এই উপমহাদেশে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ঈমান-আমলের ক্ষতিসাধনে দেওবন্দীদের কার্যক্রম এবং তাদের ভ্রান্ত ফতওয়া (৫)
, ১৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বাংলাদেশী দেওবন্দী-খারেজীদের নারী নিয়ে মাখামাখি:
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের সূরা নূর শরীফে ও সূরা নিসা শরীফে এবং সূরা আহযাব শরীফের মাধ্যমে ‘পর্দাকে ফরয করে দিয়েছেন। এই সূরা শরীফসমূহে শুধু মহিলাদের পর্দাকে ফরয করা হয়নি, পুরুষদের পর্দাকেও ফরয করা হয়েছে। একজন বেগানা পুরুষ কর্তৃক একজন বেগানা মহিলাকে দেখা যেমন হারাম, তেমনি একজন বেগানা মহিলা কর্তৃক একজন বেগানা পুরুষকে দেখা হারাম করা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফে আছে, ‘অনিচ্ছাকৃত প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে, কিন্তু তারপর প্রতি দৃষ্টিতে একটি করে কবীরা গুনাহ লেখা হবে’।
অথচ দেওবন্দী তথা কওমী-খারেজীরা অপরকে পর্দার কথা বললেও নিজেরা পর্দা করে না।
(বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে প্রতি সেকেন্ডে দৃষ্টি বা পলক পড়ে ২.৫টি। তাহলে ১ ঘণ্টা বা ৩৬০০ সেকেন্ড মিটিং করলে কবীরা গুনাহ হবে ৯ হাজার। ৬ ঘন্টা মিটিং করলে গুনাহ হবে ৫৪ হাজার। এটা একজন পুরুষ-একজন মহিলার হিসাব। কিন্তু একশো জন পুরুষ একশো জন মহিলা হলে তা ঐ সংখ্যা দ্বারা গুণ হবে)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ. كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেরা যা করো না তা অপরকে কেন বলো? তোমরা যা করো না তা তোমাদের জন্য বলা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অতিশয় অপছন্দনীয় কাজ” (পবিত্র সূরা ছফ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২-৩)
মূলত এই তেতুল হুজুররা রাজনীতিতে এসে সামান্য ক্ষমতা আর অর্থের মোহে হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম করে ফেলেছে। প্রকৃতপক্ষে এরাই হচ্ছে ধর্মব্যবসায়ী।
যাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে-
وَيْلٌ لِأُمَّتِي مِنْ عُلَمَاءِ السُّوءِ ، يَتَّخِذُونَ هَذَا الْعِلْمَ تِجَارَةً يَتَّبِعُونَهَا مِنْ أُمَرَاءِ زَمَانِهِمْ رَبْحًا لِّأَنْفُسِهِمْ
অর্থ: আমার উম্মতের মধ্যে ওই সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য জাহান্নাম; যারা ইলিমকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে তাদের যামানার আমীর-উমরা বা রাজা-বাদশাহদের কাছে অর্থ ও পদ লাভের জন্য তা বিক্রি করে থাকে। ” নাউযুবিল্লাহ!
দেওবন্দী-খারিজীরা হচ্ছে ‘হিন্দু মার্কা মুসলমান’!
