সম্পাদকীয়-১
আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহবান নয় বরং প্রয়োজন তেল গ্যাস উত্তোলনে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি। এক্ষেত্রে তুরস্কের বহুদেশের কাজের বহুমুখী অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ।
, ১১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের পরিবর্তে আমদানী নির্ভর জ্বালানী নীতির কারণে দেশ বর্তমানে তীব্র তেল ও গ্যাস সংকটের মুখোমুখি। দেশীয় উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভরতা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা বিশেষ করে চলমান ইরান বনাম সন্ত্রাসী ইসরাইল, সন্ত্রাসী আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
গ্যাস মজুদের সংকট দেখিয়ে বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ কয়েক বছর ধরেও বন্ধ আছে। শিল্প কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এলপিজির সংকটে বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এর সাথে যোগ হয়েছে, তেল সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরকার জ্বালানী সাশ্রয়ে তেল রেশনিং করছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদেশ নির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানী খাত এভাবে প্রায় সময় হুমকীর সম্মুখীন হয়।
অথচ তেল গ্যাস সহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদে ভরপুর এই সোনার বাংলা। নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দেশের তেল, গ্যাস সহ অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণ করা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি সরকার দেশের তেল গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। এলক্ষ্যে সরকার পেট্রোবাংলাকে পার্বত্য এলাকার ২২ নম্বর ব্লক দরপত্র থেকে বাদ দিয়ে গভীর সমুদ্রে ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লক এবং স্থলভাগে ২১টি ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেছে।
সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে পুরোনো ভূলের পুণরাবৃত্তি করা যাবেনা। শুধু আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করলে এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ফলপ্রসু হবে না। বরং তেল গ্যাস উত্তোলনে সরকারকে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনে উদ্যোগ নিতে হবে। স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল গ্যাস উত্তোলনে বাপেক্সের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে।
গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ইতিমধ্যে নিজস্ব সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। কারণ বাংলাদেশের মোট ৩৪টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ৩০টি চলমান রয়েছে। যার মধ্যে বাপেক্স গঠনের পূর্বে পেট্রোবাংলা ৭টি এবং বাপেক্স ১৩টি মোট ২০টি গ্যাসক্ষেত্র নিজস্ব সক্ষমতায় আবিস্কার করেছে।
এছাড়া বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৪২ ভাগ দেশীয় কোম্পানীগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড ২০-২৫ ভাগ, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ৮-১০ ভাগ, বাপেক্স ৫-৭ ভাগ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। অবশিষ্ট গ্যাসের ৫০-৫৫ ভাগ মার্কিন কোম্পানী শেভরন এবং স্বল্প পরিমাণে কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো, তাল্লো, ভারতীয় ওএনজিসি, সান্তোস উৎপাদন ও সরবরাহ করে।
উল্লেখ্য দেশের জ্বালানী খাতের অনুসন্ধানে অতি রক্ষণশীলতা বিদ্যমান। জ্বালানি খাতে সক্ষমতা অর্জনে কখনো পর্যাপ্ত আর্থিক বিনিয়োগ করা হয়নি। আমদানি নির্ভরতায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে। আমদানী নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব তেল গ্যাস, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে।
এজন্য সর্বাগ্রে বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে। বাপেক্সের সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। বাপেক্সের প্রধান সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, অর্থের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি, সমুদ্রে অনুসন্ধানে অভিজ্ঞতার অভাব, দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতা, ধীরগতির প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকি নেওয়ার সীমাবদ্ধতা।
এদিকে বিদেশ নির্ভরতা দেশের জ্বালানী খাতের ব্যয় অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছে। পেট্রোবাংলা রাষ্ট্রীয় তিনটি কোম্পানির চেয়ে বিদেশী কোম্পানীর কাছ থেকে অনেক বেশী দামে গ্যাস কিনে থাকে। শেভরনের কাছ থেকে পেট্রোবাংলা প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস ক্রয় করে ৩৩৯ টাকায় (২.৭৬ ডলার), আর তাল্লোর কাছ থেকে ২৮৪ টাকায় (২.৩১ ডলার)। অথচ বাপেক্সের থেকে ক্রয় করে ১১২ টাকায় এবং সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানি ও বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি হাজার ঘনফুট ক্রয় করে মাত্র ২৮ টাকায়। দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানীর মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন ও ক্রয় করা অনেক বেশী সাশ্রয়ী।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি অর্জনে সরকার তার্কিশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সহায়তা নিতে পারে। এই খাতে তুরস্কের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তুরস্ক বর্তমানে নিজ দেশের বাহিরে কৃষ্ণ সাগর, ভূমধ্য সাগর, আজারবাইজান, ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, পাকিস্তান, লিবিয়ায় তেল, গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্প পরিচালনা করছে। এক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক টেন্ডার আহবান না করে সরকার তুরস্কের সাথে জি টু জি ভিত্তিতে প্রফিট শেয়ারিং চুক্তি করতে পারে। আর এসব উদ্যোগ ও সঠিক পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক ও নেক পরামর্শ মুবারক।
ছহিবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন শুধু সামরিক বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই নয় বরং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের জজবাকে সমুন্নত করার জন্য হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম্রিকা শকুনীরা চাচ্ছে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ তৈরী করতে। ডিপস্টেট আমলাদের দ্বারা প্রণীত হচ্ছে- রফতানী বাধাগ্রস্থ করার নীল নকশা। চা রফতানীর বাধাসমূহ অবিলম্বে দূর করতে হবে।
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আজ সুমহান বেমেছাল বরকতময় ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ! সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি এই মহিমান্বিত দিনটি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াদী আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ সুমহান বরকতময় ১৮ই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ! খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক অর্থাৎ পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আম্রিকা বাংলাদেশকে আরো বেশী তুলা আমদানিতে চাপ সৃষ্টি করছে। আম্রিকা থেকে তুলা আমদানি জটিল, অধিক ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ। অথচ একটু উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশই হতে পারে তুলায় স্ব-নির্ভর। ইনশাআল্লাহ।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নানা নামে বিভিন্ন কর আরোপকে মহা জুলুম হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন বাজেটে নানা কর পরিকল্পনা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। সরকারকে অন্যায্য কর মুক্ত বাজেট দিতে হবে।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় ১৫ই যিলহজ্জ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাপবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার ৯, ১০, ১১, ১২ এবং ১৪ তারিখ মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ দিবসসমূহের তাৎপর্য অনুধাবন গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব।
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় পবিত্র ৭ই যিলহজ্জ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস এবং পাশাপাশি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৭ই শরীফ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় পবিত্র ৬ই যিলহজ্জ শরীফ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা গবেষণার দিকে আগ্রহী না হয়ে বিসিএস পরীক্ষায় আগ্রহী হয় সব বাধা দূর করে জীবন-জীবিকা বান্ধব সমৃদ্ধ গবেষণার জন্য যথাযথ তৎপরতা ও প্রচেষ্টা একান্ত দরকার
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের কুরবানীর পশু যাতায়াতের পথে এবং কুরবানীর হাটে যথাযথ নিরাপত্তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানগুলোতে চলছে চাঁদাবাজি-ডাকাতি চাঁদা না দিলে হত্যার ঘটনাও ঘটছে কুরবানী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












