হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৪)
, ১৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
২) হালাল হারাম নিয়ে কথা:
২ (গ) হালাল-হারামের বিষয়টি বুঝতে হলে কয়েকটি মৌলিক নীতি আমাদের জানতে হবে:
হালাল: যা সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী পালন করা, খাওয়া বা ব্যবহার করা সমর্থিত।
হারাম: যা সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী পালন করা, খাওয়া বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এর সাথে জড়িত হলে মানুষ আখিরাতে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত হবে।
মাকরূহ: মাকরূহ দুই প্রকার। (ক). মাকরূহে তাহরীমী এবং (খ). মাকরূহে তানজিহী। যা মাকরূহ তাহরীমী, তা আসলে হারাম বা হারামের কাছাকাছি; ফলে সেটাও পরিত্যাজ্য।
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কিছু নীতিমালা বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে হালাল-হারামকে চিহ্নিত করা সহজ।
(১) নির্দিষ্টভাবে যা হারাম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলো বাদে সব হালাল।
(২) হালালের বিরোধিতা করা এবং হারামের প্রচার করা কুফরী।
(৩) হারাম সবসময় মন্দ এবং ক্ষতিকর বিষয়ের সাথে জড়িত।
(৪) হারাম পরিহার করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক উত্তম জিনিস দিয়ে হালালের ব্যবস্থা রেখেছেন।
(৫) যা হারামের দিকে ধাবিত করে তাও হারাম।
(৬) যা প্রকাশ্য হারাম তাকে হালাল বলাও হারাম।
(৭) ভালো নিয়ত থাকলেই হারাম বিষয় হালাল হয়ে যায় না।
(৮) যা হালাল ও হারামের মাঝামাঝি বা সন্দেহজনক সেখান থেকে বেঁচে থাকা হচ্ছে তাকওয়া।
(৯) উপায়ন্তর না থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কোনো কোনো হারাম বিষয় অবলম্বন মুবাহ। (কিন্তু হারাম তাতে হারামই থাকে, হালাল হয়ে যায় না; কেবল সেই নির্দিষ্ট মানুষের জন্য সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা ব্যবহারযোগ্য হয়।)
(১০) হালাল এবং হারাম ঘোষণা করার মালিক কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা যা সম্মানিত শরীয়তে ব্যাখ্যা করেছেন। সম্মানিত উলিল আমরগণ উনারা কেবলমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস উনাদের মাধ্যমে হালাল ও হারামের বিষয়টি সহজে পালনের জন্য স্পষ্ট করে থাকেন। কারো পক্ষেই হারামকে হালাল বলা আর হালালকে হারাম বলা সম্ভব নয়।
২ (ঘ) নির্দিষ্টভাবে যা হারাম করা হয়েছে সেগুলো বাদে সব হালাল:
সাধারণ মানুষ এ বিষয়টি ভালভাবেই বোঝে যেমন শূকর হারাম, শরাব হারাম ইত্যাদি কারণ এর বর্ণনা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে এসেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যা কঠিন হয়ে পড়েছে তা হচ্ছে প্রকাশ্যে শুকর নেই অথচ তার উপাদান মিশ্রিত থাকে যেমন এক ধরনের রেডিমিক্স স্যুপের মধ্যে, কাপ নুডুলসে থাকে পোরক (Pork) পাউডার। কেউ হয়তো এ নিয়ে চিন্তাই করবে না স্যুপের মধ্যে বা কাপ নুডুলসে কি করে আবার শূকরের গোস্তের পাউডার থাকবে। বাস্তবে থাকে (সবগুলোতে নয়) অবশ্য এ ধরণের প্রোডাক্ট পাশ্চাত্যেই বেশী দেখা যায়। আবার শরাব হচ্ছে ইথাইল এলকোহল কিন্তু অনেক সময় থাকে সুগার এলকোহল। ইথাইল এলকোহল হারাম হলেও সুগার এলকোহল নয়।
আবার কিছু কিছু উপাদান চেনা বেশ কঠিন। যেমন অনেক চকলেটের উপর এক ধরনের চকচকে ভাব আনতে ব্যবহার করা হয় সেলাক (Shellac) সেগুলো সংগ্রহ করা হয় পোকার নিঃসরণ থেকে।
Cochineal (কোড ই-১২০) নামে একটি পোকা পাওয়া যায় যা স্কেল ইন্সেক্ট এর অন্তর্ভুক্ত যেখান থেকে প্রাকৃতিক কারমিন রং প্রস্তুত করা হয়। এই পোকাটি ক্যাক্টাস প্রজাতির মধ্যে বাস করে। পোকাটি ক্যারামিনিক এসিড তৈরি করে যা তার শরীর এবং ডিম থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং পরে এলুমিনিয়াম ও ক্যালসিয়াম সল্টের সাথে মিশিয়ে রং তৈরি করা হয়। বর্তমানে কারমিন (লাল রং) খাবার ও লিপস্টিকে ব্যবহার করা হয়। এটি লাল কালার যা উল কাপড় রং করতে, জ্যাম, জেলিতে, বেকারী বিস্কিটেও ব্যবহার করা হয়। ফলে আমাদের সব কিছুর গভীরে যেয়ে দেখতে হবে আসলে কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম। তবে অবশ্যই তা সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে যা মনগড়া নয়। (চলবে)
-ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












