একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক (৩)
, ০৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
‘তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেন।’
প্রকৃতপক্ষে উনাদের সাথে এই জিনটা থাকেই না। এটা পুরা বের করে দেওয়া হয়।
এখন যদি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে এই জিনটা না থাকে, উনাদের থেকে বের করে দেওয়া হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ যে বলা হচ্ছে- ‘একটা জিন ছিলো, ঈমান এনেছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে এটা থাকে কিভাবে? এটা মওযূ হাদীছ। মিথ্যা হাদীছ। হাদীছটা মওযূ, মিথ্যা। বুঝতে পেরেছো এখন?
ওটা আসলে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে এটা পুরা বের করে দেওয়া হয়। ওটা সাথেই থাকে না। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কিভাবে থাকতে পারে? আবার উনার ভিতর একটা কাফের প্রবেশ করবে! এটাকে ঈমানদার বানানো হবে! তাহলে যতদিন ঈমানদার হয়নি, ততদিন তাহলে উনার ভিতরে কাফের ছিলো! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মত পবিত্র করে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক করালেন (সৃষ্টি মুবারক করলেন), এখন পবিত্র বললে তো শব্দটা কম হয়, তাহলে উনার মাঝে নাপাকির স্পর্শ থাকে কোথায়? যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমান্য পবিত্র নূরুত তাবাররুক (স্পর্শ) মুবারক উনার কারণে একটা ধুলা-বালি হোক বা যেটাই হোক, সেটা পবিত্র আরশে আযীম থেকে সম্মানিত হয়ে যান। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভিতরে একটা শয়তান থাকে কিভাবে?
এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ‘শিফা’ শরীফ’ উনার মধ্যে রয়েছেন-
اَنَّهٗ كَانَ اِذَا اَرَادَ اَنْ يَّـتَـغَـوَّطَ انْشَقَّتِ الْاَرْضُ فَابْـتَـلَعَتْ غَائِطَهٗ وَبَـوْلَهٗ وَفَاحَتْ لِذٰلِكَ رَائِحَةٌ طَـيِّـبَةٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল গইব মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক) অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোট ইস্তিঞ্জা মুবারক) যমীনে রাখার ইচ্ছা মুবারক করতেন তখন মাটিতে ফাটলের সৃষ্টি হয়ে যেতো, তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল গইব মুবারক অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক করলে মাটি তা নিজের ভিতর লুকিয়ে নিতো এবং সেই স্থান থেকে শুধু সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (শিফা’ শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّـىْ بَـعْدَ اُمِّـىْ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ اَيـْـمَنَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ كَانَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ فَخَّارَةٌ يَّـبُـوْلُ فِـيْـهَا فَكَانَ اِذَا اَصْبَحَ يَـقُوْلُ يَا سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اُمِّـىْ بَـعْدَ اُمِّـىْ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ صُبِّـىْ مَا فِى الْفَخَّارَةِ فَـقُمْتُ لَيْـلَةً وَّاَنَا عَطْشٰى فَشَرِبْتُ مَا فِـيْـهَا فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اُمِّـىْ بَـعْدَ اُمِّـىْ عَلَيْـهَا السَّلَامُ صُبِّـىْ مَا فِـى الْفَخَّارَةِ فَـقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قُمْتُ وَاَنَا عَطْشٰى فَشَرِبْتُ مَا فِيْـهَا فَـقَالَ اِنَّكِ لَنْ تَشْتَكِىْ بَطْـنَكِ بَعْدَ يَـوْمِكِ هٰذَا اَبَدًا
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু আয়মন আলাইহাস সালাম) উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা মাটির পাত্র মুবারক ছিলেন, সেই পাত্র মুবারক-এ তিনি (রাতের বেলায়) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক রাখতেন। যখন সকাল হতো, তখন তিনি বলতেন, ‘হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম! মাটির পাত্র মুবারক-এ যা রয়েছেন, তা আপনি ফেলে দিন।’ একরাতে আমি পিপাসার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠি, ফলে মাটির পাত্রে যা ছিলেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক), আমি তা পান করে ফেলি। সুবহানাল্লাহ! তারপর (সকালে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম! মাটির পাত্র মুবারক-এ যা রয়েছেন, তা আপনি ফেলে দিন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি পিপাসার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠেছিলাম, তাই মাটির পাত্র মুবারক-এ যা ছিলেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক), আমি তা পান করে ফেলেছি। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّكِ لَنْ تَشْتَكِىْ بَطْـنَكِ بَـعْدَ يَـوْمِكِ هٰذَا اَبَدًا
‘নিশ্চয়ই আপনি আজকের পর থেকে চিরকালের জন্য আর কখনও পেটের পীড়ায় ভুগবেন না’।” সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ)
(অপেক্ষায় থাকুন)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৫)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৯
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৬)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ বিষয়ে আপত্তি ও তার খন্ডনমূলক জবাব (৪)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মাত্র এক দিরহাম খরচ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ লাল স্বর্ণ দান করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়িমীভাবে সম্মানিত শাফা‘আত মুবারক লাভ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৪)
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৮
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অস্তমিত সূর্যের পুনরুত্থান
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৬)
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












