প্রসঙ্গ: কুয়াশা
কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে?
, ১৮রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পাঁচ মিশালী
শীতকালে কখনো কখনো সূর্যের আলো দেখা যায় না। কারণটা হলো ধূসর রঙা ঘন কুয়াশার চাদর। তখন কয়েক হাত দূরত্বেই দৃষ্টিসীমা আটকে যায়। কুয়াশা ভেদ করে কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না। প্রতিবছর শীতের সময়ে একাধিক দিন এরকম দৃশ্য দেখা যায়।
ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘœ, সড়ক দুর্ঘটনা, বিমান ওঠানামা স্থগিত, ফেরি বা নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উদাহরণও রয়েছে।
কিন্তু কুয়াশা আসলে কি, কিভাবে এবং কেন এটি তৈরি হয়? শীতেই কেন এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়? আবহাওয়ার ওপর এটি কি ধরনের প্রভাব ফেলে?
কুয়াশা কিভাবে সৃষ্টি হয়?
আবহাওয়াবিদরা কুয়াশাকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি তৈরি হওয়া এক ধরনের নিচু মেঘ বা ‘লো ক্লাউড’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী থাকে। শীতকালেই কুয়াশার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় মাটিতে থাকা আর্দ্রতা ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসে এবং বাতাস শিশিরাঙ্কে পৌঁছালে, অর্থাৎ ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষুদ্র পানিকণায় রূপ নেয়।
এই পানিকণাগুলো বাতাসে ভেসে থাকলেই কুয়াশা তৈরি হয়।
“দিনে সারফেসে যা তাপমাত্রা আসে, রাতে তা চলে যায়। কোনও কারণে সারফেস দ্রুত ঠা-া হয়ে গেলে, অর্থাৎ উপরের তাপমাত্রার চেয়ে নীচের তাপমাত্রা কম হলে কুয়াশা তৈরি হয়,” বলছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ।
কুয়াশা তৈরির আরেকটি ধরন হলো অ্যাডভেকশন ফগ। যখন তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন এটি তৈরি হয়। এই ক্ষেত্রে কুয়াশা মাটির ওপর স্থির না থেকে কিছুটা ভেসে বেড়ায়।
বজলুর রশিদ জানান, বাংলাদেশে অ্যাডভেকশন ফগ দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ হয়ে আসে।
“অ্যাডভেকশন ফগ ৫০০-৬০০ থেকে এক-দুই হাজার কিলোমিটার মিলে হয়, এটি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে আস্তে আস্তে ধাবিত হয় এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।”
এর বাইরে কুয়াশার আরেকটি ধরন হলো রেডিয়েশন ফগ, যা সাধারণত ভোরের দিকে ঘন হয় এবং সূর্যের আলোয় দ্রুত মিলিয়ে যায়। এটি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বেশি দেখা যায়।
“শীতকালে সাগরের তাপমাত্রা বেশি থাকে, ভূমির তাপমাত্রা কম থাকে। এখন যদি হঠাৎ করে সাগর আস্তে আস্তে গরম হয় এবং সারফেস সাগরের চেয়ে বেশি গরম হলো, তখন ময়েশ্চার দিক পরিবর্তন করে সাগরের কাছাকাছি চলে আসে ও কুয়াশা হয়। তবে এটি এক দুই ঘণ্টার মাঝে পরিষ্কার হয়ে যায়,” ব্যাখ্যা করেন বজলুর রশিদ।
মূলত, কুয়াশাকে বরফেরই একটি প্রাথমিক রূপ বলা যায়। বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের অঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় কুয়াশার পানিকণাগুলোর আকার ছোট হয়।
যেসব দেশের তাপমাত্রা অনেক নীচে, সেখানে এই কণাগুলো বড় আকার ধারণ করে ঝরে পড়ে, যাকে আমরা স্নো বা তুষারপাত বলি। বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের অঞ্চলে স্নো হয় না।
তবে এই অঞ্চলে কখনও কখনও কুয়াশা বৃষ্টির মতো খুব ক্ষুদ্র ফোঁটা হয়ে ঝড়ে পড়ে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনে একই প্যাটার্নে কুয়াশা তৈরি হয়।
কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগ কি এক, নাকি আলাদা?
কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগ- এই তিনটি শব্দ প্রায়ই একসঙ্গে ব্যবহৃত হলেও এগুলো এক নয়। পার্থক্যটা মূলত এগুলো তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া ও দৃশ্যমানতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।
আবহাওয়াবিদরা বলেন, মানুষের স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমা চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার। মাটির কাছাকাছি বাতাসে থাকা আর্দ্রতা বা পানীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানিকণায় পরিণত হয়ে কুয়াশা তৈরি হলে এই সীমা খুব কমে যায়।
সাধারণভাবে দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের কম হলে তাকে কুয়াশা বলা হয়, এমনটাই বলা হচ্ছে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের ওয়েবসাইটে।
মিস্টও একই প্রক্রিয়ায় তৈরি হলেও এর ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম। ফলে দৃশ্যমানতা কিছুটা বেশি থাকে। এক কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমানতা থাকলে সেটিকে মিস্ট হিসেবে ধরা হয়। বাস্তবে মিস্টকে অনেক সময় হালকা কুয়াশা হিসেবেই ধরা হয়।
কিন্তু স্মগ তৈরির প্রক্রিয়া ভিন্ন। এই শব্দটি এসেছেই ‘স্মোক’ (ধোঁয়া) আর ‘ফগ’ (কুয়াশা) থেকে।
এটি ধোঁয়া ও কুয়াশার সংমিশ্রণ, যেখানে বায়ুদূষণের কণা বাতাসে আটকে থাকে। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে স্মগ তৈরি হয় এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
কুয়াশা ও মিস্ট প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা, আর স্মগ মানুষের তৈরি বায়ুদূষণের ফল।
কুয়াশা সাধারণত চারপাশ ঢেকে ফেলা সাদা পর্দার মতো দেখায়, আর মিস্ট তুলনামূলকভাবে পাতলা ও ধূসর রঙের আবরণ তৈরি করে। আর কুয়াশার সঙ্গে ধুলো বা ধোঁয়া মিশে গেলে সেটিতে হালকা রঙের আভাও দেখা যেতে পারে, বলছে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন। (পরবর্তী পর্বে সমাপ্ত)

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইফতারে যেসব পানীয় পানে দূর হবে ক্লান্তি
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি আরব কেন লাখ লাখ উটকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে কারণে ইফতার-সাহরিতে খেজুর খাবেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নারীদের জন্য লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে বক চয়, জানুন উপকারিতা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইফতারে হালিম কি স্বাস্থ্যসম্মত?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে রমজানে যত প্রথা
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিশ্বে খেজুর উৎপাদনে শীর্ষে কারা?
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন?
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শেখপুর জামে মসজিদ: ৪০০ বছর ধরে ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইফতারে যেসব খাবার আপনাকে সুস্থ রাখবে পুরো রোযার মাস
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












