বিবাহের ক্ষেত্রে ওয়ালিমা একখানা বিশেষ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
, ২৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ সাদিস, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে বিবাহের ওয়ালিমা করার গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়ালিমা করা নূর মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সুন্নত মুবারক। ওয়ালিমা হচ্ছে বিবাহের প্রকাশ্য ঘোষণা এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নেয়ামত মুবারকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম একটি মাধ্যম। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ
অর্থ: “আর আপনার মহান রব তায়ালা উনার মহাসম্মানিত নেয়ামত মুবারক উনার কথা প্রকাশ করুন।” (সূরা আদ-দ্বুহা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ১১)
মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে বিবাহ-শাদী হচ্ছে এক নিয়ামত মুবারক। এই নিয়ামত মুবারক উনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে, ওয়ালিমা করা। অর্থাৎ মেহমানদারির আয়োজন করা।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَنَّه سَمِعَ حَضْرَتْ أَنَسًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يَقُوْلُ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَبْنِي بِسَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الْعَاشِرَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلٰى وَلِيمَتِه أَمَرَ بِالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَأُلْقِيَ عَلَيْهَا التَّمْرُ وَالأَقِطُ وَالسَّمْنُ وَقَالَ حَضْرَتْ عَمْرٌو رضي الله تعالى عنه عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رضي الله تعالى عنه بَنٰى بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ.
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন ‘আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ মুবারক করলেন। আমি উনার মহাসম্মানিত ওলীমা মুবারক উনার জন্য মুসলমানদের দাওয়াত করলাম। উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকে দস্তরখানা বিছানো হলো। তারপর তার উপর খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হলো। হযরত আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন ‘আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার সঙ্গে মহাসম্মানিত বিশেষ নিসবত মুবারক স্থাপন করলেন এবং চামড়ার দস্তরখানায় ‘হায়েস’ (ঘি, খেজুর ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো খাবার) তৈরী করলেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলেদের জন্য ওয়ালিমা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। বিয়েতে কনেপক্ষ কোনোরূপ খরচ করতে বাধ্য নয়। কনে পক্ষকে মেহমানদারি করানোর জন্য চাপের মুখে বাধ্যকরা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। এতে অংশ নেওয়াও হারাম। কারও উপর জোর প্রয়োগ করে কোনো খাবার গ্রহণ করা জুলুমের শামিল। যৌতুক নেয়া সম্পূর্ণ হারাম। (কিতাবুন নিকাহ; দুররুল মুখতার, রদ্দুল মুহতার)।
ওয়ালিমা করার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকঃ
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন শাদী মুবারক করলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ওয়ালিমা করার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন-
أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ
অর্থ: “আপনি ওয়ালিমার আয়োজন করুন, হোক না তা একটি বকরী দিয়ে।” (বুখারী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২০৪৮; মুসলিম শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّهُ لَا بُدَّ لِلْعُرْسِ مِنْ وَلِيمَةٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই বিবাহের জন্য ওয়ালিমার আয়োজন থাকা আবশ্যক।” (মুসনাদে আহমাদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২২৫২৬;)
ওয়ালিমার দাওয়াত কবুল করার হুকুমঃ
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে কেবল ওয়ালিমা করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক নয়, বরং ওয়ালিমার দাওয়াত কবুল করা বা রক্ষা করা আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জমহুর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতে, কোনো শরীয়তসম্মত ওজর বা ওয়ালিমার অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কর্মকা- না থাকলে ওয়ালিমার দাওয়াত গ্রহণ করা আবশ্যক।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْوَلِيمَةِ فَلْيَأْتِهَا
অর্থ: “তোমাদের কাউকে যখন ওয়ালিমার দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যেন তাতে উপস্থিত হয়।” (মুসলিম শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩৪০৩)
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُولَهُ
অর্থ: “আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করল না, সে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবাধ্য হলো।” (মুসলিম শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৪৩২)
সামর্থ্য অনুযায়ী ওলিমার আয়োজন করা:
উল্লেখ্য, ওয়ালিমার জন্য বিশাল বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন জরুরি নয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাতু ও খেজুর দিয়েও মহাসম্মানিত ওয়ালিমা মুবারক করেছেন। তাই, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সাধ্য মুতাবিক ওয়ালিমার আয়োজন করবে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তরীক্বায় বিবাহের মোহর
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শীত নিবারনে কোন কোন পোশাক সম্মানিত সুন্নত মুবারক? এ বিষয়ে জানা ও ইত্তেবা (অনুসরণ) করা সকলের জন্য ফরয। (পর্ব-২)
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিবাহের ক্ষেত্রে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিবাহের পূর্বে বরকে ও কনেকে দেখার সম্মানিত শরয়ী অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিবাহের প্রস্তাব দেয়া এবং সম্মতি জ্ঞাপন করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিবাহের ক্ষেত্রে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী আসবাবপত্রের পরিচয় ও ব্যবহার করার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












