পবিত্র ই’জায শরীফ
চাঁদের বুকে সত্যের উন্মোচন
, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কাফির সমাজ যখন অহংকার ও অবিশ্বাসে অন্ধ হয়ে সত্যকে অস্বীকার করছিলো, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রকাশ করেছিলেন এমন এক পবিত্র ই’জায শরীফ, যা আকাশ ও পৃথিবীকে একসাথে সাক্ষী বানিয়ে দেয়। সে পবিত্র ই’জায শরীফই আজ আমরা বর্ণনা করছি।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার আকাশ যখন গভীর রাতে জ্যোৎস্নায় ছেয়ে গিয়েছিলো। পূর্ণ চাঁদ তার সমস্ত সৌন্দর্য আর দীপ্তি নিয়ে আকাশম-লে বিরাজ করছিলো। ঠিক সেই সময় কুফর ও অহংকারে অন্ধ মুশরিকদের একটি বিরাট দল পরস্পর একস্থানে একত্রিত হলো। তাদের অন্তরে ছিলো একটিই ষড়যন্ত্র। আজ তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অতি কঠিন প্রশ্ন করবে। নাঊযুবিল্লাহ!
এমন এক দুশ্চিন্তা নিয়ে তারা হাজির হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে। বাহ্যিকভাবে তারা ভদ্রতার আবরণে কথা বললেও অন্তরে ছিলো চরম বিদ্বেষ। অতঃপর তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি আপনি সত্যিই মহান আল্লাহ পাক উনার সত্য রসূল হয়ে থাকেন, তবে আকাশের ওই চাঁদটিকে দু’ টুকরো করে দেখান।” এটি তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যাতে তারা ব্যর্থতার অজুহাত খুঁজে পায়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপ থেকে তাদের কথাগুলো শুনলেন। অতঃপর তিনি উনার পবিত্র শাহাদাত অঙ্গুলী মুবারক দ্বারা চাঁদকে ইশারা মুবারক করলেন। সাথে সাথে চাঁদ দ্বিখ-িত হয়ে গেলো!
এক টুকরো গিয়ে আবু কুবাইস পাহাড়ের উপর অবস্থান করলো, আর অন্য টুকরো কাইকায়ান পাহাড়ের উপরে চলে গেলো। দুই পাহাড়ের মাঝে স্পষ্ট ব্যবধানে দাঁড়িয়ে রইলো চাঁদের দুই অংশ যেন আকাশ নিজেই স্বাক্ষ্য দিচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই প্রকৃত সত্য মহাসম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্পষ্ট কণ্ঠে বললেন, “তোমরা সকলে সাক্ষী থাকো!” ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “আমি নিজেই সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি আমার নিজের চোখে দেখেছি চাঁদ দু’ভাগ হয়ে গিয়েছিলো, আর দুই অংশ দুই পাহাড়ে অবস্থান করছিলো।” এত বড় স্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরও মুশরিকদের অন্তরের কঠোরতা কমলো না; বরং পূর্বের চেয়ে আরও কুফরী, নাফরমানী বৃদ্ধি পেলো। কেউ বললো এটা জাদু, কেউ বললো এটা চোখের ভ্রান্তি। নাঊযুবিল্লাহ! সত্য তো সত্যই থাকে। সময় তার গায়ে ধুলোর আস্তরণ ফেলতে পারে, কিন্তু ঢেকে রাখতে পারে না। আর সত্যকে মুছে ফেলা তো দূরের কথা- সময় পার হলে সেই সত্যই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে।
আজ পৃথিবী বিজ্ঞানের নামে বহু আবিষ্কার করেছে। চাঁদে পা রেখেছে, গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করেছে। কিন্তু এই বিস্ময়কর পবিত্র ই’জায শরীফ কি মুছে ফেলতে পেরেছে? পারেনি। বরং বিজ্ঞান যত অগ্রসর হচ্ছে, চিন্তাশীল ও অকপট মানুষের কাছে এই ঘটনাটি ততই গভীর তাৎপর্য নিয়ে হাজির হচ্ছে। চাঁদ দ্বিখ-িত হওয়ার এই মহান পবিত্র ই’জায শরীফ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নয়; এটি সত্য ও বাতিলের মাঝে চিরন্তন পার্থক্যের এক জ্বলন্ত স্বাক্ষ্য, যা কিয়ামত পর্যন্ত ঈমানদারদের হৃদয়কে দৃঢ় বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত করে যাবে। চাঁদ দ্বিখ-িত হওয়ার এই মহান পবিত্র ই’জায শরীফ দ্বারা আমাদের শিখায় মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের সামনে কোনো অসম্ভব কিছু নেই। সত্য অস্বীকার করলে নিদর্শন দেখেও মানুষ পথভ্রষ্ট থাকে, আর যারা ঈমানদার অল্প ইঙ্গিতেই দৃঢ় বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত হন। তাই অহংকার অহমিকা ত্যাগ করে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সত্যতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যই মুক্তির একমাত্র পথ।
-খুবাইব আহমদ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদব মুবারক শিক্ষা দান
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৯)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবত্রি পরিভাষা মুবারক
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৮)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৭)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (২)
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৬)
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৩৯)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত আবনাউ রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে এবং মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত বানাতু রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি ছূরত মুবারক এবং ত্ববী‘য়ত মুবারক সর্ম্পকে র্বণনা
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












