ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চিকিৎসক স্বরূপ (১)
, ১৭ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২১ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ১৮ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৪ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
একথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট ইলমসহ সমস্ত নিয়ামত রাজী পুঞ্জীভূত। যা ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সুষ্পষ্ট হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
حضرت على بن ابى طالب عليه السلام طبيب الاسلام
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার চিকিৎসক স্বরূপ। (নুজহাতুল মাজালিস)
অর্থাৎ একজন চিকিৎসক রোগ হতে শিফা লাভ করার ব্যাপারে সম্যক অবগত থাকেন। অপরদিকে একজন চিকিৎসক রোগে আক্রান্ত হওয়া সম্পর্কেও সম্যক অবগত থাকেন। চিকিৎসক রোগীর জন্য একটি ব্যবস্থাপত্র বা নির্দেশনা তৈরী করে দেন। সেই নির্দেশনা অনুসারে রোগী পরিচালিত হয় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী সুস্থতা লাভ করে। সত্যিই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। একদিকে তিনি সমস্ত ইলমের ছহিব বা মালিক। অপরদিকে তিনি এমন সব নির্দেশনা মুবারক প্রদান করেন, যা অনুকরণের মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান উন্নত হতে উন্নতর হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ইলম মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করলে বিষয়টি আরো সুষ্পষ্ট হয়ে যাবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عبد الله مسعود رضى الله تعالى عنه قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فسئل عن علي عليه السلام فقال قسمت الحكمة عشرة أجزاء فأعطي علي عليه السلام تسعة أجزاء والناس جزءاً واحداً
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আমি উপস্থিত ছিলাম। উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে সুওয়াল করা হলো। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হিকমত বা প্রজ্ঞাকে দশ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে নয় ভাগ হাদিয়া করা হয়েছে। আর মানুষদেরকে এক ভাগ দেয়া হয়েছে। (কানযুল উম্মাল, জামিউল আহাদিছ)
অর্থাৎ ইলমের দশ ভাগের নয় ভাগ সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট রয়েছে। সারা কায়িনাতের নিকট রয়েছে এক ভাগ। এ জন্যই অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت سلمان رضي الله تعالى عنه عن النبي صلّى الله عليه وسلّم انه قال: أعلم أمتي من بعدي حضرت على بن ابى طالب عليه السلام
অর্থ: হযরত সালমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আমার পরে আমার উম্মতের সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব। (দাইলামী, আল জামিউল কাবীর)
বলা হয় জ্ঞান বিজ্ঞানের মূলে রয়েছেন- পবিত্র কুরআন শরীফ। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ইলমে যে যত বেশি পারদর্শী তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানেও তত বেশী পারদর্শী।
আর সেক্ষেত্রে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সকলের অগ্রগামী। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عبد الله بن مسعود رضي الله تعالى عنه قال إنّ القرآن أنزل على سبعة أحرف ما منها حرف إلاّ له ظهر وبطن وإنّ حضرت عليّ بن أبي طالب عليه السلام عنده منه علم الظاهر والباطن
অর্থ: হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন শরীফ (কুরাইশদের সাত গোত্রের) সাত লেহানে নাযিল হয়েছেন। প্রতি হরফ বা লেহানের জন্য একটি বাহ্যিক দিক এবং একটি আভ্যন্তরীন দিক রয়েছে। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পবিত্র কুরআন শরীফ উনার জাহিরী বাতিনী উভয় প্রকার ইলম মুবারকই রয়েছে। (মানাক্বিবু আসাদিল্লাহিল গালিব)
-মুহম্মদ ইমামুদ্দীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












