ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৯
, ১৬ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
اَلْمُقَدِّمَةُ (আল মুক্বদ্দিমাহ্)
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ১৫ই ছফর শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,
مال موفتےقدر نيست
‘মুফতে পেলে কোনো ক্বদর থাকে না।’
মুফতে পাওয়া যায় তো; আসলে অন্তরে যে চূ-চেরা আছে, ক্বীল-ক্বাল আছে, এই জন্য ফয়েয তো প্রবেশ করে না। তাহলে হিদায়াত হবে কোথা থেকে? কিভাবে হিদায়াত হবে? কিভাবে যিকির জারী হবে? যিকির তো জারী হবে না। অন্তরে তো চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল আছে। এটা তো ফিকির করতে হবে। এটা বুঝার বিষয়, ফিকিরের বিষয়। এই যে আমি বললাম, ‘হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা মুবারক।’ ঘটনা মুবারক তো লম্বা। সংক্ষিপ্তই বলি- উনি আমাকে বললেন, ‘একখানে যেতে হবে, চলুন।’ আমি বললাম, ‘কোথায় যেতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ঐযে আপনি যে গিয়েছিলেন।’ আমি বললাম, ‘কোথায়?’ উনি বললেন, ‘ঐ চার ইমাম ছাহেব উনাদের কাছে! ওখানে যেতে হবে।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; কি করতে হবে?’ উনি বললেন, ‘গিয়ে ফয়েয দিতে হবে।’ তখন আমি বললাম- ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘কিছু করতে হবে না, শুধু গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে উনার সাথে ওখানে গেলাম। তখন দেখলাম- উনি একটা রংয়ের বালতি এবং সাথে কিছু তুলি (ব্রাশ) নিয়ে গেছেন। উনারা ৪ জন যেখানে আছেন, ঐ জায়গাটা একটু অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, ‘আমরা এটাকে রং করে দেই।’ আমরা তিনজন মিলে রং করে দিলাম। ঐখানে যাওয়ার পর ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ আর দিতে হয়নি। বললে শুনতে খারাপ শুনা যায়- উনারা সবাই মৃত ছিলেন। আমি যাওয়ার পরে সবাই জিন্দা হয়ে গেলেন। উঠে বসলেন। সবার সামনে মাকতাব আছে মাকতাবে বসে উনারা লেখালেখি শুরু করলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি বললেন, ‘এখন জিন্দা হয়ে গেছে। এখন উনাদের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। মানে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ হয়ে গেছে।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; ঠিক আছে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
এরপর হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি আমাকে একখানে বসায়ে বললেন, ‘বসেন।’ আচ্ছা; বসলাম। তখন উনি বললেন যে, ‘আপনার সবাইকে এখানে নিয়ে আসেন।’ আমাদের সবাইকে ওখানে নিয়ে গেলাম। উনি বললেন, ‘এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ফয়েয মুবারক দিবেন।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; আল হামদুলিল্লাহ।’ ফয়েয মুবারক দিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফয়েয মুবারক দিলেন। বাছ; এই পর্যন্তই।
আমি সেটাই বললাম যে, আমি গেলাম। গেলেই হয়। উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে না; গেলেই হবে।’ তাহলে আমি গেলে যদি এত বড় ইমাম উনারা জিন্দা হয়ে যান, তাহলে তোমরা মূর্খ লোকরা জিন্দা হওনা কেন? তোমাদের ভিতরে তো গালিজ আছে। হ্যাঁ? তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন? উনারা তো জিন্দা হয়ে কাজ শুরু করলেন। চার ইমাম তরতীব অনুযায়ী দেখলাম- ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৪ জন ধারাবাহিকভাবে। অনেক লম্বা বড় কামরা। ৪ জনের চারটা আসন। ‘গেলেই হবে। ফয়েয দিতে হবে না।’ গেলেই ইমাম উনারা জিন্দা হয়ে গেলেন, কাজ শুরু করলেন। আমি তো এখানে প্রত্যেক দিনই আসি। তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন? তাহলে তোমাদের অন্তরে গালিজ আছে। এই জন্য ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ প্রবেশ করে না। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনিই তো যথেষ্ট ফয়েযের জন্য। উনি আবার আমাকে নিবেন কেন? উনি তো সমস্ত কিছুর জামে’, সমষ্টি। উনি বললেন যে, ‘গেলেই হবে।’ আমি বললাম, ‘কি করতে হবে গিয়ে?’ উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘দিতে হবে না, গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। সব রং করা হয়ে গেলো এবং উনারা জিন্দা হয়ে গেলেন। উনারা প্রত্যেকে সুন্নতী চকিতে শোয়া ছিলেন। প্রথমবারও গিয়ে দেখেছিলাম এরকমই। প্রথমবার সবাইকে দেখেছি বিছানায় শোয়া আছেন; কিন্তু পরের বার গিয়ে বিস্তারিত দেখলাম।
তাহলে পাছ আনফাছ জারী হবে না কেন? ক্বলব জারী হবে না কেন? হ্যাঁ? তাহলে নিশ্চয়ই অন্তরের মধ্যে গালিজ আছে, চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল আছে।
এরকম ঘটনা মুবারক তো অনেক আছে। কম বলা হয়েছে? অনেক বলা হয়েছে। এখন আক্বীদাহ্ তো শুদ্ধ না। এখন এগুলো শুনেও আবার অনেকে মনে মনে চূ-চেরা করে। ‘এটা আবার কেমন!’ (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বুঝতে পারলে? ‘এটা আবার কেমন? আপনি কি তাহলে চার ইমামের থেকে বড় হয়ে গেলেন নাকি!’ বড় হলে দোষ আছে কোনো?
এখন আক্বীদাহ্ শুদ্ধ করতে হবে। আক্বীদায় ত্রুটি আছে। যিকির-ফিকির যদি করে, বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন যদি পোষণ করে, তখন বরকত পাবে; অন্যথায় বরকত পাবে না।” (আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ শরীফ ২/১১৩-১১৬)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৫)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৬)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ বিষয়ে আপত্তি ও তার খন্ডনমূলক জবাব (৪)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মাত্র এক দিরহাম খরচ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ লাল স্বর্ণ দান করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়িমীভাবে সম্মানিত শাফা‘আত মুবারক লাভ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৪)
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৮
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অস্তমিত সূর্যের পুনরুত্থান
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৬)
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘শব্দ’ ব্যবহারে কতটুকু আদব রক্ষা করা আবশ্যক (২)
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