যোগ (সংস্কৃত, পালি: योग yóga) ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভুত একপ্রকার শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক সাধনপ্রণালী। “যোগ” শব্দটির দ্বারা হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের ধ্যানপ্রণালীকেও বোঝায়। হিন্দুধর্মে এটি হিন্দু দর্শনের ছয়টি প্রাচীনতম (আস্তিক) শাখার অন্যতম। জৈনধর্মে যোগ মানসিক, বাচিক ও শারীরবৃত্তীয় কিছু প্রক্রিয়ার সমষ্টি।
হিন্দুধর্মে যোগের প্রধান শাখাগুলি হলো: রাজযোগ, কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ ও হঠযোগ। ভারতীয় দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণের মতে, পতঞ্জলির যোগসূত্রে যে যোগের উল্লেখ আছে, তা হিন্দুধর্মের ছয়টি প্রধান শাখার অন্যতম। অন্যান্য যেসব হিন্দুশাস্ত্র গ্রন্থে যোগের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো হলো উপনিষদ্, ভগব˜ গীতা, হঠযোগ প্রদীপিকা, শিব সংহিতা ও বিভিন্ন তন্ত্র গ্রন্থ।
হিন্দু সাহিত্যে “যোগ” শব্দটি প্রথম উল্লিখিত হয়েছে কঠোপনিষদে। যোগ ধারণার বিবর্তন যে সব গ্রন্থে বিধৃত হয়েছে, সেগুলি হলো মধ্যকালীন উপনিষদসমূহ, মহাভারত (ভগবদ্গীতা সহ) ও পতঞ্জলির যোগসূত্র।
হিন্দুধর্মে যোগ ছয়টি মূল দার্শনিক শাখার একটি। যোগ শাখাটি সাংখ্য শাখাটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। (সূত্র: উইকিপিডিয়া)
কথিত ‘যোগব্যায়াম’ যে হিন্দুদের খাঁটি ধর্মীয় অনুসঙ্গ তা বুঝতে কারোই কোনো সমস্যা হওয়া কথা নয়। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যখন ভারতের ধর্মব্যবসায়ী দেওবন্দীরা এটাকে জায়িয বলে বিভ্রান্তিকর ফতওয়া দেয়। নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসায় এক অনুষ্ঠানে যায় হিন্দুদের কথিত যোগী ঠাকুর রামদেব। সেখানে রামদেবের থেকে কয়েক হাজার দেওবন্দী ছাত্র-শিক্ষক হিন্দুয়ানী যোগব্যায়াম সম্পর্কে তা’লীম নেয়। নাঊযুবিল্লাহ!
সেই সময় এই হিন্দুয়ানী যোগব্যায়াম পবিত্র দ্বীন ইসলামে জায়িয রয়েছে বলেও ফতওয়া দেয় তারা।
(সূত্র: : http://goo.gl/ZijIiw, http://goo.gl/z svMwZ, http://goo.gl/8OyYfh)
শুধু তাই নয়, দেওবন্দীদের পক্ষ থেকে এই হিন্দুয়ানী যোগব্যায়ামকে মুসলমানদের পবিত্র নামায উনার সাথেও তুলনা করার মতো ধৃষ্টতা দেখানো হয়। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!! নাঊযুবিল্লাহ!!! (সূত্র http://goo.gl/A3q9T4)
প্রসঙ্গক্রমে বলছি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালামের নাম অনেকেরই জানা। অনেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে একজন মুসলমানকে দেখে গর্বও বোধ করতে পারেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, নামে মুসলমান হলেও এপিজে আবুল কালামের জীবনকর্ম বেশিরভাগই মজুসীদের (অগ্নি উপাসক) মতো। যেমন: পবিত্র দ্বীন ইসলামে হালাল প্রাণীর গোশত খাওয়া জায়িয এবং সুন্নত আমল, কিন্তু আবুল কালাম হচ্ছে নিরামিষভোজী। সে নিয়মিত হিন্দুধর্মীয় গীতা পাঠ করে। সে হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে সর্বদা হিন্দুধর্ম সম্পর্কে প্রশংসাসূচক বক্তব্য দেয়। নাঊযুবিল্লাহ! যার কারণে, মুসলমানদের থেকে হিন্দুরা এপিজে আবুল কালামকে বেশি সাপোর্ট দেয়, এমনকি কট্টর হিন্দুত্ববাদী আরএসএস পর্যন্ত দাবি করে ‘এপিজে হচ্ছে হিন্দু’। একইভাবে আবুল কালামের ন্যায় মজুসীদের অনুরূপ জীবন নির্বাহ করতো ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ফারুক জাহাঙ্গীর এবং মনসুর আলী খান পাতৌদী (অভিনেতা সাঈফ আলী খানের বাবা)। যার কারণে অনেকেই এদের প্রকৃত মুসলমান বলতে নারাজ, তাদের বলা হয় মুসলমান পরিচয়দানকারী মজুসী।
অনুরূপ দেওবন্দীর সার্বিক কার্যক্রম দেখেও বোঝার উপায় নেই, তারা প্রকৃত মুসলমান কি-না। বরং মনে হয়, তারা নতুন এক বাতিল ফিরকা তা হলো ‘হিন্দু মার্কা মুসলমান’। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












