ইউরোপে যাওয়ার পথে ৭৯ শতাংশ বাংলাদেশী নির্যাতনের শিকার -গবেষণা
, ১৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৭ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিদেশের খবর
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে যাদের লিবিয়া নেওয়া হয়, তাদের সবাইকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও তারা চাকরি পান না। উল্টো অধিকাংশ অভিবাসীপ্রত্যাশীকে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে অর্থ। এত ঝুঁকির পরও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। লিবিয়াফেরত ৫৫৭ জন বাংলাদেশীর যাত্রা, গন্তব্য, অর্থ, নিপীড়ন ও উদ্ধার থেকে শুরু করে প্রত্যেকের ৫০ ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।
৫৫৭ বাংলাদেশীর তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৬০ শতাংশের পরিবারকে স্থানীয় দালালরা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিল। কিন্তু ৮৯ শতাংশই চাকরি বা কোনও কাজ পাননি। উল্টো নানা ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছেন।
ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা গেছে, ২৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী লোকজন সবচেয়ে বেশি ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে ৩১ থেকে ৩৫ বছরের লোক সবচেয়ে বেশি। তাদের বেশির ভাগেরই বাড়ি মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, আমানবাড়িয়া ও কুমিল্লা এলাকায়।
গবেষণায় আরও বলা হয়, এক দশক ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়া লোকজনের মধ্যে যেসব দেশের নাগরিকরা রয়েছেন, সেই তালিকার শীর্ষ দশে আছে বাংলাদেশ। প্রায়ই এভাবে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নানা দেশের ২৫ লাখ মানুষ এভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে গিয়েছে। এভাবে যেতে গিয়ে প্রায় ২২ হাজার মানুষ সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশী আছেন অনেক।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশীরা লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এটি সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুট হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই পথে অন্তত ৭০ হাজার ৯০৬ জন বাংলাদেশী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। তবে মাঝেমধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পথে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে ৯ বাংলাদেশী প্রাণ হারান। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২৬ বাংলাদেশীকে। গতকালও লিবিয়া থেকে ১৪৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন। এরপরও এমন যাত্রা থামছে না।
যাত্রাপথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে দুবাই-মিসর হয়ে লিবিয়া গেছেন সবচেয়ে বেশি মানুষ। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল-দুবাই হয়ে লিবিয়া, ঢাকা থেকে কাতার হয়ে লিবিয়া, ঢাকা থেকে দুবাই-সিরিয়া হয়ে লিবিয়া এবং অল্প কিছু লোক ঢাকা থেকে সরাসরি লিবিয়া গিয়েছেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এভাবে লিবিয়া যাওয়ার পথে ৬৩ শতাংশই বন্দি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন। বন্দিদের ৭৯ শতাংশই শারীরিক নির্যাতনের শিকার। এ ছাড়া লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ৬৮ শতাংশই মুক্তভাবে চলাচলের স্বাধীনতা হারিয়েছেন। ৫৪ শতাংশই বলেছেন, তারা কখনও তিন বেলা খাবার পাননি। অন্তত ২২ শতাংশ দিনে মাত্র একবেলা খাবার পেয়েছেন।
এভাবে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার জন্য অর্থ কোথায় পেয়েছেনে এমন প্রশ্নের উত্তরে ৫৬ শতাংশ বলেছেন, তারা নিজেরাই এই টাকা জোগাড় করেছেন। ২৩ শতাংশ বলেছেন তারা পরিবারের কাছ থেকে অর্থসহায়তা নিয়েছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) বলেন, বাংলাদেশের সব জেলার লোক এভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে না। মূলত শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যায়। আমাদের গবেষণায় এটি উঠে এসেছে যে দালালরা এসব এলাকার অভিভাবক ও তরুণদের ভালো চাকরি আর ইউরোপের প্রলোভন দেখাচ্ছে, যেটি বাস্তব নয়। তাই সাধারণ মানুষ ও বিদেশগামীদের সবার আগে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার স্থানীয় দালাল ও মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। বিশেষ করে অর্থের লেনদেন খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি যে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র রয়েছে লিবিয়া বা অন্য দেশে, তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে। পাশাপাশি লিবিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা জরুরি। নয়তো সেখানকার মানুষ জীবন বাঁচাতে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করবে। সেই সুযোগে পাচারকারীরা বাংলাদেশের মতো আরও অনেক দেশের নাগরিকদের সেখানে যুক্ত করবে। তাই সম্মিলিতভাবে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভূমিকম্পের ৯০ সেকেন্ড আগে সতর্ক করবে ইব্রাহিম মোল্লার তৈরি ‘ভুবন’
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে ‘আরও ভয়াবহ’ প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পাকিস্তানের ‘গজব লিল-হক’ : আফগানিস্তানে ৪০ দিনে ৭৯৬ সেনা নিহত
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সন্ত্রাসী ইসরায়েলের নিরস্ত্র হওয়ার শর্ত প্রত্যাখ্যান করলো হামাস
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইরানের হামলার টার্গেটে এবার সিআইএ দপ্তর
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইরানের হামলার টার্গেটে এবার সিআইএ দপ্তর
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যুক্তরাষ্ট্রে মার্চ মাসে ভোক্তা ঋণ বেড়েছে ৫২ বিলিয়ন ডলার
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশল: বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নৌ চলাচল ব্যবস্থা
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দার আড়ালে থাকা ইরানের দুর্ধর্ষ বিশেষ বাহিনী সাবেরিন ও নোহেদ
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করলো ইরান
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












