সুন্নত মুবারক তা’লীম
দুধ পান করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক (১)
, ২৭ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৪ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পৃথিবীর সেরা খাদ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম খাদ্য দুধ। আমাদেরকে যদি পুষ্টিকর খাদ্যের তালিকা করতে বলা হয়, তাহলে এর প্রথম সারিতেই থাকবে দুধের নাম। দুধ আমাদের শুধু শারীরিক শক্তিকেই নয় বরং শারীরিক ও মানসিক উভয় শক্তিকেই বৃদ্ধি করে থাকে। পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এটি একটি আদর্শ খাদ্য।
ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ছাড়াও দুধে থাকে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদান। শিশুর বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য দুধ অপরিহার্য। মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার মূল উপাদান দুধ। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি দুধের মধ্যে উনার রহমত বরকত মুবারক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।
মূলতঃ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যেই মহান আল্লাহ পাক তিনি দুধের মধ্যে এত রহমত, বরকত মুবারক দান করেছেন। কেননা দুধ ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রধান খাদ্য মুবারকসমূহের মধ্যে অন্যতম।
এখান থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, সেটা হলো নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুধ পান করেছেন। অর্থাৎ দুধ পান করা খাছ সুন্নত মুবারক।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَلٰى اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَة عَشَرَ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَجَاءَتْنَا بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا عَلٰى يـَمِيْنِهٖ وَخَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَلٰى شِـمَالِهٖ فَقَالَ لِي الشَّرْبَةُ لَكَ فَإِنْ شِئْتَ اٰثَرْتَ بِـهَا خَالِدًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ. فَقُلْتُ مَا كُنْتُ اُوْثِرُ عَلٰى سُؤْرِكَ اَحَدًا. ثُـمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَطْعَمَهُ اللهُ الطَّعَامَ فَلْيَقُلِ اللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ. وَمَنْ سَقَاهُ اللهُ لَبَنًا فَلْيَقُلِ اللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ. وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ شَيْءٌ يَـجْزِيْ مَكَانَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ غَيْرُ اللَّبَنِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হয়রত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র হুজরা শরীফে আমাদেরকে নিয়ে তাশরীফ মুবারক নিলেন। এ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারকে আমি এবং হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আমরা উপস্থিত ছিলাম।
এমতাবস্থায়, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি এক পাত্র দুধ পাঠালেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (তা হতে) দুধ পান করলেন। উনার ডান পাশে ছিলাম আমি এবং বাম পাশে ছিলেন হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন- এখন আপনার পান করার পালা। তবে আপনি চাইলে আপনার উপর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। তখন আমি বললাম, আপনার উচ্ছিষ্ট মুবারকে আমি আমার উপর অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিবো না। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে আহার করান তিনি যেন বলেন,
اللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ
উচ্চারণ, (‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফীহি ওয়া আত্বয়িমনা খইরাম মিনহু’)
অর্থ: আয় মহান আল্লাহ পাক! আমাদেরকে এ খাদ্যে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাবার আহার করান।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে দুধ পান করান তিনি যেন বলেন
اللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ
উচ্চারণ, (‘আল্লাহুম্মা বারিক্লানা ফীহি ওয়া যিদ্না মিনহু’)
অর্থ: আয় মহান আল্লাহ পাক! আমাদেরকে এ দুধে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে এর চাইতেও বেশি দান করুন।
এরপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মত দুধের বিকল্প কোন খাবার নেই। ” (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুদ দাওয়াত: বাবুন মা ইয়াক্বলু ইজা আকাল ত্ব‘য়াম: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:২৪৫৫, ইবনে মাজাহ শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:৩৩২২)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায আদায় করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব ও দু‘আসমূহ
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দৃষ্টান্ত
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












