ঘটনা থেকে শিক্ষা
হে দুনিয়া! তোমার এই সূরত কেন? তোমার একটা হাত সামনে, একটা হাত পিছনে...
, ২২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, জলীলুল ক্বদর রসূল, যিনি উলুল আযম মিনার রসূল, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, তিনি বর্ণনা করেছেন যে, একস্থানে তিনি একবার রাস্তা দিয়ে কোথাও হেঁটে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ দেখলেন তিনি দুনিয়াকে। তার সূরত হচ্ছে- মহিলার সূরত। তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, তার একটা হাত সামনে, একটা হাত পিছনে। সামনেরটা খুব রঙ্গীন, চাকচিক্যময়। তিনি দুনিয়াকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “হে দুনিয়া! তোমার এই সূরত কেন? তোমার একটা হাত সামনে, একটা হাত পিছনে। তোমার পিছনের হাতটা আমাকে দেখাও।” যখন মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন একথা, তখন সে পিছনের হাতটা দেখাল। দেখা গেল তার পিছনের হাতের মধ্যে একটা ছুরি, তা থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি তাকে বললেন, এটার কি হাক্বীক্বত রয়েছে? দুনিয়া বললো, হে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, মূলতঃ আমার সামনে যে হাতটা আপনি দেখছেন রঙ্গীন, চাকচিক্যময়, এটা দিয়ে আমি মানুষকে ভুলিয়ে ফেলি, ধোঁকা দেই। আর মানুষ এই রঙ্গীন-চাকচিক্যময় এসব দেখে দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে তারা দুনিয়াতে গরক হয়ে যায়। আর আমার পিছনের যে হাতটা দেখছেন, তাতে ছুরি রয়েছে, রক্ত ঝরছে, আমি সেই হাতটা দিয়ে দুনিয়ায় তাকে মোহগ্রস্ত করে হত্যা করে ফেলি। দুনিয়ার মোহের মধ্যে রেখে তার মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেই। সেই রক্তই আমার এই ছুরি থেকে ঝরছে। সেই বান্দারা দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে যায় এবং সে অবস্থায় সে ইন্তেকাল করে। যার ফলশ্রুতিতে সে জান্নাতে না গিয়ে জাহান্নামে যায়। মূলত দুনিয়া সেটাই চায়। দুনিয়া মানুষকে মোহগ্রস্ত করে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে গাফেল করে দিয়ে গায়রুল্লার মধ্যে মশগুল করে মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। যার ফলশ্রুতিতে সেই বান্দা, সেই ব্যক্তি নাযাত না পেয়ে জাহান্নামে গিয়ে পৌঁছে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেটা মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়ার মুহব্বত থেকে দূরে থাকাই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে গরক থাকা, সেটাই তার জন্য কামিয়াবী। কারণ ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক, জানতে হোক, অজান্তে হোক, খেয়ালে হোক, বেখেয়ালে হোক আমরা যেহেতু জমিনে বসবাস করি, সেহেতু জমিনের একটা তাছীর আমাদের মধ্যে পড়বেই। সেই তাছীর থেকে বেঁচে থাকা কঠিন এবং দূরূহ ব্যাপার। সেই তাছীর থেকে বেঁচে থাকার জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত হওয়ার জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হওয়ার জন্য যতটুকু সম্ভব আমাদেরকে কোশেশ করে যেতে হবে। কারণ একটা লোক যতদিন সে হায়াতে থাকে, তার মৃত্যু পর্যন্ত অনেক ব্যস্ততা, অনেক কাজ, কোন সময় নেই, এমনকি খাওয়ারও সময় নেই। ওযু-গোসলের সময় পাওয়া যায়না, নামাযের সময় পাওয়া যায়না, অনেক কাজের সময় পাওয়া যায়না। এত ব্যস্ততা আমাদের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এই লোকটাই যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন তার যত দায়িত্ব ছিল, সকল দায়িত্ব থেকে সে অবসর পেয়ে যায়। সে দায়িত্বগুলি কিন্তু আটকে থাকেনা। তার অনুপস্থিতিতে ক্ষেত্র বিশেষে তার চেয়ে আরো উত্তমভাবে কাজগুলি পরিচালিত হয়ে থাকে। সমাধা হয়ে থাকে। তাতে বুঝা যায়, তার অভাবে কাজের জন্য কোন অসুবিধা হবেনা। সে যদি দুনিয়ায় থাকতেই সময় করে নিত- তার নামাযে, তার কালামে, তার জিকিরে, তার ফিকিরে, তার ইবাদত, তার বন্দেগীর, তার মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত হওয়ার জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হওয়ার জন্য, তাতে কোন অসুবিধা হতোনা। কিন্তু সে মনে করে আমি ব্যতীত এটা সম্ভব নয় এবং আসলেও। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন পবিত্র হাদীসে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে-
اَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِىْ بِىْ.
“বান্দা আমাকে যেমন ধারণা করে, আমি তার সাথে তদ্রুপ ব্যবহার করে থাকি।”
যেহেতু সে ধারণা করেছে, সেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ঐ অবস্থায় রাখেন। সে ব্যতীত সেই কাজটা সমাধা হয়না এবং যার ফলশ্রুতিতে সে পর্যায়ক্রমে দুনিয়ায় মোহগ্রস্থ হয়ে দুনিয়াদার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তওবা
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












