হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত জযবার একটি ঘটনা
, ২রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি।
হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, পবিত্র খন্দকের জিহাদের দিনে আমরা কাতারবন্দী হয়ে বসেছিলাম। আমাদের শত্রু পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কাফির-মুশরিকগং তাদের দল-বলসহ একদিকে ছিলো, বিপরীত দিকে ছিলো পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বনী কুরায়জা গোত্রের ইহুদীগং। তাদের দ্বারা আমাদের আহাল-পরিজনের আক্রান্ত হবার প্রবল আশঙ্কা ছিলো। আর সে রাতের মত এমন রাতও আমি কখনো দেখিনি। ভীষণ অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিলো সে রাত। ক্ষণে ক্ষণে বাতাসের ঝাপটা আসছিলো প্রবল বেগে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো এবং বজ্র গর্জন হচ্ছিলো। এমন অন্ধকার যে নিজের আঙ্গুলটি পর্যন্ত লোকজন দেখতে পারছিলো না। নিজ নিজ ঘর-বাড়ী অরক্ষিত থাকার ছুতা-নাতায় মুনাফিকরা সটকে পড়েছিলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘুরে ঘুরে পর্যায়ক্রমে আমাদের একেকজনের দিকে তাশরীফ মুবারক নিচ্ছিলেন। আমাদের সংখ্যা ছিলো প্রায় তিন শতের মত। তিনি একসময় আমার পাশ অতিক্রম করছিলেন। এসময় আমার কাছে একটি ঢাল পর্যন্ত ছিলো না। আমার শরীরে একটি চাদর বৈ কিছুই ছিলো না। সেটি দিয়ে আমার আপাদমস্তক ঢাকাও যাচ্ছিলো না। আমি হাটু গুটিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসেছিলাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এখানে? আমি খিদমত মুবারকে আমার পরিচয় পেশ করলাম এবং অত্যন্ত তাযীম-তাকরীমের সাথে দাড়িয়ে গেলাম। তিনি বললেন “কাফির-মুশরিকদের সংবাদ নিতে হবে। তারা কি শলা-পরামর্শ করছে তাও জেনে আসতে হবে।”
হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, সবার মধ্যে আমি একমাত্র নিজেকেই অত্যন্ত দুর্বল মনে করতাম। এছাড়া সে রাতে ছিলো প্রচ- শীত যা রীতিমত অসহনীয়। এরপরও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারকের সাথে সাথেই আমি রওয়ানা দিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বলে আমার জন্য দোয়া মুবারক করলেন, “আয় আল্লাহ পাক! ডান-বাম, সম্মুখ-পশ্চাত, উপর-নিচ সর্বদিক হতেই আপনি হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হিফাযত করুন।” শুধু এতটুকুই! এতেই আমার ভয়-ভীতি, শীত-জড়তা সব কিছু যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। সে সবের লেশমাত্রও যেন আমার মধ্যে কখনো ছিলো না। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতে গোয়েন্দা কৌশল অবলম্বন করা উপরোক্ত ঘটনা থেকেও প্রমাণিত হয়। এছাড়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ মুবারক বিনা চু-চেরা, কিল-কালে মেনে নিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের অন্তরে যে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না- তারই ঈমানদীপ্ত অনন্য প্রমাণ মুবারক রাখলেন হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি যথাযথভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী মুশরিক বাহিনীর মধ্যে ঢুকে গোয়েন্দা সেজে সকল খবরা-খবর সংগ্রহ করেছিলেন; যদিও বাহ্যিক দৃষ্টি থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি ঊনার প্রতিকূলে ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরিসীম মুহব্বত এবং ঊনার আনুগত্যের প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকার ঈমানদীপ্ত মনোভাবের কারণেই সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই উনার জন্য অনুকূল হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












