“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়”
, ০৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদেরকে ইলিম-তালীম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার জন্য বহু মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে তাকীদ দিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক মুসলমানের উপর ইলিম অর্জন করা ফরজ”।
এই পবিত্র হাদীছ শরীফে মুসলমান বলতে মহিলা ও পুরুষ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শরয়ী এবং পার্থিব উভয় প্রকার ইলিম অর্জনের জন্য পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের প্রতিও মুবারক নির্দেশ রয়েছে। পুরুষদের জন্য ইলিম-তালীমকে যেরূপ জরুরি করা হয়েছে, মহিলাদের জন্যও তেমনি আবশ্যক করা হয়েছে। পুরুষরা যেমন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তালীম মুবারক গ্রহণ করতেন, মহিলারাও তেমনি পর্দার সাথে তালীম মুবারক গ্রহণ করতেন। শুধু সম্ভ্রান্ত নারীদেরকেই নয়, বরং বাঁদীদেরকেও ইলম-তালীম শিক্ষা দেওয়ার জন্য নির্দেশ মুবারক রয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যার নিকট কোনো বাঁদী আছে এবং সে তাকে ইলম-তালীম শিক্ষা দান করে, ভালভাবে সুশিক্ষার ব্যবস্থা করে, ভদ্রতা ও শালীনতা শিক্ষা দেয়, এবং মর্যাদা দান করে, তার জন্যে রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।’
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “কোন ব্যক্তি কন্যা সন্তানকে উত্তমভাবে লালন পালন করলে ঐ কন্যা তার জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।” অর্থাৎ কোন কন্যা সন্তানকে ছহীহ-বিশুদ্ধ আক্বীদা সহকারে ইলিম-তালীম শিক্ষা প্রদান সহ লালন-পালন করলে ঐ কন্যাই তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ‘ইলিম মুবারক’ শিক্ষা করার জন্য বলা হয়েছে। আর এ শিক্ষা পুরুষদের ন্যায় মহিলাদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য।
সন্তানদেরকে দ্বীনী ইলিম মুবারক শিক্ষা দিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নির্দেশ মুবারক করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা সন্তানদেরকে ৭ বছর বয়স হলে নামাযের আদেশ কর এবং ১০ বছর বয়সে নামায না পড়লে তাকে প্রহার কর। আর তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।”
মহিলাদের ইলিম-তালীম দানের ব্যবস্থাকারীকে জান্নাতের সুসংবাদ দান করে মহিলাদের ইলিম-তালীম গ্রহণের বিষয়টিকে গুরুত্ববহ ও উৎসাহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যার অধীনে তিন জন কন্যা বা বোন আছে, সে তাদেরকে ইলিম ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে এবং সে এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে, তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। জনৈক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যদি দু’জন থাকে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন: দু’জন হলেও। অন্য বর্ণনায় একজনের কথাও এসেছে।”
পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনারা যেমন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দ্বীনের গভীর ইলিম মুবারক অর্জন করতেন, তেমনি মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুন্না উনারাও ইলিম মুবারক অর্জন করতেন। শুধু তাই নয় বুযুর্গ পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনারা ও তাবে‘য়ীগণ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট হতে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে ইলিম-তালীম মুবারক লাভ করতেন। তিরমিযী শরীফে বর্ণিত রয়েছে, ‘আমাদের মাঝে যখনই কোনো পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিষয় নিয়ে সমস্যা দেখা দিতো, আমরা তখনই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট জিজ্ঞাসা করলে তার সমাধান পেয়ে যেতাম।” সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, বর্তমান যামানায় মহিলাদেরকে সেই ইলিম-তালীম মুবারক দান করছেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফযালুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। এ লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ ‘বালিকা মাদরাসা’।
-উম্মু মুদ্দাস্সির।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৭)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তওবা
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তমা’ বা ধন-সম্পদ পাওয়ার লোভ এবং তার প্রতিকার
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












