পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা উল্লেখ করেছেন, অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন তোমাদের মাতা তোমাদের জন্য, যেটা বেমেছাল, বলার অপেক্ষাই রাখে না। যেমন রেহেম শরীফে ধারণ করে কষ্ট করেছেন, জন্মের সময় কষ্ট করেছেন। এরপর একাধারে দু’বছর তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছেন, তাতেও অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন, যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এরপর সন্তান বড় হয়ে যায়, উপযুক্ত হয়, শক্তি সামর্থ হয়, চল্লিশ বছরে গিয়ে সে পৌঁছে। তখন তার কি করা কর্তব্য? তার কর্তব্য সেই দোয়া করা যা
أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْاَنْبِيَاءِ
হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি করেছিলেন উনার পিতা ও মাতার জন্য, আল-আওলাদের জন্য। যা মহান আল্লাহ পাক তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। তোমরা দোয়া করো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মাতা ও পিতাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের নেক কাজ করার তাওফিক দান করুন। এমন নেক কাজ যেটাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।
আর আমাদের আল-আওলাদ যারা আসবে পরবর্তী বংশধর হিসেবে, তাদেরকে নেককার করে দিন, ইছলাহ্প্রাপ্ত করে দিন এবং আমি নিশ্চয়ই দোয়া করবো, আমি নিশ্চয়ই আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি এবং তওবা করছি; খালেছ তওবা এবং নিশ্চয়ই আমি মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত।
কাজেই প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব রয়েছে দোয়া করা পিতা-মাতার জন্য।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍّ يَنْظُرُ إِلٰى وَالِدَيْهِ نَظْرَةَ رَحْمَةٍ؛ إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهٗ بِكُلِّ نَظْرَةٍ حَجَّةً مَبْرُورَةً. قَالُوا:يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنْ نَظَرَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ؟ قَالَ: نَعَمْ؛ اَللهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ.
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে দেখ,
مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍّ يَنْظُرُ إِلٰى وَالِدَيْهِ نَظْرَةَ رَحْمَةٍ
যদি কোন নেক সন্তান তার পিতা-মাতার দিকে নেক দৃষ্টি করে, দয়ার দৃষ্টি করে, ইহ্সানের দৃষ্টি করে,
إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهٗ بِكُلِّ نَظْرَةٍ حَجَّةً مَبْرُورَةً
মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেকটা দৃষ্টিতে একটা করে কবুল হজ্জ্বের ছওয়াব দিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রশ্ন করলেন-
قَالُوا:يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنْ نَظَرَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ؟
ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি কোন ব্যক্তি, তার পিতা-মাতার প্রতি প্রতিদিন একশবার দৃষ্টি করে তাহলে কি হবে? মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন-
قَالَ: نَعَمْ؛ اَللهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ.
“হ্যাঁ, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহান, বড় এবং পবিত্র।” একশবার সে যদি দৃষ্টি করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে একশটি হজ্বের ছওয়াব দান করবেন। সুবহানাল্লাহ! এবং এর চাইতে সে যদি বেশী দৃষ্টি করে তাহলে তার চাইতে বেশী মহান আল্লাহ পাক তিনি নেকী দেয়ার যোগ্যতা রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনটা গুণ যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে ব্যক্তি ঈমানের সাথে অবশ্যই ইন্তেকাল করবে, তার মৃত্যুর কষ্ট হবে না এবং সে অবশ্যই জান্নাতী হবে।
প্রথম হচ্ছে, যদি সে অসহায়, দুর্বল যারা; তাদের প্রতি দয়াশীল হয়।
দ্বিতীয় নম্বর বলা হয়েছে, যদি সে অধীনস্থদের প্রতি দয়া করে এবং সৎ ব্যবহার করে।
আর তিন নম্বর যেটা মূল সেটা হচ্ছে, যদি সে তার পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ইন্তেকাল করবে, মৃত্যুর কষ্ট তার লাঘব হবে এবং সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই সন্তানের অনেক হক্ব রয়েছে পিতার-মাতার প্রতি। যা সন্তানের আদায় করা আবশ্যক।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একজন আল্লাহওয়ালী মেয়ের দ্বীনী জযবা
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৫)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (৩)
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












