হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ০৬ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করতে পারে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(১৩)
হযরত ওহাব ইবনে কাবুল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ মুবারক
হযরত ওহাব ইবনে কাবুল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন। উনার বাড়ি ছিলো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে। উনার পেশা ছিলো গ্রামে বকরি চরানো। একদিন তিনি আপন ভাতিজাসহ বকরিগুলো এক রশিতে বেঁধে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ পৌঁছে জানতে পারেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উহুদের ময়দানে কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদে রয়েছেন। শুনামাত্রই তিনি থমকে গেলেন, মনে মনে বলতে লাগলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাফিরদের সাথে জিহাদ করবেন, আর আমি বাড়িতে বসে বকরি চরাবো!
হযরত ওহাব ইবনে কাবুল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বকরির পাল সেখানে রেখেই উহুদের ময়দানের দিকে রওয়ানা হলেন। জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য তরবারি ধারণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে উপস্থিত হলেন।
এমন সময় কাফিরদের একটি দল আক্রমণোদ্ধত অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে এগিয়ে এলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- যে ব্যক্তি এদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিবে সে জান্নাতে আমার সাথী হবে।
হযরত ওহাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বীর বিক্রমে তরবারি চালিয়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেন।
দ্বিতীয়বার কাফির বাহিনী আক্রমণ করলে তখনো তিনি তরবারি চালিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামীর আনজাম দেন। তৃতীয়বার কাফিররা যখন আক্রমণ করে সামনে অগ্রসর হয়, এবারও তিনি বীরত্বের সাথে তাদেরকে প্রতিহত করলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আন্তরিক মহব্বত ও বীরত্ব দেখে সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করেন এবং উনাকে সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ দিলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ শুনে এবং উনার সুমহান সন্তুষ্টি মুবারক দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং পুনরায় কাফিরদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন। কাফিরদেরকে আক্রমণ করতে করতে এক পর্যায়ে তিনি সম্মানিত শাহাদাত মুবারক বরণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি এ জিহাদে উনার মতো বীরত্ব ও সাহসিকতা আর কারো মাঝে দেখিনি। উনার পবিত্র শাহাদাতের পর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি উনার শিয়রে দাঁড়িয়ে বললেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আমিও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি। সুবহানাল্লাহ! এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক)-এ উনাকে দাফন করেন। সুবহানাল্লাহ!
ফিকিরের বিষয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিহাদে রয়েছেন, একথা জানতে পেরে তিনি বকরির পাল রেখে জিহাদের ময়দানে চলে আসলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বতে কাফিরদের সাথে লড়াই করে তাদেরকে প্রতিহত করে তিনি সম্মানিত শাহাদাত বরণ করেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












