সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে খেলা হারাম হওয়া সম্পর্কিত দলীল (২)
, ০২ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফিক্বহে হানাফীর মশহূর কিতাব ‘বাদায়িউছ ছনায়িয়ী’তে উল্লেখ রয়েছে-
وَاللَّعِبُ حَرَامٌ فِي الْأَصْلِ إلَّا أَنَّ اللَّعِبَ بِهَذِهِ الْأَشْيَاءِ صَارَ مُسْتَثْنًى مِن التَّحْرِيمِ شَرْعًا لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ { كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ إلَّا مُلَاعَبَةَ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَقَوْسَهُ وَفَرَسَهُ}
অর্থ: মূলত সকল খেলাধুলাই হারাম। তবে শরীয়তগতভাবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে লায়িব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা মূলত খেলা নয় তা বৈধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দলীল হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ إلَّا مُلَاعَبَةَ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَقَوْسَهُ وَفَرَسَهُ
‘সব ধরনের খেলাই হারাম। তবে পুরুষের জন্য তার আহলিয়ার সাথে হাসি-খুশি করা, ধনুক বা তিরন্দাজি করা এবং অশ্ব বা ঘোড়চালনা করা এই তিনটি ব্যতীত।’ (বাদায়িউছ ছনায়িয়ী ১৪/৯৪)
তাই পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ব্যতীত সমস্ত খেলাকেই ইসলামে হারাম করা হয়েছে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফে যে বিষয়গুলোর বৈধতা দেয়া হয়েছে তা মূলত খেলা নয়। এসব হক্ব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বলেছেন-
مَا خَلَقْنَاهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
অর্থ: আমি এগুলো যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না। (পবিত্র সূরা দুখান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৯)
এখানে যে বলা হচ্ছে- (مَا خَلَقْنَاهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ) আমি এগুলো অর্থাৎ আসমান-যমীন এবং এর মধ্যকার সমস্ত কিছু যথাযথভাবে হক্ব উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি।
এর ব্যাখ্যা উপরে উল্লেখিত হাদীছ শরীফেই বলা হয়েছে- (فَإِنَّهُنَّ مِنَ الْحَقِّ) এগুলো অর্থাৎ ধনুক দ্বারা তীর নিক্ষেপ করা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আহলিয়া বা স্ত্রীর সঙ্গে শরীয়ত সম্মত আনন্দ বা হাসি-খুশি করা। এসব হক্ব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এসবের মধ্যে নেকী রয়েছে। কিন্তু খেলার মধ্যে কোনো প্রকার নেকী নেই। তাই এসব বাতিল বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই যারা (লায়িব) শব্দ দেখেই হাদীছ শরীফে বর্ণিত বৈধ বিষয়কে খেলা বলে প্রচার করে তাদের দাবীটি সঠিক নয়। মূল কথা হলো, ইসলামী শরীয়তে সমস্ত প্রকার খেলাকেই হারাম করা হয়েছে। বিভিন্ন শর্ত-শারায়েত দিয়ে খেলাকে বৈধ করার কোনো সুযোগ নেই।
আর বর্তমানে প্রচলিত বিশ্বকাপ সেটা ফুটবল-ক্রিকেট হোক বা অন্য কোনো খেলাই হোক এগুলো আরো কঠোরভাবে হারাম। ক্ষেত্র বিশেষ কুফরীও।
কারণ একটি খেলাকে উপলক্ষ্য করে কোটি কোটি হারাম কাজের অয়োজন করা হয় এসব বিশ্বকাপে। মদ-জুয়া, ব্যভিচার, অপচয় এমন কোনো হারাম কাজ নেই যা একটি বিশ্বকাপ খেলাকে উপলক্ষ করে করা হয় না। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই কোনো মুসলমানের জন্য এসব খেলা দেখা, উপভোগ করা, খুশি প্রকাশ করা কোনোটাই জায়িয নেই।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মুসলমানদেরকে খেলা নামক হারাম কাজ থেকে হিফাযত করুন। আমীন!
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ঈমানদারদের প্রথম ও বড় শত্রু হলো ইবলিস
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০ম পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৩)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইবলিসের পরে দ্বিতীয় উলামায়ে সূ হলো বালয়াম বিন বাউরা
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












