৩৮)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পথে ব্যয় করতে বলা হলে যে ব্যক্তি তাতে কৃপণতা করে, সে আসলে মহান আল্লাহ পাক উনার কোন ক্ষতি করে না; বরং এর মাধ্যমে সে নিজেরই ক্ষতি করে। কারণ এতে করে সে পরকালের ছওয়াব বা নেকী থেকে বঞ্চিত হয় এবং ফরয তরক করার কারণে শাস্তির যোগ্য হয়।
اَلَّذِيْنَ يَبْخَلُونَ وَيَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُوْنَ مَا اٰتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ ۗ وَاَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِيْنَ عَذَابًا مُّهِيْنًا
অর্থ : যারা নিজেরা কার্পণ্য করে এবং অপরকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সেসব বিষয় যা মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে দান করেছেন। বস্তুত এসব অস্বীকারকারী ব্যক্তিদের জন্য আমি অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: আয়াত শরীফ ৩৭)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبـِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السَّخِيُّ قَرِيبٌ مِنَ اللهِ قَرِيبٌ مِنَ الْـجَنَّةِ قَرِيبٌ مِنَ النَّاسِ بَعِيدٌ مِنَ النَّارِ وَالْبَخِيلُ بَعِيدٌ مِنَ اللهِ بَعِيْدٌ مِنَ الْـجَنَّةِ بَعِيدٌ مِنَ النَّاسِ قَرِيْبٌ مِنَ النَّارِ وَلَـجَاهِلٌ سَخِيٌّ اَحَبُّ اِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ عَابِدٍ بَـخِيْلٍ.
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্র্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দানশীল ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটে, বেহেশতের নিকটে, মানুষের নিকটে, তবে দোযখ থেকে দূরে। কৃপণ ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে দূরে, বেহেশত থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে, তবে দোযখের নিকটে। আর নিশ্চয়ই মূর্খ দানশীল কৃপণ আবিদ (ইবাদতকারী) অপেক্ষা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রিয়। (তিরমিযী শরীফ : كتاب البر والصلة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم - বাবু মাজায়া ফিল বুখলি, হাদীছ শরীফ নং ১৯৬১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ خِبٌّ وَلَا مَنَّانٌ وَلاَ بَـخِيلٌ.
অর্থ : হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রতারক, বখীল এবং যে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয়-এ তিন ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করবে না। (তিরমিযী শরীফ : كتاب البر والصلة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم - বাবু মাজায়া ফিল বুখলি, হাদীছ শরীফ নং ১৯৬৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اَلشُّحُّ شَجَرَةٌ فِي النَّارِ، فَمَنْ كَانَ شَحِيحًا أَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْهَا، فَلَمْ يَتْرُكْهُ الْغُصْنُ حَتَّى يُدْخِلَهُ النَّارَ
অর্থ : কৃপণতা হচ্ছে দোযখের একটি বৃক্ষ। যে ব্যক্তি কৃপণ সে যেনো উক্ত বৃক্ষের একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে দোযখে পৌঁছিয়ে দেয়। (বাইহাক্বী, মিশকাত)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, তিনটি কার্য দ্বারা মানুষের ধ্বংস সাধিত হয়- (১) বখীলী বা কৃপণতা (২) নফসের পায়রবী (৩) আত্মগরিমা।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, বখীলী হতে পরহিয করো। কেননা বখীলী পূর্ববর্তী উম্মতগণকে ধ্বংস করেছিল। হারামকে হালাল করতে বখীলী তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ঈমানদারের মধ্যে দু’টি স্বভাব থাকতে পারে না- বখিলী এবং বদস্বভাব।
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে প্রতিভাত হয় যে, বখীলী বা কৃপণতা মু’মিন ব্যক্তির স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নয়। বরং কুফরী বা কাফিরের স্বভাব এবং তার পরিণতি জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।
কাজেই, প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানের জন্য কৃপণতা ত্যাগ করে সাখাওয়াত বা দানশীলতার স্বভাব অর্জন করা অপরিহার্য কর্তব্য। আর এ জন্য ইলমে তাছাওউফ হাছিলই হচ্ছে একমাত্র উপায়।
(সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












