কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত, মাহতাবে তরীকত, মাহিউল বিদয়াহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা, তাজুল মুফাসসিরীন, সুলতানুল আরিফীন,
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০ম পর্ব)
, ০৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ওয়াজ নছীহত:
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বিভিন্ন সময় অনেক সূক্ষ¥ বিষয়ে আলোচনা করতেন। যেমন একবার তিনি উল্লেখ করেন- পবিত্র হাদীছ শরীফে এসেছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই মর্মে ইরশাদ মুবারক করেন- “তিনটি জিনিষ আমার নিকট প্রিয় করা হয়েছে- “স্ত্রীলোক, সুগন্ধী এবং নামাযের মধ্যে চোখের শীতলতা।”
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যা এভাবে করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে পবিত্র ওহী মুবারক আসার কারণে শারীরিক বিশেষ শান মুবারক জাহির হতেন।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, শীতের দিনে পবিত্র ওহী মুবারক আসতে থাকলে উনার নূরুত ত্বীব (ঘাম) মুবারক নির্গত হতো, কোন বাহনে থাকা অবস্থায় ওহী মুবারক নাযিল হতে থাকলে বাহন বসে যেতো, এ অবস্থায় কোন লোকের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল খুদ্বূ’ মুবারক অর্থাৎ হাঁটু মুবারক লাগা থাকলে পবিত্র ওহী মুবারক উনার প্রভাব সে লোকের শরীরেও প্রচন্ডভাবে অনুভূত হতো। এই অবস্থায় যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সঙ্গে সাক্ষাত মুবারক করতেন এবং ইতমিনান বোধ করতেন।
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা অনুযায়ী ‘নামায মু’মিনের মি’রাজ শরীফ। পবিত্র মি’রাজ শরীফে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক লাভ করেছেন। সরাসরি নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক চক্ষু মুবারক দিয়ে দেখেছেন। সুগন্ধির দ্বারা আধ্যাত্মিক আকর্ষণ বাড়ে। কাজেই সুগন্ধি মেখে তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন মি’রাজ শরীফ উনার শান মুবারক জাহির হতেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক উনার কারণে উনার চক্ষু মুবারক শীতল হতো অর্থাৎ তিনি ইতমিনান বা আরাম বোধ করতেন। সুবহানাল্লাহ!
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি অন্য এক সময় বলেন, কারো কারো মতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নবুয়তের পূর্বে সত্য স্বপ্নের ধারাবাহিকতা একাধিক্রমে ৬ মাস অবধি হয়েছিলো।
এই প্রসঙ্গে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সত্য স্বপ্ন নবুয়তের ছিচল্লিশ অংশের এক অংশ। (বুখারী শরীফ)
কোন কোন আলিম উনার ব্যাখ্যায় বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নবুয়ত মুবারকের সময়কাল ছিলো ২৩ বৎসর। উনার নবুয়ত-পূর্ব সত্য স্বপ্নের ধারাবাহিকতা ছিলো ৬ মাস। সেই হিসাবে সত্য স্বপ্ন নবুয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যাত্রাবাড়ী খানকা শরীফ মসজিদে প্রতি জুমুয়াবারে জুমুয়ার খুতবা দেওয়ার পূর্বে বসে খুতবা উনার বিষয় বস্তুর উপরে আলোচনা মুবারক করতেন।
তাছাড়া সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার খানকা শরীফে মুরীদগণ সমবেত হলে বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াজ নছীহত, আলাপ আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় রাজনৈতিক বিষয়েও আলোচনা করতেন। রাজনৈতিক বিষয়সমূহেও উনার গভীর জ্ঞান ছিলো।
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলতেন, কেবল চালাক চতুর হলেই টাকা পয়সা, রিযিক দওলত হাছিল করা যায় না, ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার দান। এ ব্যাপারে তিনি একটি লোকের উদাহরণ দিতেন। লোহার পুলের নিকটে কোন এক ধনী লোক এতই অশিক্ষিত এবং কম জ্ঞানের লোক ছিলো যে, বাতাসকে বাসাত বলতো। আর নিজের টাকা পয়সার গণনা সঠিকভাবে জানতো না। কিন্তু সে অগণিত টাকা পয়সার মালিক হয়েছিলো। তার কর্মচারীরাই টাকা পয়সার হিসাব কিতাব করতো। তাই তিনি বলতেন “আল্লাহ জিছকো চাহতা হ্যায়, ছপ্পর ফাড়কে দেতা হ্যায়”। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে চান, তাকে ছপ্পর ফেড়ে হলেও দেন। সুবহানাল্লাহ!
-আলহাজ্জ ছূফী সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৪ পর্ব)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করার অপরিসীম ফযীলত
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (৩)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (২)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সেদিন আমার ক্বইয়ূমিয়াতের হাল এমনভাবে প্রবল হয়েছিল যে, আমি যদি আসমানকে যমীন এবং যমীনকে আসমান হতে বলতাম তাহলে তাই হতো।” সুবহানাল্লাহ!
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












