আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (৭)
, ২৮ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৫) হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
أهل الحجاز يطلقون كذب في موضع أخطا
অর্থ: হেজাযের লোকেরা خطاء এর স্থলে কখনো কখনো كذب শব্দ ব্যবহার করে। (মুকাদ্দিমা ফতহুল বারী ৪২৬)
এখন রাবীদের ব্যাপারে ‘কিযব’ বা মিথ্যাবাদী শব্দ দেখে পবিত্র হাদীছ শরীফ বাদ দিয়ে দেয়ার আগে বিভিন্ন স্থান ভেদে ইমামদের প্রচলিত ভাষা সম্পর্কেও যথেষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে।
রিজাল শাস্ত্রের ইমাম উনাদের এধরনের আরো অনেক ব্যাখ্যামূলক ভাষা রয়েছে। যার সম্পর্কে পূর্ণ ইলিম না থাকলে ভয়াবহ বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে। এ কারণে হযরত আব্দুল হাই লখনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন-
ولا تبادر تقليدا لمن لا يعرف الحديث وأصوله إلى تضعيف الحديث وتوهينه بمجرد الأقوال المبهمة، والجروح غير المفسرة
যারা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উছূল সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ইলিম রাখেন না সহসাই তাদের ইকতিদা বা অনুসরণ শুরু করে দিও না। ফলে ব্যাখ্যাহীন জারাহ, স্পষ্ট নয় এমন মন্তব্যের উপর ভর করে কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে দ্বয়ীফ সাব্যস্ত করে দিবে। (মিনহাজুল নাকদি ফি উলুমিল হাদীছ ১/৯৯, আর রফু ওয়াক তাকমিলি ফি জরহে ওয়াত তা’দীল ৪৮ পৃষ্ঠা)
রিজাল বিষয়ে জ্ঞান না রেখে জাহিরী শব্দের উপর ভর করে ফতওয়া দিলে অনেক ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার করতে হবে, যেমনটা করছে বর্তমানে ওহাবী সালাফী লা’মাযহাবীরা।
ইহুদীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলমানদেরকে ছহীহ আক্বীদা ও আমল থেকে বিচ্যুত করে দেয়াই এদের উদ্দেশ্য:
জারাহ করার বিষয়ে পূর্ণ ইলিম ছাড়া নফসানিয়াত প্রকাশ পেলে বুখারী শরীফ মুসলিম শরীফসহ অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবেও জারাহ হয়ে যাবে।
হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমরান ইবনে হিত্তান সূত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। অথচ ইমরান ইবনে হিত্তান ছিলো খারিজী সম্প্রদায়ের লোক। শুধু তাই না এ ব্যক্তি আমীরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার শহীদকারী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিমের প্রশংসা করে বেড়াতো। নাউযুবিল্লাহ! (ইখতেসারু উলূমিল হাদীছ ৯৯ পৃষ্ঠা)
এছাড়াও ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ ২০ জন মরজিয়া, ২৩ জন ক্বদরিয়া, ২৮ জন শিয়া, ৪ জন রাফিজী, ৯ জন খারেজী, ৭ জন নাসিবী ও ১ জন জহমিয়া কর্তৃক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। (সায়িকাতুল মুসলিমীন, মিযানুল ইতেদাল, তাহযীবুত তাহযীব, জারাহ ওয়াত তা’দীল, তাহযীবুল কামাল)
একজন ছিক্বাহ রাবী হযরত ইমাম হিশাম দাস্তাওয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে-
قَالَ مُـحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ كَانَ ثِقَةٌ حُجَّةٌ، اِلَّا اَنَّهٗ يَرَى الْقَدْرَ
পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বিশস্ত ও দলীলস্বরূপ হলেও তিনি ক্বাদরিয়া ফেরকার ছিলেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১২৪, তারিখুল ইসলাম লি ইমাম যাহাবী ৯/৬ ৫৬)
অপরদিকে হযরত আবু দাউদ তায়লাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত হিশাম দাস্তাওয়ায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বলেন-
هِشَامٌ اَلدَّسْتَوَائِىُّ اَمِيْرُ الْـمُؤْمِنِيْنَ فِى الْـحَدِيْثِ
অর্থ: হযরত হিশাম দাস্তাওয়ায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শাস্ত্রে আমীরুল মু’মিনীন ছিলেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১২৪)
ইয়াহিয়া ইবনে মঈন ও নাসায়ী উনারা উনাকে বিশ্বস্ত মনে করতেন।
হাফিয হযরত আবু নুয়াইম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি আটশত মুহাদ্দিছ থেকে হাদীছ শরীফ অর্জন করেছি। কিন্তু হযরত হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনে ছালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের চাইতে ভালো ও শ্রেষ্ঠ কাউকে পাইনি। অথচ যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি আক্বীদার ক্ষেত্রে খারিজী ছিলেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১৯৫)
ইমাম আবূ সাহল ওয়াসিত্বী শিয়া ছিলো। এ অপরাধে খলীফা হারুনুর রশীদ তাকে গ্রেফতারও করে। উনার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ বর্ণনায় তিনি দলীল হওয়ার ক্ষেত্রে সবাই একমত। (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/২৩৮)
হযরত আবী আব্দুল্লাহ নিশাবুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন ইমাম সম্পর্কে বলেন-
ثِقَةٌ فِـى الْـحَدِيْثِ رَافِضِىٌّ خَبِيْثٌ
পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত কিন্তু খবীস রাফিজী। (মা’রিফাতু উলুমিল হাদীছ ১/১০, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/১৬৫, সিয়ারু আলাম আন নুবালা ১৭/১৭৪) (ইনশাআল্লাহ! চলবে)
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












