হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ২৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهٖ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(২৭)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সুদৃঢ় ঈমান মুবারক- ‘আমার ঘরে আগুন লাগতে পারে না’
বিশিষ্ট্য ছাহাবী হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মহাসম্মানিত মসজিদে নববী শরীফ-এ পবিত্র ইবাদতে রত আছেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললো- হে হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! দেখে এলাম আপনার মহল্লায় আগুন লেগে ঘর বাড়ি পুড়ে ভস্মে পরিণত হয়েছে। আর আপনি পবিত্র মসজিদে বসে আছেন!
হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমার ঘরে আগুন লাগতে পারে না। তিনি নিশ্চিন্তে পবিত্র ইবাদতে মশগুল থাকলেন।
এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে বললো- হে হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনার সর্বনাশ হয়েছে। আপনার মহল্লায় আগুন লেগে সব নিঃশেষ হয়েছে।
হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমার ঘরে আগুন লাগবে না। তিনি যথাস্থানে বসে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করতে থাকেন। সংবাদদাতা হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাঝে কোনো পরিবর্তন না দেখে বিস্মিত হলেন এবং চলে গেলেন।
তৃতীয় ব্যক্তি এসে হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ বসা দেখে চিৎকার করে বলতে লাগলো- হে হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার কল্যাণ করুন। আপনি বাড়ি-ঘরের খবর নিন। আপনার মহল্লায় আগুন লেগেছে।
হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইয়াক্বীনের সাথে বলতে লাগলেন- না আমার ঘর আগুন স্পর্শ করতে পারে না।
চতুর্থব্যক্তি এসে বিস্ময়ের সুরে বললো- হে হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আজ একটি আশ্চর্য কা- দেখে আসলাম। আগুন লেগে আপনার মহল্লার অনেক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু আপনার ঘর মুবারক উনার সীমানায় এসে অলৌকিকভাবে আগুন থেমে গেলো। এর কারণ আমি খুঁজে পাইনি। হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অতিশয় শান্তভাবে জাবাব দিলেন, এ কথাতো আমি আগেই আঁচ করেছিলাম। এ অভাবনীয় জবাব শুনে এ ব্যক্তি আরো কৌতূহলী হয়ে ওঠে।
এবার হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সবিস্তারে বলে চললেন, দেখো, আমার প্রিয় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে একটি দোয়া মুবারক শিখিয়েছেন। আর বলেছেন, হে হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি যদি প্রত্যুষে এ দোয়া মুবারক পড়ে ঘর থেকে বের হন। তা হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত আপনার যাবতীয় মাল-আসবাবকে হেফাজত করবেন। প্রথম ব্যক্তি এসে যখন আমাকে এ খবর দিলো তখন আমি খেয়াল করি আজ ভোরে ঘর থেকে বের হবার সময় আমি দোয়া পড়েছিলাম কি-না। আমার সত্য সত্য মনে আছে আজ ভোরে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আমি দোয়া মুবারকটি পড়েছিলাম। এরপর আমার সামনে দু’টি বিষয়ের যেকোনো একটি বিশ্বাস করার প্রশ্ন আসে। বিষয় দু’টি হলো-
১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুস সালাম মুবারক (জবান মুবারক) নিঃসৃত মহাসম্মানিত ক্বওল মুবারক বা হাদীছ শরীফ।
২. তোমাদের নজর।
আমি তোমাদের নজরকেই মিথ্যা বলে অবিশ্বাস করতে পারি। কিন্তু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুস সালাম মুবারক (জবান মুবারক) নিঃসৃত মহাসম্মানিত ক্বওল মুবারক বা হাদীছ শরীফ উনাকে কোনোভাবেই আমি সত্য না জেনে পারি না। বরং অবশ্যই অবশ্যই তা সত্য।
হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অন্তরে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি গভীর, সীমাহীন মুহব্বত মুবারক ও বিশ্বাস ছিলো। তাই একাধিক ব্যক্তির চাক্ষুস সংবাদকেও নির্দ্বিধায় অসত্য বিশ্বাস করে শান্ত মনে পবিত্র যিকিরে মশগুল ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২১)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ১০ মুহররমুল হারাম শরীফ দিনটিতে ভালো খাওয়া-পরার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তাহলে সারা বছর স্বচ্ছলতা লাভ করতে পারবেন
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












