আঙুল, হাত ও বাসন চেটে খাওয়া:
, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
খাবার খাওয়া শেষ হলে নিজ হাত মুছে ফেলা বা ধুয়ে ফেলার আগে আঙুল, হাত ও বাসন চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِلَعْقِ الاَصَابِعِ وَالصَّحْنَةِ وَقَالَ اِنَّكُمْ لَا تَدْرُوْنَ فِىْ اَيِّهِ الْبَرَكَةُ.
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (খাবার পর) আঙ্গুলগুলো ও বাসন চেটে খাওয়ার আদেশ মুবারক দিয়েছেন এবং ইরশাদ মুবারক করেছেন, বরকত মুবারক কোথায় রয়েছে তা তোমরা জানো না।’’ (মুসলিম শরীফ: কিতাবুশ শারাবাহ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫১৯৩)
আহার করা শেষে আঙুল চেটে পরিস্কার করে খাওয়ার গুরুত্ব এত বেশি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্যকে দিয়ে চাটানোর জন্যও ইরশাদ মুবারক করেছেন। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا اَكَلَ اَحَدُكُمْ مِنَ الطَّعَامِ فَلَا يَـمْسَحْ يَدَهٗ حَتّٰى يَلْعَقَهَا اَوْ يُلْعِقَهَا.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন তোমাদের কেউ আহার করে, সে যেন স্বীয় হস্ত মুছে না ফেলে; যতক্ষণ না সে তা নিজে চেটে খায় কিংবা অপরকে দিয়ে চাটায়।” (মুসলিম শরীফ: কিতাবুশ শারাবাহ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫১৮৯ ও ৫১৯০)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعْجِبُهُ الثُّفْلُ قَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَعْنِيْ مَا بَقِيَ مِنَ الطَّعَامِ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সুফল’ পছন্দ করতেন। (ইমাম হযরত তিরমিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদ) হযরত আবদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘সুফল’ হচ্ছে সে জিনিস, যা লোকেরা খাদ্য গ্রহণের পর হাড়ি-পাতিলের তলায় লেগে থাকে।” (মুসনাদে আহমাদ শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৩৩২৩; মুস্তাদরাকে হাকেম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৭১১৬; জামেউস সগীর শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৯১১০; মিশকাত শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪২১৭)
বর্তমান সমাজে দেখা যায় যে, অনেকে খাবার খাওয়ার পর পাত্রে কিছু খাবার রেখেই উঠে যায় কিংবা সেই পাত্রেই অবশিষ্ট খাবারের মধ্যেই হাত ধুয়ে ফেলে। মূলত এ রকম কাজ করা সম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার সুস্পষ্ট খিলাফ।
কেননা, এর মাধ্যমে খাবার নষ্ট করা হয় ও মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার খিলাফ আমল বাস্তবায়িত হয়। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وكُلُوْا وَاشْرَبُوْا وَلَا تُسْرِفُوْا اِنَّهُ لَا يُـحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ
অর্থ: “তোমরা খাও এবং পান করো কিন্তু অপচয় করো না। তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩১)
কাজেই, কখনই কোন খাবার নষ্ট করা বা অপচয় করা জায়িয নয়। খাবার শেষে উক্ত পাত্রে হাত ধোয়া, কিংবা খাবার নষ্ট করা মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার খিলাফ। এসকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এজন্যই খাবারের মধ্যে আঙুল ও বাসন চেটে পরিস্কার করে খাওয়া আবশ্যক।
আঙুল চেটে পরিস্কার করে খাওয়ার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক:
(ক) প্রথমে শাহাদত আঙুল, অতঃপর মধ্যমা, অতঃপর অনামিকা, অতঃপর কনিষ্ঠা, অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুল।
(খ) প্রথমে শাহাদত আঙুল, অতঃপর অনামিকা, অতঃপর মধ্যমা, অতঃপর কনিষ্ঠা, অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুল।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ”
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২০)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পুষ্টিগুণে ভরপুর মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মগজ”
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (১)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (২)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












