পর্দার আড়ালে থাকা ইরানের দুর্ধর্ষ বিশেষ বাহিনী সাবেরিন ও নোহেদ
, ১৭ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) বিদেশের খবর
আল ইহসান ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা উঠলেই সাধারণত ‘কুদস ফোর্সের’ নাম সবার আগে চলে আসে। দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে এই বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও, স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধ বা তাৎক্ষণিক অভিযানের ক্ষেত্রে ইরানের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে অন্য কিছু বাহিনীর ওপর, যা বিশ্ববাসীর নজরের বাইরে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দ্বীপ, বন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হঠাৎ অভিযান বা সীমিত যুদ্ধের প্রয়োজন পড়লে কুদস ফোর্স নয়, বরং ইরানের একটি বিকেন্দ্রীকৃত বিশেষ বাহিনী সবার আগে সাড়া দেয়। এই সামরিক কাঠামোটি কোনো একক এলিট ফরমেশনের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্থল বাহিনীর মূল শক্তি হলো ‘সাবেরিন’। এটি কেবল একটি একক ইউনিট নয়, বরং একটি বিশেষ সক্ষমতার নাম যা ইরানের বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম ভূখ-ে অভিযান, হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ এবং অতর্কিত হামলা চালানোয় এরা পারদর্শী। পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর মতো এরা অপারেশন শেষে ফিরে যায় না, বরং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সেখানেই অবস্থান করে।
আইআরজিসির বাইরে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী বা ‘আর্তেশ’-এরও নিজস্ব বিশেষ বাহিনী রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড, যা ‘নোহেদ’ নামে পরিচিত। তারা মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সরাসরি অ্যাকশনে অভিজ্ঞ। ২০১৬ সালে সিরিয়ায় এদের মোতায়েন প্রমাণ করেছিলো যে, প্রয়োজন পড়লে ইরান তার প্রথাগত বাহিনীকেও বিদেশের মাটিতে ব্যবহার করতে সক্ষম।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বজায় রাখে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বিশেষ শাখা ‘এসএনএসএফ’। সমুদ্রবক্ষে জাহাজ জব্দ করা বা কৌশলগত নৌসীমায় বাধা সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই ডুবুরি ও উভচর বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করে। পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে এদের স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে।
নিবন্ধে আরও উঠে এসেছে ‘বাসিজ’ বাহিনীর কথা। যদিও এদের অভ্যন্তরীণ দমনে ব্যবহার করা হয় বলে ধারণা আছে, তবে এর ‘ফাতেহিন’ ইউনিটের মতো কিছু অংশ উচ্চতর প্রশিক্ষিত এবং সিরিয়ার যুদ্ধেও এদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে। বড় কোনো সংকটে এরা স্থানীয় তথ্য সরবরাহ ও বাড়তি জনবল দিয়ে মূল বাহিনীকে সহায়তা করে।
ইরানের এই বিশেষ বাহিনীগুলো পশ্চিমা ‘সিল টিম সিক্স’ বা ‘ডেল্টা ফোর্সের’ মতো একক কোনো ব্রান্ড নয়। বরং এটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থা যা আক্রমণ প্রতিহত করতে স্তরে স্তরে কাজ করে। প্রথমে স্থানীয় বাসিজ ও আইআরজিসি ইউনিট পরিস্থিতি সামাল দেয়, এরপর সাবেরিন বা নোহেদ-এর মতো উচ্চতর প্রশিক্ষিত বাহিনীগুলো এসে পাল্টা আঘাত হানে। দৃশ্যত এই বাহিনীগুলো আলোচনায় কম থাকলেও, তাদের এই জটিল ও ছড়িয়ে থাকা সাংগঠনিক কাঠামোর কারণেই এদের কার্যক্রম ব্যাহত করা অত্যন্ত কঠিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশল: বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নৌ চলাচল ব্যবস্থা
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করলো ইরান
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এবার ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে দিশেহারা পরগাছা ইসরায়েল - ইরান, ইয়েমেন ও লেবানন থেকে একযোগে হামলা
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দখলদারদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেয়া বীর যোদ্ধাদের মর্টারশেলগুলো
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলা কিউআর কি?
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন কত খরচ?
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইরান নয় সৌদি মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল -আইআরজিসি
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এবার অস্ট্রিয়াতেও নিষিদ্ধ শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ইংল্যান্ডে চরম উদ্বেগ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
একদিনে যুক্তরাষ্ট্রের দুই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলো ইরান - বিধ্বস্ত মার্কিন ‘এমকিউ-১ ড্রোন’ও
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইসরায়েলি ড্রোন ও শিল্প কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












