নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২৫)
, ০৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
রাম গোপালের নির্মম পরিণতি:
১৯৩৬ খৃষ্টাব্দের ঘটনা। পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হলো। খবরে বলা হয়েছে, পল্লোল জেলাধীন গোভ গাঁয়ের পশু হাসপাতালের এক ইনচার্জ ডাক্তার রাম গোপাল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে তার গাধার নাম রেখেছে। নাঊযুবিল্লাহ! সংবাদ ছাপামাত্র মুসলমানরা ক্ষোভে উত্তেজনায় ফেটে পড়লেন। ইংরেজরা মুসলমানদের এই চাপে প্রভাবশালী অপরাধীর বিচার করার পরিবর্তে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নার নাবিন্দ জেলাকে ঘেরাও করে কেল্লায় রুপান্তরিত করলো।
রাম গোপালের গোস্তাখি বরদাশত করার মত সাধারণ কোন গোস্তাখি ছিলো না। যে সংবাদে প্রতিটি মুসলমানের রক্ত টগবগ করে উঠেছে, সেখানে মুরীদ হোসাইনের অবস্থা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। তার ক্রোধ অগ্নিশর্মা হয়ে উথলে উঠলো। তার আত্মমর্যাদাবোধ আরো কয়েক গুণ শক্তিশালী হয়ে জেগে উঠলো। আগে থেকেই তিনি স্বপ্নযোগে গায়েবী ইশারা পেয়ে আছেন। সংকল্প করলেন, জীবন সম্পদের কুরবানী দিয়ে হলেও এই নির্লজ্জ আস্ফালনকারী পাপীকে এমন শিক্ষা দিবেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোন দিন এমন স্পর্ধা দেখানোর আগে তার এই পরিণতির কথা একবার নয়, দুইবার নয় বরং বারবার স্মরণ করে।
মুরীদ হুসাইন শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে এই মহৎ কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন। প্রথমে লাহোরের কোয়েটায় ইসলামী কলেজে উনার এক বন্ধুর কাছে অবস্থান নিলেন। সেখান থেকে বিভিন্ন রাস্তাঘাটের অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন। এরপরে অভিশপ্ত কটূক্তিকারীকে হত্যা করার জন্য তিনি তথ্য সংগ্রহ করতে লাগলেন এবং গোপনে গোপনে প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় সফরের এক পর্যায়ে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে সরাসরি আজাদি আন্দোলনের মুজাহিদ; হাজী তারাংজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অস্ত্র সংগ্রহের জন্য। অবশেষে আপন মুরশিদে কামিল উনার অনুমতিক্রমে অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও নিখুঁত পরিকল্পনার জন্য লাহোরের পথে দিল্লি পৌঁছলেন।
মুনীর নওয়াবি লিখেন- মুরীদ হুসাইন আর উনার সম্মানিত পীরে কামিল উনাদের মাঝে কি গোপন আলাপ হয়, তা পীর-মুরীদ ও তাক্বদীরের খালিক্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আর কেউ জানতো না। অবশ্য শাহযাদা মুহম্মদ ইয়াকূব সাহেব আমাকে বলেছেন, মুরীদ হুসাইন হযরত খাজা সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাত করে যখন বের হলেন, তখন তিনি চোখের পানি মুছছিলেন। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুই বললেন না। এরপর এখান থেকে বের হয়ে গেলেন। মিল্লাতে ইসলামিয়ার এই সিংহ শিকার ধরার প্রস্তুতি নিয়ে ৭ই আগস্ট ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে দিল্লি থেকে গন্তব্যের ত্রিশ মাইল দূরে কেল্লা এবং সেখান থেকে প্রায় ত্রিশ মাইল দূরে নারনাবিন্দ। মুরীদ হুসাইন সাহেব দিল্লি থেকে রেলে সওয়ার হয়ে হাঁসি স্টেশনে নামলেন। সেখান থেকে উনাকে আর মাত্র তিন চার মাইল সামনে যেতে হবে। নদীর তীর ধরে পায়ে হাঁটতে লাগলেন। সূর্য ডুবে গেলো। ঘাসের ঝোপে রাত কাটালেন।
৮ই আগস্ট ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এমন পথে হাসপাতালের কাছে পৌঁছে গেলেন, যেন কেউ সন্দেহ করার সুযোগ না পায়। পকেট থেকে ছোট্ট নোট বুক বের করে একটা সংরক্ষিত জায়গায় লেখেন এবং যাতায়াতকারীদের প্রতি সূক্ষè দৃষ্টি রাখতে লাগলেন। অবশেষে হাট্টাগাট্টা এক লোকের উপর উনার দৃষ্টি আটকে গেলো। এটাই ছিলো কালের কলঙ্ক সেই মালঊন ডাক্তার, যেই কুলাঙ্গার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কটূক্তি করেছে। প্রথম দৃষ্টিতেই দুশমনে রসূলকে শনাক্ত করতে উনার কোন অসুবিধা হলো না।
মালঊন ডাক্তার রাম গোপাল হাট্টাগাট্টা বিশাল দেহের অধিকারী ছিলো। পক্ষান্তরে মুরীদ হুসাইন ছিলেন হালকা পাতলা গড়নের। কিন্তু ইশকে রসূল ও জযবায়ে ঈমানে টইটম্বুর দুঃসাহসিক হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তিত্ব। সাহসের মহড়া দিয়ে রাম গোপালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সে বাঁচার চেষ্টা করলো। হাসপাতালের এক আমলা তার বউ-বাচ্চাসহ তাকে বাঁচানোর চেষ্টায় দ্রুত এগিয়ে আসলো। মুরীদ হুসাইন সাহেব জান হাতে রেখে নারায়ে তাকবীর ধ্বনি বুলন্দ করলেন এবং হিংস্র পশু কাহিকা দেখ আজ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশেক্ব এসে গেছেন বলে ছোট্ট খঞ্জরের এক আঘাতেই মাহবূবে খোদা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুশমনকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন। সেদিন থেকে তিনি মুসলমানদের কাছে মুরীদ হুসাইন হয়ে গেলেন। কুত্তাটা সেখানেই মরে গেলো। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












