মহিলাদের পাতা
তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (৪)
, ০৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
ছিফতের দিক দিয়ে তালাক দুই প্রকার:
১. সুন্নী তালাক। ২. বিদয়ী তালাক।
আবার সুন্নী তালাক দুই প্রকার: (ক) احسن (আহসান তালাক) (খ) حسن (হাসান তালাক)
(ক) আহসান তালাক : এমন তালাককে বলা হয়, যে নিজের স্ত্রীকে এমন তহুরে এক রাজঈ তালাক দিবে, যে তহূরে তার সাথে অতী করেনি। তারপর তাকে এই অবস্থার উপরই ছেড়ে দিবে এবং তার ইদ্দত শেষ হবে তথা তিন স্বাভাবিক মাজুরতা শেষ হয়ে যাবে। আর হামেলা হলে সন্তান জন্মগ্রহন করবে। ইদ্দত অতিবাহিত হলে সে আপনা আপনিই বায়িন হয়ে যাবে।
(খ) হাসান তালাক : স্ত্রীকে এমন তহূরে তালাক দিবে যে তহূরে তার সাথে অতী করেনি। প্রথম তহূরে তাকে এক তালাক দিবে। তারপর দ্বিতীয় তহূরে দ্বিতীয় তালাক দিবে। আর তৃতীয় তহুরে তৃতীয় তালাক দিবে। (মুহীতে ছুরুখসী, আলমগীরী)
(২) আর একই তহূরে তিন তালাক অথবা একসাথে তিন তালাক কিংবা যে তহূরে অতী করা হয়েছে সেই তহূরে এক তালাক দেয়া। যার সাথে অতী করা হয়েছে তাকে স্বাভাবিক মাজুরতার সময় এক তালাক দেয়াকে তালাকে বিদয়ী বলা হয়। এরূপ তালাক কার্যকর হবে তবে তালাকদাতা কঠিন গুনাহগার হবে।
শব্দগত দিক দিয়ে তালাকের প্রকারভেদ:
তালাক দেয়ার জন্য যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয় তা দুই প্রকার:
১. পরিষ্কার অর্থ প্রকাশক এবং একার্থবোধক, যাকে তালাকে সরীহ বলা হয়। যেমন- কেউ তার আহলিয়াকে বললো, “আমি তোমাকে তালাক দিলাম” কিংবা “আমি আমার আহলিয়াকে তালাক দিলাম।”
২. যার অর্থ পরিষ্কার নয়। একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে। তালাকের অর্থও হতে পারে। আবার অন্য অর্থও হতে পারে। যেমন- কেউ তার আহলিয়াকে বললো, “আমি তাকে দূর করে দিলাম।” এই কথার অর্থ তালাক হতে পারে, আবার এই অর্থও হতে পারে যে, তালাক দেইনি। বর্তমানে আমার আহলিয়াকে আমার কাছে আসতে নিষেধ করেছি।” এরূপ শব্দকে কিনায়া বলে। কিনায়ার আরো অনেক শব্দ আছে। যেমন- কেউ তার আহলিয়াকে বললো, তুমি তোমার বাবার বাড়ীতে গিয়ে থাক, আমি তোমার খবর নিতে পারবো না, আমার সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই, আমার বাড়ী থেকে চলে যাও, দূর হয়ে যাও ইত্যাদি। এই সব শব্দের দুই দুই অর্থ হতে পারে। তালাকের অর্থও হতে পারে। আবার অন্য অর্থও হতে পারে।
সরীহ বা সুস্পষ্ট ও একার্থবোধক শব্দ দ্বারা তালাক দিলে তালাক দেয়ার নিয়ত করুক আর না করুক তাতে তালাক পতিত হবে। এমন কি হাসি বা ঠাট্টার ছলে বললেও তালাক হয়ে যাবে। আর “এক তালাক” বললে বা শুধু “তুমি তালাক” বললেও এক তালাকে রাজঈ পতিত হবে। আর দুই তালাক বললে কিংবা দুই তালাকের নিয়তে দুই বার তালাক শব্দ (তালাক, তালাক) বললে, দুই তালাকে রাজঈ হবে। কিন্তু তিন তালাক বললে কিংবা তিন তালাকের নিয়তে তালাক শব্দ তিন বার উচ্চারণ করলে (তালাক, তালাক, তালাক) তিন তালাকে মুগাল্লাযা হয়ে যাবে। তবে যদি এক তালাকের নিয়ত করতঃ তাকিদ বা দৃঢ়তার জন্য তিন বা ততোধিকবার তালাক শব্দ উচ্চারণ করে তাহলে এক তালাকই পতিত হবে। বাকীগুলো তাকিদ বলে গণ্য হবে। তিন তালাক একই সাথে দিলে তালাকদাতা কঠিন গোনাহগার হবে।
এক তালাক দেয়ার পর যতদিন ইদ্দত শেষ না হয় (স্বাভাবিক মাজুরতা তিন বার অতিবাহিত হওয়া) ততদিন আরো দুই তালাক দেয়ার ক্ষমতা স্বামীর থাকে। ইচ্ছা করলে দ্বিতীয়, তৃতীয় তালাকও দিতে পারে। কাজেই ইদ্দতের মধ্যে যদি এক তালাক বা দুই তালাক দেয়, তবে তাও তালাক হবে।
‘তালাক দিব’ বললে তালাক হবে না। অতীত বা বর্তমান কালের শব্দ ব্যবহার করলে তালাক হবে। কিন্তু ভবিষ্যতকালের শব্দ ব্যবহার করলে তালাক হবে না।
কাজেই, যদি কেউ তার আহলিয়াকে বলে যে, “যদি তুমি অমুক কাজ করো, তবে তোমাকে তালাক দিবো” এরূপ বললে, সে কাজ করুক বা না করুক- তালাক পতিত হবে না। অবশ্য যদি এরূপ বলে যে, “যদি তুমি অমুক কাজ করো তবে তোমাকে তালাক দিলাম।” তাহলে যখন একাজ করবে, তখনই তালাক সংঘটিত হবে।
যদি কেউ তালাক দেয়ার সাথে সাথেই ইনশাআল্লাহ বলে দেয় কিংবা এরূপ বলে যে, মহান আল্লাহ পাক চাহে তো তালাক, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না। অবশ্য তালাক দেয়ার পর কিছুক্ষণ দেরী করে যদি ইনশাআল্লাহ বলে, তবে তালাক হয়ে যাবে।
সংকলন-সম্পাদনায় : মুফতি সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












