সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি চাঁদ ও সূর্যকে হিসাব মত চলমান রেখেছেন মুসলমানদের খিদমতের জন্য। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল ইজ্জত ইরশাদ মুবারক করেন-“চাঁদ ও সূর্য হিসাব মতো চলে থাকে”। (পবিত্র সূরা আর রহমান: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
তাই তাদের চলার হিসাব থেকে সময় নির্ধারণ করা সম্ভব।
পবিত্র কুরআনুল কারীম ও পবিত্র হাদীছ শরীফে সময় ও চাঁদ সম্পর্কীয় নির্দেশনা:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মানুষ আপনাকে বাঁকা চাঁদ সম্পর্কে সুওয়াল করে। আপনি বলে দিন, তা হলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং পবিত্র হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম”। অর্থাৎ খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিলেন চাঁদ হচ্ছে প্রথমত: সময় নির্ধারক এবং দ্বিতীয়ত: দ্বীন ইসলাম উনার অন্যতম আরকান হজ্জেরও সময় নির্ধারক। একইভাবে হজ্জের মত যেসব ইবাদত যেমন: রোযা, যাকাত ইত্যাদি মাস ও বছরের সাথে সংশ্লিষ্ট সেসব ইবাদত করার সময় চাঁদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। পবিত্র হাদীছ শরীফে এসেছে-
انا لله تعالى قدا مده لرؤيته
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি চাঁদ দেখার সাথে মাস নির্ধারণ করেছেন।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
আবার অন্যান্য যে কোন একটি মাস শুরু হলে সে মাসের সংশ্লিষ্ট মহিমান্বিত দিবস-রজনী এবং উনার আমলসমূহের আদায়ের সময় নির্ধারিত হয়ে থাকে। আর মাসসমূহ ক্রমান্বয়ে এসে বছর পূর্ণ করে এবং এরই সাথে বছরের বিভিন্ন ইবাদত উনার সময় নির্ধারিত হয়। যেহেতু চাঁদের মাধ্যমে মাস নির্ধারিত হয় আর মাসের সাথে ইবাদত বন্দেগীর সময় নির্ধারিত হয় তাই মূলতঃ চাঁদের মাধ্যমে সমস্ত আমল-ইবাদত উনার সময় নির্ধারিত হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে চাঁদের মাধ্যমে মাস ও সময় নিরূপন করা হবে- সেটাও পরিস্কারভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা’লীম দিয়েছেন-
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صومو الرؤيته وافطر والرؤيته فانغم عليكم فاكملوا عدة شعبان ثلثين
অর্থ: “তোমরা চাঁদ দেখে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখেই রোযা শেষ করো তথা ঈদ পালন করো। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা চাঁদ দেখতে না পাও তবে শা’বান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করো।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
-এখান থেকে ৩ টি বিষয় বলা যায়-
(১) খালি চোখে চাঁদ দেখার মাধ্যমে মাস শুরু হবে।
(২) চাঁদ দেখার মাধ্যমে মাস সংশ্লিষ্ট ইবাদতসমূহের সময় নির্ধারিত হবে, যেমন: রোযা, ঈদ এবং হজ্জ।
(৩) যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় চাঁদ দেখা না যায় তবে ৩০ দিনে মাস পূর্ণ করতে হবে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে আরবী মাস ২৯ দিনে হবে এবং প্রতি মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ তালাশ করতে হবে, যদি কোন কারণে ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ৩০ দিনে মাস হবে।
এখন চাঁদ তালাশ করে বা দেখে মাস শুরু ও শেষ করতে হলে; কখন চাঁদ তালাশ করতে হবে, কোন দিকে তালাশ করতে হবে, আকাশের কোথায় তালাশ করতে হবে তা নির্ধারণ করতে হলে চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা বা পর্যায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
চাঁদের গতি ও কক্ষপথ:
চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। চাঁদ নিজ অক্ষের উপর আবর্তনের সাথে সাথে পৃথিবীকেও একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলছে। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ
অর্থ: “চাঁদের জন্য আমি নির্ধারিত মঞ্জিলসমূহ নির্দিষ্ট করেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা শুষ্ক বক্র পুরাতন খেজুর শাখার ন্যায় হয়ে যায়।” (পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৯)
এই আয়াত শরীফে আমরা দুটি বিষয় লক্ষ্য করছি।
প্রথমটি হচ্ছে قَدَّرْ ‘ক্কাদার’ শব্দটি যার অর্থ ‘পরিমাপ’। চাঁদের ভর পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব, তার অক্ষ ও কক্ষ গতি, তার মধ্যাকর্ষণ শক্তি সবকিছুর পরিমিত ব্যবস্থার তথা সারা মাসে চাঁদের বিভিন্ন মঞ্জিলসমূহের অবস্থান, সময় ইত্যাদি সবকিছুই বুঝানো হয়েছে এই قَدَّرْ শব্দ দিয়ে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












