সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
“গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করা কবীরা গুনাহ” (পর্ব- ২)
, ০৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
জানার বিষয় হচ্ছে, যে ব্যক্তি তাক্বওয়া অবলম্বন করবে সে হজ্জ পালনে উপরোক্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকবে। অন্যথায় মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক লঙ্ঘন করা হবে। আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক লঙ্ঘন করবে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَنْ يَعْصِ اللهَ وَ رَسُوْلَه وَ يَتَعَدَّ حُدُوْدَه يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَ لَه عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
অর্থ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফরমানী করবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে; তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (পবিত্র সূরা নিসা : আয়াত শরীফ- ১৪)
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ পালনে বাধা থাকলে হজ্জ্ব আবশ্যক থাকেনা। আর বাধা না থাকলে হজ্জ্ব আদায় না করে মারা গেলে ইহুদী-নাছারা হয়ে মারা যাবে। যেমন: পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عًنْ حَضْرَتْ اَبِىْ اُمَامَةَ الْبَاهِلِى رَضِىَ اللّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ الله صلى الله عليه و سلم مَنْ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ الْحَجِّ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ اَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ اَوْ مَرَضٌ حَابِسٌ فَمَاتَ وَ لَمْ يَحُجَّ فَلْيَمُتْ اِنْ شَاءَ يَهُوْدِيًّا وَاِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا
অর্থ: হযরত আবূ উমামা আল বাহেলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যার জন্য হজ্জ্বে বাধা দানকারী শর্তগুলো না থাকে যেমন- প্রকাশ্য বাধা, জালিম শাসক, কঠিন অসুস্থতা; এমতাবস্থায় সে হজ্ব না করে মারা গেলে হয়তো সে ইহুদী হয়ে মারা যাবে অথবা নাছারা হয়ে মারা যাবে। (দারিমী শরীফ)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, প্রকাশ্য বাধা অথবা জালিম শাসক কিংবা কঠিন অসুস্থতা এই তিনটি বিষয়ের যেকোন একটি দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে সে ইহুদী বা নাছারা হয়ে মারা যাবে না। আর বর্তমানে হজ্জ্ব করতে গেলে যেসব বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
প্রথমত: প্রকাশ্য বাধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে, হজ্জ্ব পালন করতে গিয়ে ছবি তুলতে হচ্ছে, বেপর্দা হতে হচ্ছে, এতে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক পালন করা যাচ্ছে না।
দ্বিতীয়ত: জালিম শাসকের বাধাও রয়েছে। যেমন সউদী সরকার কর্তৃক, পবিত্র হজ্জ্ব পালনে পুরুষ-মহিলা উভয়ের আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উভয়কে একত্রে হজ্জ্ব পালনে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়াও নিরাপত্তার নামে পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ উনাদের প্রতিটি স্থানে সি.সি.ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে প্রতি সেকেন্ডে, প্রতি মিনিটে, প্রতি ঘন্টায় অসংখ্য ছবি উঠছে। অথচ, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পবিত্র সম্মানিত স্থান উনার নিরাপত্তা দানকারী। মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১২৫নং আয়াত শরীফে সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ উনাকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
وَ اِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةَ لِّلنَّاسِ وَ اَمْنًا
অর্থ: আমি সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ উনাকে মানুষের জন্য সম্মিলন স্থল ও নিরাপদ স্থান করেছি।”
অর্থাৎ হজ্জের সময় অনেক মানুষ বাইতুল্লাহ শরীফে একত্রিত হয়; তাই এই স্থান উনাকে সম্মিলন স্থল বলা হয়েছে। আর একই সাথে এই সম্মানিত স্থান উনাকে মানুষের জন্য নিরাপদ স্থান করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো জানিয়েছেন,
إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَالَمِينَ فِيْهِ ايَاتٌ بَّيِّنَاتٌ مَّقَامُ اِبْرَهِيْمَ وَ مَنْ دَخَلَه كَانَ امِنًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মানুষের জন্য প্রথম ঘর তৈরী করা হয়েছে পবিত্র মক্কা শরীফে, বিশ্ববাসীর জন্য উহা বরকতময় এবং পথপ্রদর্শক। এই ঘর উনার মধ্যে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শন মাক্বামে ইবরাহীম। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ !” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ -৯৬, ৯৭)
যেখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র মক্কা শরীফ, বাইতুল্লাহ শরীফ উনাদের নিরাপত্তা দান করেছেন সেখানে বান্দাদের নিরাপত্তার কি প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে? মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনিই সর্বোত্তম নিরাপত্তা দানকারী।
অপরদিকে, বাংলাদেশ সরকারও পাসপোর্ট এবং ভিসায় বাধ্যতামূলক ছবির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যা মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান বহির্ভূত। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ উনার ৩০নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ
অর্থ: তোমরা মূর্তির বা ছবির অপবিত্রতার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো।”
আর সহীহ বুখারী শরীফে এসেছে ,
اِنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ الْمُصَوِّرُوْنَ
অর্থ:“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ঐ ব্যক্তির; যে প্রাণীর ছবি তুলে, আঁকে, রাখে। আরো বর্ণিত আছে,
كُلُّ مُصَوِّرٍ فِى النَّارِ
অর্থাৎ “প্রত্যেক ছবি তুলনেওয়ালা, আঁকনেওয়ালা, রাখনেওয়ালা, দেখনেওয়ালা জাহান্নামী। নাউযুবিল্লাহ !!
এছাড়া আরো অধিক আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা ছবি তোলা, আকাঁ, রাখা নিষেধ করা হয়েছে এবং এর থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। অথচ, বর্তমানে মুসলমানগণ উভয় সরকারের পক্ষ থেকে ছবির কারণে শরীয়াহ মোতাবেক অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মোতাবেক হজ্জ্ব পালনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা।)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসকে একমাত্র বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ীরাই নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করতে বলে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আসন্ন পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং পবিত্র আশূরা শরীফ উভয়ের প্রতি সম্মান করা ফরয
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












