মহিলাদের পাতা
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি একবার উনার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের দেখালেন যারা আরশের ছায়ায় স্থান লাভ করবেন। তাদেরকে যখন দেখানো হলো- তখন তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে বিশেষ মর্যাদাবান অবস্থায় দেখলেন। দেখে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক! আরশের ছায়ায় অনেকেই থাকবে এবং অনেকেই রয়েছে। একটা লোককে বিশেষ মর্যাদায় মর্যাদাবান দেখা যাচ্ছে তার কি কারণ, সে কি আমল করেছে যার জন্য সে আরশের ছায়ায় বিশেষ মর্যাদায় অবস্থান করতেছে?
মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিলেন, হে আমার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম ! আপনি জেনে রাখুন, এই লোকটার তিনটা গুণ ছিল।
লোকটার তিনটা গুণ ছিল। এক নাম্বার হচ্ছে- সে কখনও মানুষকে হিংসা করতো না, সাধারণতঃ অনেকের ধন-সম্পদ হয়ে গেলে হিংসা করে থাকে। সে কখনও কাউকে হিংসা করতো না।
দুই নাম্বার হচ্ছে- সে কখনও বিবাদ-বিসম্বাদ করতো না। একের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে ফিৎনা-ফ্যাসাদ, বিবাদ সে সৃষ্টি করতো না।
আর তিন নাম্বার, মূল যেটা সেটা হচ্ছে- সে সবসময় তার পিতা-মাতার আনুগত্যতা প্রকাশ করেছে, কখনও সে তার পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়নি বা কষ্ট দেয়ার কাজ করেনি। বরং আনুগত্যতা প্রকাশ করেছে। যার জন্য তাকে এই ফযীলত, বুযুর্গী ও সম্মান দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই পিতা-মাতার যে হক্ব রয়েছে সেটা খুব সহজ এবং খুব কঠিন। প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, সেটা যথাযথ আদায় করা। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি মূলতঃ প্রত্যেক নবী এবং রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পিতা-মাতার সৎ ব্যবহার সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন।
যেমন হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম উনার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন-
وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُنْ جَبَّارًا عَصِيًّا
“আমি হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম উনাকে নেক সন্তান করেছি অর্থাৎ তিনি পিতা-মাতার সহিত সৎ ব্যবহারকারী ছিলেন, জালিম এবং নাফরমান ছিলেননা।” (সূরা মারইয়াম/১৪)
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন যেটা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি নিজের মুখে বলেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা পবিত্র কুরআন শরীফ শরীফে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত মরিয়ম আলাইহিস সালাম উনার যখন সন্তান হলো অর্থাৎ সন্তান হওয়ার সময় যখন হয়ে গেল তখন তিনি দূরে চলে গেলেন। সন্তান হলে তিনি জনসমাবেশে ফিরে আসলেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে তিনি যখন ফিরে আসলেন তখন বললেন, মহান আল্লাহ পাক! মানুষ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করে তাহলে আমি কি বলবো? কারণ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার কোন পিতা ছিলেন না। এটা স্বাভাবিক মানুষের কাছে, এটা আশ্চর্য ঘটনা মনে হচ্ছে।
সত্যিই তিনি যখন ফিরে আসলেন তখন তারা বললো- হে মরিয়ম আলাইহিস সালাম ! আপনার সন্তান হলো কি করে?
তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন- হে হযরত মরিয়ম আলাইহিস সালাম! আপনি কোন কথা বলবেন না, আপনি শুধু আপন সন্তানের দিকে ইশারা করবেন।
যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন-
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا
তখন নিয়ম ছিল-রোজা রাখলে কথা বলা নিষেধ। তিনি বললেন, আমি রোজা রেখেছি। কাজেই কথা বলা যাবে না। তোমরা সন্তানকে জিজ্ঞাসা করো, অর্থাৎ কোলের সন্তানকে।
তারা বললো-
كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا
যে দোলনায় রয়েছে (শিশু) তার সঙ্গে আমরা কি করে কথা বলবো?
এটা বলার সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কথা বলে উঠলেন-
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا
“তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয় আমি মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।”
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا
“এবং আমাকে বরকতের কারণ করেছেন, আমি যেখানে থাকিনা কেন আমি বরকতের কারণ হবো। আমাকে নামাজের এবং যাকাতের আদেশ করা হয়েছে যতদিন আমি জীবিত থাকবো।”
অবশ্য এই আয়াত শরীফের তাফসীরে মুফাস্সিরীনে কিরাম বলেছেন যে, নবী আলাইহিস সালাম উনার উপর যাকাত ছিলনা, তিনি যেটা বলেছেন হয়তো ওটা উনার জন্য বিশেষ হুকুম অথবা উনার উম্মতের জন্য যে যাকাতের কথা বলা হয়েছে, সেটাই উল্লেখ করেছেন।
مَا دُمْتُ حَيًّا
“আমি যতদিন জীবিত থাকবো ততদিন আমার জন্য আদেশ করা হয়েছে- নামাজ এবং যাকাতের জন্য।”
وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا
“আমি নেক সন্তান, আমার মাতার প্রতি আমি অনুগত। আমি জালিম নই, বদবখ্তও আমি নই। অর্থাৎ আমি নেককার, নেকবখ্ত, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং আমার মাতার আমি অনুগত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (২)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












