সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দৃষ্টান্ত
, ২রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৪৭১ হিজরী সনের ১লা রমাদ্বান শরীফ দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেন এবং ৫৬১ হিজরীর ১১ই রবীউছ ছানী শরীফ মাস উনার ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফে পবিত্র বিছাল শরীফ প্রকাশ করেন।
তিনি হলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ ওয়ারিছ, নায়িব, আওলাদ। তিনি ৬শ’ হিজরী শতাব্দীর ‘মুজাদ্দিদ’। অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে যে সমস্ত কুফর, শিরক, বিদয়াত প্রবেশ করেছিল সেগুলো বের করে দেয়ার জন্য অর্থাৎ মিথ্যাকে মিটিয়ে দিয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেন । সুবহানাল্লাহ!
তিনি সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করতেন। কিতাবে একটি ওয়াক্বেয়া উল্লেখ করা হয়। তা হলো-
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউসুল আ’যম, শায়েখ সাইয়্যিদ মুহীউদ্দীন আব্দুল ক্বদীর জিলানী হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যামানায় এক ব্যক্তি যিনি খলীফার পোশাক বা কোর্তা সেলাই করতেন। খলীফা তিনি উনাকে যে পরিমাণ বিনিময় প্রদান করতেন, তাতে উনার সংসার এক বছর চলে যেত।
উক্ত ব্যক্তি একবার খলীফার জন্য একটি কোর্তা সেলাই করলেন, কিন্তু কোর্তাটি কিছুটা ছোট হয়ে যায়। তাই খলীফা উক্ত কোর্তাটি গ্রহণও করল না এবং তাকে কোন বিনিময়ও প্রদান করল না। এতে উক্ত ব্যক্তি খুব ব্যথিত ও চিন্তিত হলেন। কারণ খলীফার দেয়া বিনিময় দ্বারাই তিনি এক বছর সংসার চালিয়ে থাকেন। এদিকে হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এক মুরীদ উক্ত ব্যক্তিকে এই বলে পরামর্শ দিলেন যে, আপনি হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এ ব্যাপারটি খুলে বলেন।
তাই উক্ত ব্যক্তি ব্যাপারটি হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট খুলে বললেন। তখন হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ঠিক আছে কোর্তাটি আমাকে দিয়ে দাও। অতঃপর তিনি নিজ পকেটে হাত ঢুকালেন এবং হাতে যা আসলো, তা সবই উক্ত ব্যক্তিকে প্রদান করলেন। দেখা গেল যে, খলীফা উক্ত ব্যক্তিকে কোর্তার বিনিময়ে যে মূল্য প্রদান করতো তার চেয়েও বহুগুণ বেশী মূল্য হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে দিয়েছেন।
তারপর সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোর্তাটি গায়ে দিয়ে দেখেন যে, কোর্তাটি নিছফুসসাক্ব থেকে ছোট, তাই তিনি উক্ত ব্যক্তিকে বললেন, আমার নিকট চট রয়েছে, তুমি চট জোড়া দিয়ে কোর্তাটি নিছফুসসাক্ব করে দাও। কারণ নিছফুসসাক্ব না হওয়া পর্যন্ত এ কোর্তা দ্বারা কখনোই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আদায় হবেনা। সুবহানাল্লাহ!
এখন ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহাসম্মানিত সুন্নত উনার কতটুকু অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। মূলতঃ মহাসম্মানিত সুন্নত উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ করার কারণেই তিনি এত বিরাট মর্যাদা বা সফলতা লাভ করেছেন।
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
অর্থ : যে বা যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল, হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে সম্মানিত ইত্তিবা’ মুবারক, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবেন, উনারা অবশ্যই বিরাট সফলতা লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)
জান্নাতে সাথী হওয়া: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
قَالَ حَضْرَتْ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَحَبَّ سُنَّتِيْ فَـقَدْ اَحَبَّنِيْ وَمَنْ اَحَبَّنِيْ كَانَ مَعِيَ فِي الْـجَنَّةِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলেন, তিনি মূলতঃ আমাকেই মুহব্বত করলেন, আর যিনি আমাকে মুহব্বত করবেন, তিনি আমার সাথে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে প্রতিটি ক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












